সাইবার হামলার নতুন কৌশল! এবার হ্যাকারদের নিশানায় ইউরোপের সুপারমার্কেটের ফ্রিজ এবং ফ্রিজার। ইন্টারনেটের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে দোকানের শীতলীকরণ ব্যবস্থা। বদলে দেওয়া হচ্ছে ফ্রিজের তাপমাত্রা। কোথাও কোথাও তা পৌঁছে যাচ্ছে ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। ফলে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে মাছ, মাংস, দুধ, পনির-সহ বিভিন্ন পচনশীল খাবার। শুধু একটি দেশ নয়, ইউরোপের অন্তত ছয়টি দেশে এই সাইবার হামলার প্রভাব পড়েছে। আয়ারল্যান্ড, সুইডেন, বেলজিয়াম, লুক্সেমবার্গ, এস্তোনিয়া এবং ফিনল্যান্ডের একাধিক সুপারমার্কেটে এই সমস্যা দেখা দিয়েছে। ঘটনায় উদ্বেগ ছড়িয়েছে ইউরোপের খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থা এবং সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে।

হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সোমবার, ২ নভেম্বর সকালে বিভিন্ন সুপারমার্কেট কর্তৃপক্ষ তাদের শীতলীকরণ ব্যবস্থায় অস্বাভাবিকতা লক্ষ্য করে। তদন্তে জানা যায়, কয়েকটি দোকানের ফ্রিজ এবং ফ্রিজারের তাপমাত্রা রাতারাতি বেড়ে গিয়েছে। কোথাও আবার শীতলীকরণ ব্যবস্থা পুরোপুরি কাজ করা বন্ধ করে দিয়েছে। সুইডেনের একটি সুপারমার্কেটে পরিস্থিতি ছিল সবচেয়ে ভয়াবহ। সেখানে ফ্রিজারের তাপমাত্রা পৌঁছে যায় ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে।
সুইডেন থেকে আয়ারল্যান্ড, ক্ষতিগ্রস্ত একাধিক বিপণি
সুইডেনের আইসিএ এবং কোপ সুপারমার্কেট কর্তৃপক্ষ তাদের একাধিক দোকানে সমস্যার কথা স্বীকার করেছে। কোপের অন্তত ছ'টি দোকানের শীতলীকরণ ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অন্য দিকে, স্টকহোমের আইসিএ-র একটি দোকানে ফ্রিজারের তাপমাত্রা ৫০ ডিগ্রিতে পৌঁছে যায়। দোকানের বিক্রয় বিভাগের দায়িত্বে থাকা এঙ্গলা ইংওয়ালের দাবি, রাত ২টো নাগাদ হামলা হয়েছিল। কিন্তু ভোর সাড়ে ৫টার আগে বিষয়টি নজরে আসেনি। ততক্ষণে ফ্রিজারে রাখা সমস্ত খাবার নষ্ট হয়ে গিয়েছে।
আয়ারল্যান্ডের অন্যতম বড় সুপারমার্কেট সংস্থা সুপারভ্যালুর ২২৩টি দোকানের মধ্যে ১৩টিতে এই সমস্যা দেখা দিয়েছে। সংস্থার মালিক মুসগ্রেভ জানিয়েছে, নির্দিষ্ট একটি মডেলের শীতলীকরণ যন্ত্রে সমস্যা হয়েছে। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে দোকান থেকে সমস্ত ঠান্ডা ও হিমায়িত খাবার সরিয়ে ফেলা হয়েছে।
{{/usCountry}}আয়ারল্যান্ডের অন্যতম বড় সুপারমার্কেট সংস্থা সুপারভ্যালুর ২২৩টি দোকানের মধ্যে ১৩টিতে এই সমস্যা দেখা দিয়েছে। সংস্থার মালিক মুসগ্রেভ জানিয়েছে, নির্দিষ্ট একটি মডেলের শীতলীকরণ যন্ত্রে সমস্যা হয়েছে। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে দোকান থেকে সমস্ত ঠান্ডা ও হিমায়িত খাবার সরিয়ে ফেলা হয়েছে।
{{/usCountry}}বেলজিয়ামেও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। ক্যারিফোরের ৭০০টি দোকানের মধ্যে ১৫টিতে হামলার কথা স্বীকার করেছে কর্তৃপক্ষ। কোলরুইট গোষ্ঠীর অধীন পাঁচটি স্পার দোকানেও সমস্যা হয়েছে। পাশাপাশি বেলজিয়াম ও লুক্সেমবার্গে অহোল্ড ডেলহাইজের বেশ কয়েকটি বিপণি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এস্তোনিয়ায় অন্তত একটি সুপারমার্কেটের শীতলীকরণ ব্যবস্থা হ্যাকারদের নিশানায় পড়েছে। ফিনল্যান্ডের কেস্কো গোষ্ঠীর কয়েকটি ছোট দোকানেও তাপমাত্রার অস্বাভাবিক পরিবর্তন ধরা পড়েছে। সেখানে নেটওয়ার্কের মাধ্যমে হস্তক্ষেপ করা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
কী ভাবে কাজ করছে হ্যাকাররা?
বেলজিয়ামের শীতলীকরণ যন্ত্র প্রস্তুতকারী সংস্থা সাবকোবেলের প্রধান স্টিফান মোয়েলান্স জানিয়েছেন, হ্যাকাররা ফ্রিজের বাষ্পীভবন যন্ত্রগুলিকে ডিফ্রস্ট মোডে চালু করে দিয়েছিল। সাধারণত ফ্রিজের ভিতরে জমে থাকা বরফ গলানোর জন্য এই ব্যবস্থা ব্যবহার করা হয়। কিন্তু একটানা এই পদ্ধতি চালু থাকায় ফ্রিজের তাপমাত্রা দ্রুত বেড়ে যায়। ফলে সংরক্ষিত খাবার নষ্ট হয়ে যায়।
সাইবার নিরাপত্তা সংস্থা সেনটিনেলওয়ানের গবেষক টম হেগেলের মতে, সুপারমার্কেটগুলি হ্যাকারদের সহজ নিশানা হতে পারে। কারণ, বড় বিপণি সংস্থাগুলির ফ্রিজ, দরজার নিরাপত্তা ব্যবস্থা, ভবন পরিচালনা এবং পেমেন্ট সিস্টেম-সহ বহু যন্ত্র একই প্রযুক্তিগত নেটওয়ার্কের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হয়।
ফ্রান্সেও হয়েছিল একই ধরনের হামলা
এই প্রথম নয়। এর আগে গত ১২ অক্টোবর ফ্রান্সের প্রায় ৭০০টি সুপারমার্কেটের শীতলীকরণ ব্যবস্থায় একই ধরনের সাইবার হামলার অভিযোগ উঠেছিল। কিছু ক্ষেত্রে ফ্রিজের তাপমাত্রা মাইনাস ২৭ ডিগ্রি থেকে বেড়ে ৫০ ডিগ্রির বেশি হয়ে যায়। বিপুল পরিমাণ খাবার ফেলে দিতে বাধ্য হন দোকান কর্তৃপক্ষ। কয়েকটি জায়গায় যন্ত্র অতিরিক্ত গরম হয়ে আগুন লাগার ঘটনাও ঘটে।
এখনও পর্যন্ত কোনও হ্যাকার গোষ্ঠী এই হামলার দায় স্বীকার করেনি। হামলাগুলির পিছনে একই গোষ্ঠী রয়েছে কি না, তা-ও নিশ্চিত নয়। ইউরোপীয় কমিশনের তরফে এই ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। তাদের বক্তব্য, সাইবার হামলার ফলে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন এবং খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থা সরাসরি প্রভাবিত হতে পারে। ফলে ইউরোপের দেশগুলিতে সাইবার নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তা নতুন করে সামনে এসেছে।