আন্তর্জাতিক মঞ্চে ফের দাউদ ইব্রাহিমকে ঘিরে সংঘাত ভারতের। আন্ডারওয়ার্ল্ড ডন দাউদকে ‘ভারতভিত্তিক’ অপরাধী সংগঠন ডি-কোম্পানির প্রধান বলে উল্লেখ করা হয়েছে রাষ্ট্রসংঘের এক বিশেষজ্ঞের রিপোর্টে। সেই মন্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করেছে নয়াদিল্লি। ভারতের বক্তব্য, দাউদ দীর্ঘদিন আগেই ভারত ছেড়ে পালিয়েছেন। এখন তিনি পাকিস্তানে রয়েছেন বলে রাষ্ট্রসংঘের নিষেধাজ্ঞার তালিকাতেও উল্লেখ রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ডি-কোম্পানিকে ‘ভারতভিত্তিক’ বলে চিহ্নিত করায় রিপোর্টের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে ভারত।
কী নিয়ে আপত্তি ভারতের?

রাষ্ট্রসংঘের সন্ত্রাসবাদ দমন সংক্রান্ত বিশেষ প্রতিনিধি বেন সাউলের একটি রিপোর্টকে কেন্দ্র করে এই বিতর্ক। সেখানে দাউদ ইব্রাহিমকে ডি-কোম্পানির প্রধান হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে। সংগঠনটির সঙ্গে সন্ত্রাসবাদের যোগ রয়েছে বলেও রিপোর্টে বলা হয়েছে। কিন্তু ডি-কোম্পানিকে ‘ভারতভিত্তিক’ বলে উল্লেখ করার বিষয়টি মানতে নারাজ ভারত।
রাষ্ট্রসংঘে ভারতের স্থায়ী মিশনের প্রথম সচিব রঘু পুরী এই নিয়ে আপত্তি জানান। তাঁর বক্তব্য, তথ্যগত ভুল রয়েছে এমন রিপোর্ট প্রকাশ করে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞেরা যদি দায় এড়িয়ে যান, তা হলে রাষ্ট্রসংঘের বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। আন্তর্জাতিক সংস্থার রিপোর্টে তথ্য যাচাই এবং নিরপেক্ষতা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি বলেও জানিয়েছেন তিনি।
ভারতের দাবি, দাউদকে নিয়ে রিপোর্টে তাঁর অতীত এবং বর্তমান অবস্থানের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য যথাযথ ভাবে তুলে ধরা হয়নি। ফলে রিপোর্টটি পড়লে বিষয়টির প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হয় না।
১৯৯৩ সাল থেকেই ভারতের নজরে দাউদ
ভারতের বক্তব্য, ২০০৩ সালে রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ ডি-কোম্পানির প্রধানকে আল কায়দার সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগে তালিকাভুক্ত করেছিল। কিন্তু তার বহু আগে থেকেই দাউদ ভারতের কাছে এক জন wanted criminal বা ফেরার অভিযুক্ত। ১৯৯৩ সালের সন্ত্রাসবাদী হামলার ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে ভারতের খোঁজ চলছিল বলে রাষ্ট্রসংঘে মনে করিয়ে দিয়েছেন রঘু পুরী।
{{/usCountry}}ভারতের বক্তব্য, ২০০৩ সালে রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ ডি-কোম্পানির প্রধানকে আল কায়দার সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগে তালিকাভুক্ত করেছিল। কিন্তু তার বহু আগে থেকেই দাউদ ভারতের কাছে এক জন wanted criminal বা ফেরার অভিযুক্ত। ১৯৯৩ সালের সন্ত্রাসবাদী হামলার ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে ভারতের খোঁজ চলছিল বলে রাষ্ট্রসংঘে মনে করিয়ে দিয়েছেন রঘু পুরী।
{{/usCountry}}ভারতের দাবি, দাউদ ২০০৩ সালের তালিকাভুক্তির অনেক আগেই দেশ ছেড়ে পালিয়েছিলেন। দেশের বাইরে থেকেই আল কায়দা এবং ওসামা বিন লাদেনের সঙ্গে তাঁর যোগের অভিযোগ সামনে আসে। রাষ্ট্রসংঘের ১২৬৭ নিষেধাজ্ঞা ব্যবস্থার তালিকায় দাউদ সম্পর্কে যে তথ্য রয়েছে, সেখানেও তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগের উল্লেখ আছে বলে জানিয়েছে নয়াদিল্লি।
রঘু পুরীর বক্তব্য, এই প্রেক্ষাপট বাদ দিয়ে শুধু ২০০৩ সালে তালিকাভুক্তির কথা উল্লেখ করলে বিষয়টি সম্পর্কে ভুল ধারণা তৈরি হতে পারে। তাঁর দাবি, দাউদ এখনও ভারতের কাছে পলাতক অপরাধী। রাষ্ট্রসংঘের তালিকা অনুযায়ী তিনি পাকিস্তানে রয়েছেন। সেই দেশেই এক সময়ে ওসামা বিন লাদেনকে খুঁজে পেয়েছিল আমেরিকা। পরে অভিযানে তাঁকে হত্যা করা হয়।
মানবাধিকার প্রসঙ্গেও ভারতের আপত্তি
এই বিতর্কে সন্ত্রাসবাদ এবং মানবাধিকারের সম্পর্ক নিয়েও বক্তব্য রেখেছে ভারত। রঘু পুরীর দাবি, সন্ত্রাসবাদে মদতদাতারা নিজেদের কাজের সাফাই দিতে মানবাধিকারের যুক্তি ব্যবহার করতে পারেন না। চরমপন্থা ছড়ানো এবং সন্ত্রাসবাদে জড়িতদের আড়াল করার হাতিয়ার হতে পারে না মানবাধিকার কাঠামো। কোনও পরিস্থিতিতেই সন্ত্রাসবাদকে সমর্থন করা যায় না বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
রাষ্ট্রসংঘের মঞ্চে পাকিস্তানের মন্তব্যেরও জবাব দিয়েছে ভারত। জম্মু ও কাশ্মীর এবং লাদাখ ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ বলে ফের জানিয়ে দিয়েছে নয়াদিল্লি। পাকিস্তানের বক্তব্যকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচার বলে দাবি করেছে ভারত।
সব মিলিয়ে, দাউদ ইব্রাহিমকে নিয়ে রাষ্ট্রসংঘের রিপোর্টের একটি শব্দবন্ধই নতুন কূটনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। ভারতের বক্তব্য, সন্ত্রাসবাদে অভিযুক্ত এক পলাতক অপরাধীর অবস্থান সম্পর্কে তথ্য স্পষ্ট থাকা জরুরি। এখন রিপোর্টের প্রণেতা বেন সাউল এই আপত্তির বিষয়ে কী প্রতিক্রিয়া জানান, সেদিকেই নজর থাকবে।