২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে স্বপ্নের জয় ঘরে এনেছে স্পেন। আর্জেন্টিনার মতো ‘ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন’দের হারিয়ে ট্রফি হাতে তুলে নেয় ইউরোপের এই দেশ। আর এই জয় তারা পেয়েছে মার্কিন মুলুকের মাটিতে। যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কিছুদিন আগেই তাঁর দেশের ন্যাটো-সঙ্গী স্পেনকে ঘিরে নেতিবাচক মন্তব্যে সরব হয়েছিলেন, সেই ট্রাম্পকেই বিশ্বকাপ ২০২৬র ট্রফি তুলে দিতে হয় বিজয়ী টিম স্পেনের হাতে। ঠিক কী বলেছিলেন ট্রাম্প?
ইরান যুদ্ধের মাঝেই বিভিন্ন ন্যাটোভূক্ত দেশগুলিকে নিয়ে নানান মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।সদ্য তিনি স্পেনকে নিয়ে মন্তব্য করেন। ট্রাম্প তার ন্যাটো-সঙ্গী স্পেনকে নিয়ে বলেছিলেন, ‘ স্পেনের সাথে আর কোনও লাভ নেই। প্রসঙ্গত, আমরা স্পেনের সাথে আর কোনো বাণিজ্য করতে চাই না। আমি এই সম্পর্ক ছিন্ন করতে চাই।' মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন,' ন্যাটোতে স্পেন একটি অত্যন্ত বাজে সহযোগী। দয়া করে স্পেনের সাথে সমস্ত বাণিজ্য বন্ধ করুন, এমনকি পারস্পরিক সফরও। আমরা তাদের সাথে কোনও সম্পর্ক রাখতে চাই না। তারা একেবারেই আশাহীন। ওরা বাজে লোক।’ এই মন্তব্যগুলো একটি কূটনৈতিক বিতর্কের জন্ম দেয়। স্প্যানিশ অফিসাররা সেই সমালোচনা প্রত্যাখ্যান করেন এবং ন্যাটোতে দেশটির ভূমিকা ও ওয়াশিংটনের সাথে সেদেশের সম্পর্কের পক্ষে অবস্থান নেন। ট্রাম্পের বার্তা স্পেন যে ভালোভাবে নেয়নি, তা স্পষ্ট ছিল।
উত্তেজনা সত্ত্বেও ট্রাম্প বিশ্বকাপ ফাইনালের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, সেখানে আর্জেন্টিনা ১-০ ব্যবধানে পরাজিত হলে স্পেন তাদের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ শিরোপা জয় করে। নিউ জার্সিতে অনুষ্ঠিত এই ফাইনালে ফেরান তোরেস অতিরিক্ত সময়ে জয়সূচক গোলটি করেন। যে দেশ নিয়ে কিছুদিন আগে ট্রাম্প অত্যন্ত নেতিবাচক বক্তব্য রেখেছিলেন,সেই দেশের বিশ্বজয়ী ফুটবল টিমের হাতে কাপ তুলে দেন ট্রাম্প, অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, তাহলে কি মার্কিন প্রেসিডেন্টের মন্তব্যের পর, স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ই ছিল বদলা সূচক জবাব! জল্পনা, প্রশ্ন থেকেই যাবে। প্রসঙ্গত, ট্রাম্প যখন স্পেনের ক্যাপ্টেন রড্রির হাতে কাপ তুলে দিচ্ছেন, তখন মঞ্চে কাছেই দাঁড়িয়েছিলেন স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ, সেই দৃশ্যও ট্রাম্পের মন্তব্যের প্রেক্ষিতে প্রতীকী বলে মনে করছেন অনেকে।