ইদের আনন্দ শেষ হতেই নেমে এল শোকের ছায়া। বুধবার বিকেলে বাংলাদেশের রাজবাড়ী জেলার দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে ৩ নম্বর পন্টুন থেকে সরাসরি পদ্মা নদীতে পড়ে যায় যাত্রীবোঝাই একটি দূরপাল্লার বাস। দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে বাসডুবির ঘটনায় এখন পর্যন্ত মোট ২৩ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া সেলের তরফে জানানো হয়েছে, গতকাল রাতেই ১৮ জনের দেহ উদ্ধার হয়েছিল। পরে আরও পাঁচ জনের দেহ উদ্ধার হয়েছে। মৃতদের মধ্যে মহিলা এবং শিশুও আছে। এখনও অনেকে নিখোঁজ রয়েছে। উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রেখেছে বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী।

জানা গিয়েছে, বুধবার বিকেল ৫টা ১৫ নাগাদ ঢাকাগামী একটি যাত্রীবাহী বাস দাঁড়িয়েছিল দৌলতদিয়া ফেরি ঘাটের তিন নম্বর ঘাটে। প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই বাসে মহিলা ও শিশু-সহ কমপক্ষে ৫০ জন যাত্রী ছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ‘সৌহার্দ্য পরিবহন’-এর বাসটি পন্টুন থেকে হেলেদুলে ফেরিতে ওঠার সময়ে চালক নিয়ন্ত্রণ হারান। বাসটি ফেরিতে না উঠে সটান নদীতে ঝাঁপ দেয়। দুর্ঘটনার পর হইচই পড়ে যায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ, দমকল এবং উদ্ধারকারী দল। নামানো হয় ডুবুরি। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় শুরু হয় উদ্ধারকাজ। তবে বৃষ্টির জন্য বার বার উদ্ধারের কাজে ব্যাঘাত ঘটতে থাকে। দমকল কর্মীরা জানান, বাসটি যেখানে পড়ে সেখানে নদীর গভীরতা খুবই বেশি। উদ্ধারকারী জাহাজ হামজা-ও রাতে পৌঁছে কাজ শুরু করে। দুর্ঘটনার প্রায় ছয় ঘণ্টা পর উদ্ধারকারী দল ডুবে যাওয়া বাসটিকে নদী থেকে টেনে তোলে । রাত সাড়ে ১১টা নাগাদ বাসের কিছু অংশ দেখা যায় ৷ এরপরই জাহাজের ক্রেন ব্যবহার করে বাসটিকে নদী থেকে উপরে তুলে আনা হয় ।
আগেই দু'জনের দেহ উদ্ধার হয়েছিল। বাসটি তোলার পরে আরও ১৬ জনের দেহ পাওয়া যায়। বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত আরও ৭ জনের দেহ উদ্ধার হয়। এখনও কয়েক জন নিখোঁজ। তাঁদের খোঁজে তল্লাশি অভিযান চলছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ আধিকারিক রাসেল মোল্লা জানান, এখনও পর্যন্ত ২৩টি মৃতদেহ নদী থেকে তোল সম্ভব হয়েছে। এখনও অনেকে নিখোঁজ। যদিও বেশ কয়েকজনকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা গিয়েছে। রাতে ঝড়বৃষ্টির কারণে উদ্ধারকাজ ব্যাহত হয়। সকাল হতেই ফের কাজে লেগে পড়েছেন বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর সদস্যরা। ডেইলি স্টারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে ১১ জন মহিলা, আটজন শিশু ও চারজন পুরুষ রয়েছেন।
কী কারণে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা?
{{/usCountry}}আগেই দু'জনের দেহ উদ্ধার হয়েছিল। বাসটি তোলার পরে আরও ১৬ জনের দেহ পাওয়া যায়। বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত আরও ৭ জনের দেহ উদ্ধার হয়। এখনও কয়েক জন নিখোঁজ। তাঁদের খোঁজে তল্লাশি অভিযান চলছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ আধিকারিক রাসেল মোল্লা জানান, এখনও পর্যন্ত ২৩টি মৃতদেহ নদী থেকে তোল সম্ভব হয়েছে। এখনও অনেকে নিখোঁজ। যদিও বেশ কয়েকজনকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা গিয়েছে। রাতে ঝড়বৃষ্টির কারণে উদ্ধারকাজ ব্যাহত হয়। সকাল হতেই ফের কাজে লেগে পড়েছেন বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর সদস্যরা। ডেইলি স্টারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে ১১ জন মহিলা, আটজন শিশু ও চারজন পুরুষ রয়েছেন।
কী কারণে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা?
{{/usCountry}}কুষ্টিয়া থেকে ইদ ফেরত যাত্রীদের নিয়ে ঢাকায় আসার পথে রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাটের ৩ নম্বর পন্টুন থেকে ফেরিতে ওঠার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মায় পড়ে যায় বাসটি। এদিকে, দুর্ঘটনার মুহূর্তের একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। যদিও ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা। বুধবার সন্ধ্যায় রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে পদ্মার তীরে কান্নার রোল ওঠে। প্রিয়জনদের ফিরে পাওয়ার আশায় সেখানে ভিড় জমান নিখোঁজদের আত্মীয়রা। ঢাকা ট্রিবিউন জানিয়েছে, উদ্ধারকারী দল যখন তল্লাশি চালাচ্ছিল, তখন নদীর পাড়ে শুধুই আর্তি আর অপেক্ষা। প্রাণে বেঁচে ফেরা এক যাত্রী জানান, তিনি কোনওক্রমে সাঁতরে তীরে ওঠেন। কিন্তু তাঁর চোখের সামনেই স্ত্রী আর সন্তানকে নিয়ে তলিয়ে যায় বাসটি।
রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলা থেকে বাসে ওঠা আব্দুল আজিজুলও সাঁতরে প্রাণে বেঁচেছেন। কিন্তু ঢাকা ট্রিবিউনকে তিনি জানিয়েছেন, তাঁর স্ত্রী ও সন্তান এখনও নিখোঁজ। স্থানীয় ও বেঁচে যাওয়া যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, বাসটি নদীতে পড়ার পরপরই জানালা দিয়ে ৫ থেকে ৭ জন যাত্রী বার হতে পেরেছিলেন। পরে আরও কয়েক জনকে সাঁতরে আসতে দেখা যায়। অন্যদিকে, ঘটনার কথা ইতিমধ্যেই জানতে পেরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি খোঁজখবর নিয়েছেন। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতেও বলেছেন। কী কারণে ওই দুর্ঘটনা ঘটে তার কারণ জানতে উচ্চ পর্যায়ের একটি তদন্ত কমিটি গঠন হচ্ছে বলে খবর। সেই কমিটিতে প্রশাসনের প্রতিনিধি থেকে বিআইডব্লিউটিএ, বিআইডব্লিউটিসি ও পুলিশের প্রতিনিধি থাকবেন বলে জানা যাচ্ছে।