...
...
Next Story

Delhi High Court: 'কী ভাবে বলতে পারেন প্রচার পাওয়ার...,’ কেন্দ্র-দিল্লি পুলিশকে নোটিস হাইকোর্টের

Delhi High Court: বুধবার মামলার শুনানিতে আবেদনকারীদের পক্ষের আইনজীবী এবং দিল্লি পুলিশ ও কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিনিধিত্বকারী অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল (এএসজি) এস রাজুর মধ্যে তীব্র বাদানুবাদ হয়।

Published on: Jul 22, 2026, 19:59:40 IST
Advertisement

Delhi High Court: ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র (সিজেপি) নেতৃত্বে ছাত্রদের আন্দোলনে পুলিশি ‘অত্যাচার’-এর অভিযোগ তুলে মামলা দায়ের হয়েছিল দিল্লি হাইকোর্টে। সেই মামলায় বুধবার কেন্দ্রীয় সরকার ও দিল্লি পুলিশকে নোটিস পাঠাল উচ্চ আদালত। সেই সঙ্গে ওই দিনের সিসিটিভি ফুটেজ-সহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ভিডিও ও নথি সংরক্ষণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কেন্দ্র-দিল্লি পুলিশকে নোটিস দিল্লি হাইকোর্টের (AFP)
কেন্দ্র-দিল্লি পুলিশকে নোটিস দিল্লি হাইকোর্টের (AFP)

বুধবার মামলার শুনানিতে আবেদনকারীদের পক্ষের আইনজীবী এবং দিল্লি পুলিশ ও কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিনিধিত্বকারী অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল (এএসজি) এস রাজুর মধ্যে তীব্র বাদানুবাদ হয়। আবেদনকারীদের আইনজীবীরা অভিযোগ করেন, নারীদের শ্লীলতাহানি করা হয়েছে এবং তাঁদের গোপনাঙ্গে আঘাত করা হয়েছে। আন্দোলনকারীদের নিয়ন্ত্রণে আনতে পেরেক-যুক্ত লাঠি ব্যবহার করা হয়েছে এবং পুলিশ কর্মীদের গায়ে কোনও ব্যাজ ছিল না। তাঁরা আরও জানান যে, এই সব দাবির সমর্থনে তাঁদের কাছে ১১০টি ভিডিও রয়েছে। অন্যদিকে, এই সমস্ত অভিযোগের বিরোধিতা করে অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল এস রাজু পাল্টা যুক্তি দেন যে, আন্দোলনকারীরা উচ্ছৃঙ্খল ছিল। সংসদ অভিযান আটকাতে গিয়ে পুলিশ কর্মীরা আহত হয়েছেন। তিনি আরও দাবি করেন যে, এই আবেদনগুলোর মূল উদ্দেশ্য হলো ‘আলোচনায় আসা’ এবং ‘প্রচার পাওয়া।’

এরপরেই দিল্লি হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি ডি কে উপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ পাল্টা জানতে চায়, ‘কী ভাবে আপনারা বলতে পারেন যে এটি প্রচার পাওয়ার উদ্দেশ্যে করা একটি আবেদন?’ শুনানির শুরুতেই আবেদনকারীদের পক্ষে বর্ষীয়ান আইনজীবী এন হরিহরণ এবং বিকাশ সিং আদালতকে জানান, শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ ও জমায়েত করা নাগরিকদের সাংবিধানিক অধিকার। তবে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশ মিছিল নিয়ন্ত্রণ করতে পারে—এ কথা তাঁরা স্বীকার করলেও, সেই নিয়ন্ত্রণের নামে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করা যায় না বলে তাঁরা দাবি করেন। হরিহরণ বেঞ্চকে বলেন, 'এরপর যা ঘটেছে তা কল্পনাতীত। চরম ও নজিরবিহীন বর্বরতামূলক বলপ্রয়োগ করা হয়েছে। আমি একবারের জন্যও বলছি না যে আন্দোলনের নিয়ন্ত্রণ বা তা সামলানোর অধিকার রাষ্ট্রের নেই... কিন্তু পুলিশ কর্মীদের দেখা গেছে মহিলাদের গোপনাঙ্গে আঘাত করতে। বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারী মহিলারা শ্লীলতাহানির শিকার হয়েছেন। ৯০ জনেরও বেশি আন্দোলনকারী গুরুতর আহত হয়েছেন এবং এই সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে। আমি বলছি না যে পুলিশ কর্মী আহত হননি, কিন্তু বাস্তবে কী ঘটেছিল তার তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।' এদিকে, আন্দোলনস্থল থেকে সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুককে বেআইনিভাবে সরিয়ে দেওয়ার অভিযোগে অন্য এক আবেদনকারীর পক্ষে প্রবীণ আইনজীবী গোপাল শঙ্করনারায়ণন জানান, সোমবারের অভিযানের সময় আন্দোলনকারীদের উপর কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করা হয়েছে। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, ২০১২ সালে বাবা রামদেবের দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনে গভীর রাতে পুলিশি অভিযান সংক্রান্ত সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে স্পষ্ট বলা হয়েছিল-কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করা হবে একদম শেষ পদক্ষেপ।

অন্যদিকে, দিল্লিতে নিট ও এনটিএ সংস্কার এবং প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগে আন্দোলনরত পড়ুয়াদের উপর পুলিশের চরম ‘অত্যাচার’ ও লাঠিচার্জের ঘটনায় এখনই মাথা গলাতে নারাজ সুপ্রিম কোর্ট। বুধবার মামলাকারীর আর্জি শোনামাত্রই প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত কড়া সুর চড়িয়ে বলেন, 'আমাদের সময় নষ্ট করবেন না, আর নিজের সময়ও নষ্ট করবেন না। আইনি যে পথ ও নিয়ম রয়েছে, তা অনুসরণ করুন।' তবুও পিছু না হটে আবেদনকারী আইনজীবী আদালতকে বোঝানোর চেষ্টা করেন যে, এই বিক্ষোভের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে দেশের লাখ লাখ ছাত্রছাত্রীর ভবিষ্যৎ। নিট পরীক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এবং এনটিএ-র গাফিলতি জড়িয়ে রয়েছে এর পেছনে। এমনকি পুলিশ যে সম্পূর্ণ নিরপরাধ ও নিরস্ত্র পড়ুয়াদের উপর নৃশংসভাবে লাঠিচার্জ করেছে, তার প্রামাণ্য ভিডিও ফুটেজ আদালতের হাতে তুলে দেওয়ার প্রস্তাবও দেন তিনি। কিন্তু বেঞ্চ সেই প্রস্তাব এক কথায় নাকচ করে দেয়। পুলিশি অত্যাচারের ভিডিও দেখতে বা জমা নিতে সোজাসুজি অস্বীকার করে বেঞ্চ মন্তব্য করে, 'আমরা কোনও ভিডিও দেখতে আগ্রহী নই। ভিডিও দেখার মতো সময় আমাদের হাতে নেই।' এরপরই তিন বিচারপতির বেঞ্চ সংক্ষেপে 'ধন্যবাদ' জানিয়ে জরুরি শুনানির আর্জি বাতিল করে দেয়।

এরপরেই সিজেপি-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে প্রধান বিচারপতির রায়ের প্রতিক্রিয়ায় এক্স পোস্টে শুধু সংক্ষেপে '????????????' লিখেছেন। অন্যদিকে, সিজেপি-র মুখপাত্র সৌরভ দাস আদালতের মন্তব্যের সমালোচনা করে বলেছেন, 'আমাদের সুপ্রিম কোর্ট এর চেয়ে ভালো কিছু পাওয়ার যোগ্য। সূর্যকান্তজি-কে বুঝতে হবে যে এত ঔদ্ধত্য ভালো নয়। ভারত সরকারের উচিত তাঁকে পরামর্শ দেওয়া।'

 
SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe