দিল্লিতে নিজের বাড়ির ভিতরেই ছুরিকাঘাতে খুন হলেন ২১ বছরের এক তরুণী। বুধবার পশ্চিম দিল্লির তিলক নগর এলাকায় এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মৃতার নাম মুসকান। তিনি পড়াশোনার পাশাপাশি মডেলিংয়ের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, ঘটনার সময় বাড়ির দোতলায় একাই ছিলেন ওই তরুণী। অভিযোগ উঠেছে, তাঁরই পরিচিত জিম ট্রেনার ইমরান ছুরি নিয়ে বাড়িতে ঢুকে তাঁকে আক্রমণ করেন। ঘটনার পর অভিযুক্ত পালিয়ে যায় বলে দাবি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, আচমকাই মুসকানের চিৎকার শুনতে পান প্রতিবেশীরা। তাঁরা দ্রুত তাঁর বাড়িতে ছুটে যান। সেখানে গিয়ে মুসকানকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। তাঁর শরীরে একাধিক ছুরির আঘাতের চিহ্ন ছিল বলে জানা গিয়েছে। প্রতিবেশীরাই তড়িঘড়ি তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু চিকিৎসকদের সমস্ত চেষ্টা সত্ত্বেও তাঁর মৃত্যু হয়।
ঘটনার পর এলাকায় পৌঁছয় পুলিশ। অতিরিক্ত ডেপুটি কমিশনার অফ পুলিশ (DCP) অভিষেক গুপ্তা জানিয়েছেন, অভিযুক্তকে খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। তদন্তকারীরা ঘটনাস্থল এবং সংলগ্ন এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখছেন। হামলার আগে বা পরে সন্দেহভাজন কারও যাতায়াত হয়েছিল কি না, তা জানার চেষ্টা করছে পুলিশ।
এই ঘটনায় মুসকানের পরিচিতরাও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে এনেছেন। তাঁর বন্ধু আমন জানিয়েছেন, তিন বোনের মধ্যে মুসকান ছিলেন সবচেয়ে ছোট। ঘটনার সময় তাঁর দিদি চণ্ডীগড়ে ছিলেন। তিনি ফোন করে আমনকে দ্রুত মুসকানের বাড়িতে যেতে বলেন। সেখান থেকেই তিনি জানতে পারেন যে কেউ মুসকানকে ছুরিকাঘাত করেছে।
আমনের দাবি, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তিনি এক বন্ধুকে ফোন করে মুসকানের বাড়িতে পৌঁছে তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলেন। আমন নিজে ঘটনাস্থলে পৌঁছনোর আগেই অ্যাম্বুল্যান্স এসে মুসকানকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাঁকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
{{/usCountry}}আমনের দাবি, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তিনি এক বন্ধুকে ফোন করে মুসকানের বাড়িতে পৌঁছে তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলেন। আমন নিজে ঘটনাস্থলে পৌঁছনোর আগেই অ্যাম্বুল্যান্স এসে মুসকানকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাঁকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
{{/usCountry}}তদন্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে মুসকানের সঙ্গে অভিযুক্ত ইমরানের সম্পর্কের বিষয়টি। মুসকানের বোনেরা আমনকে জানিয়েছেন, ইমরান নাকি দীর্ঘদিন ধরেই তাঁকে হয়রানি করতেন। এর আগেও এমন ঘটনা ঘটেছিল বলে দাবি করেছেন তাঁরা। ফলে বুধবারের হামলার পর পরিবারের সন্দেহ সরাসরি ইমরানের দিকে যায়।
আমনের বক্তব্য অনুযায়ী, ইমরানের বিরুদ্ধে আগেও হয়রানির অভিযোগ ছিল। সেই কারণেই মুসকানের উপর হামলার খবর পাওয়ার পর তাঁকেই প্রধান সন্দেহভাজন বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও এই অভিযোগের পূর্ণ সত্যতা এখনও পুলিশি তদন্তে প্রমাণিত হয়নি।
পুলিশ ইতিমধ্যেই অভিযুক্তের সন্ধানে তল্লাশি শুরু করেছে। সিসিটিভি ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান এবং অন্যান্য তথ্যপ্রমাণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কী কারণে মুসকানকে খুন করা হল, অভিযুক্তের সঙ্গে তাঁর ঠিক কী ধরনের সম্পর্ক ছিল এবং ঘটনার আগে তাদের মধ্যে কোনও কথা বা বিবাদ হয়েছিল কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন তদন্তকারীরা।
মাত্র ২১ বছরের এক তরুণীর এভাবে মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে পরিবার ও পরিচিত মহলে। অন্যদিকে, ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে ফের একবার দিল্লিতে নারীদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযুক্তকে দ্রুত গ্রেফতার করে ঘটনার প্রকৃত কারণ সামনে আনার দাবি জানিয়েছেন মৃতার পরিবার ও পরিচিতরা।