Delhi protest: মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে নয়াদিল্লিতে টানা দ্বিতীয় দিনের বিক্ষোভের সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে অন্তত ১২ সাংবাদিককে আটক করেছে দিল্লি পুলিশ। আটক সাংবাদিকদের মধ্যে 'হিন্দুস্তান টাইমসের' সহযোগী সংবাদমাধ্যম ‘হিন্দুস্তান’-এর একজন রিপোর্টারও রয়েছেন।
গোটা ঘটনার বর্ণনা ‘হিন্দুস্তান’-এর সাংবাদিকের

অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (এআইএসএ) ডাকা বিক্ষোভের খবর সংগ্রহের সময় সাংবাদিকদের আটক করা হয়। এ ঘটনায় সাংবাদিকদের সঙ্গে পুলিশের দুর্ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। হিন্দুস্তানের ২৭ বছর বয়সি আশিস সিং জানান, বেলা আড়াইটার দিকে আরকে আশ্রম মার্গ এলাকায় বিক্ষোভের খবর সংগ্রহ করার সময় পুলিশ তাঁকে আটক করে। এ সময় তাঁকে ধাক্কাধাক্কি করা হয় এবং তিনি আহত হন। তাঁর গলায় সংবাদমাধ্যমের পরিচয়পত্র থাকলেও পুলিশ তা আমলে নেয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি। আশিস সিং বলেন, ‘আমি ক্যামেরায় আটকের ঘটনাগুলো রেকর্ড করছিলাম। এ সময় পুলিশ আমাকে ধাক্কা দিতে শুরু করে। তারা কোনও একটি ধারালো বস্তু দিয়ে আমাকে আঘাতও করে, সম্ভবত আঙুলে পরা বিশেষ ধরনের ধাতব বস্তু দিয়ে। আমি বারবার বলেছি, আমি হিন্দুস্তান টাইমসের রিপোর্টার। পরিচয়পত্রও দেখিয়েছি। কিন্তু তারা আমার কথা শোনেনি।’
পরে একজন ফটো জার্নালিস্ট-এর সঙ্গে তাঁকে জোর করে একটি বাসে তোলা হয়। আশিস সিংয়ের দাবি, তিনি বিক্ষোভকারীদের কাছ থেকে দূরে ছিলেন এবং পুলিশের দায়িত্ব পালনে কোনও বাধাও সৃষ্টি করেননি। তারপরও তাঁর সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়। প্রায় ২০ থেকে ৩০ মিনিট বাসে থাকার পর সেটি মন্দির মার্গ এলাকায় পৌঁছালে তিনি ও অন্য সাংবাদিক বাস থেকে নেমে যান। আশিস সিং বলেন, ‘আমি ভয় পাচ্ছিলাম, পুলিশ আমাদের ফোন কেড়ে নিয়ে সব ছবি ও ভিডিও মুছে ফেলবে।’
ছবি তুলতে গিয়ে আটক ফটো জার্নালিস্ট
একটি সর্বভারতীয় সংবাদ সংস্থার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ফটো জার্নালিস্ট জানান, বিক্ষোভকারীদের আটকের ছবি তোলার সময় পুলিশ তাঁকেও আটক করে। তাঁর কথায়, পুলিশ প্রথমে পথচারীদের সরিয়ে দিচ্ছিল, পরে সাংবাদিকদের আটক করতে শুরু করে। তিনি বলেন, ‘হঠাৎ পুলিশ চিৎকার করে বলে, 'ওকে ভেতরে নিয়ে যাও।' এরপর আমাকেও ধাক্কা দিয়ে বাসে তোলা হয়। আমার জিনিসপত্র কেড়ে নিয়ে ছবি ও ভিডিও মুছে ফেলা হতে পারে—এই আশঙ্কায় মেমোরি কার্ড লুকিয়ে রাখি।’
{{/usCountry}}একটি সর্বভারতীয় সংবাদ সংস্থার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ফটো জার্নালিস্ট জানান, বিক্ষোভকারীদের আটকের ছবি তোলার সময় পুলিশ তাঁকেও আটক করে। তাঁর কথায়, পুলিশ প্রথমে পথচারীদের সরিয়ে দিচ্ছিল, পরে সাংবাদিকদের আটক করতে শুরু করে। তিনি বলেন, ‘হঠাৎ পুলিশ চিৎকার করে বলে, 'ওকে ভেতরে নিয়ে যাও।' এরপর আমাকেও ধাক্কা দিয়ে বাসে তোলা হয়। আমার জিনিসপত্র কেড়ে নিয়ে ছবি ও ভিডিও মুছে ফেলা হতে পারে—এই আশঙ্কায় মেমোরি কার্ড লুকিয়ে রাখি।’
{{/usCountry}}আটক অন্য সাংবাদিকদের মধ্যে ‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস হিন্দি’র তিন রিপোর্টার, ‘দ্য হিন্দু’র একজন রিপোর্টার এবং বিভিন্ন ডিজিটাল সংবাদমাধ্যমের কয়েকজন ক্যামেরাপারসন রয়েছেন। তবে সাংবাদিকদের আটকের বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি দিল্লি পুলিশের জনসংযোগ কর্মকর্তা।
৪৫ মিনিট পর মুক্তি তিন সাংবাদিকের
সোশ্যাল মিডিয়া এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’ জানায়, তাদের তিন সাংবাদিকের নাম শাশ্বত, সিয়া ও বিজয়। কনট প্লেস এলাকা থেকে তাঁদের আটক করে ছত্রসাল স্টেডিয়ামে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রায় ৪৫ মিনিট পর তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়। যে স্থান থেকে তাঁদের আটক করা হয়েছিল, স্টেডিয়ামটি সেখান থেকে প্রায় ১২ কিলোমিটার দূরে।
এদিকে, সন্ধ্যা ৬টা থেকে ৭টার মধ্যে ‘দ্য হিন্দু’র একজন মহিলা রিপোর্টারকেও সাময়িকভাবে আটক করা হয়। তাঁকে ধাক্কা দিয়ে একটি বাসে তোলা হয়েছিল। তবে তিনি নিজেকে সাংবাদিক হিসেবে পরিচয় দিয়ে প্রতিবাদ জানালে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। ওই রিপোর্টার কনট প্লেসে বলেন, ‘আমি নিজের ভিডিও করছিলাম। এ সময় পুলিশ সদস্যরা এসে আমাকে জিজ্ঞাসা করতে থাকেন, আমি কী করছি। এরপর তারা আমাকে আটক করেন। সংবাদমাধ্যমের কর্মীদের কীভাবে আটক করা যায়?’