এক দিন আগেই অতিরিক্ত ডিসিপি পদে দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত। তার পরেই রাতারাতি বদলে গেল সেই নির্দেশ। মহিলা সাংবাদিকদের হেনস্থার অভিযোগের তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত দিল্লি পুলিশের এসিপি বিবেক ভগত আপাতত অতিরিক্ত ডিসিপির দায়িত্ব নেবেন না। সোমবার রাতে দিল্লি সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, ৫ অক্টোবরের নির্দেশ সংশোধন করা হচ্ছে। বিবেক ভগত নিজেই তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নতুন দায়িত্ব নিতে চান না বলে আবেদন করেছিলেন। সেই আবেদনের পরেই এই সিদ্ধান্ত।

ঘটনার সূত্রপাত ৩ অক্টোবর। নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ চলছিল। বিক্ষোভে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা এবং ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে নানা অভিযোগ তোলা হয়েছিল। সেই বিক্ষোভ কভার করতে গিয়ে তিন মহিলা সাংবাদিক দিল্লি পুলিশের কয়েক জন আধিকারিকের বিরুদ্ধে হেনস্থার অভিযোগ তোলেন। তাঁদের অভিযোগের মধ্যে শারীরিক ভাবে হেনস্থা এবং অশালীন আচরণের কথা রয়েছে।
এই তিন সাংবাদিকের অভিযোগ দিল্লি পুলিশের কাছে জমা পড়ার পর বিষয়টি ক্রাইম ব্রাঞ্চের হাতে তুলে দেওয়া হয়। পুলিশ জানিয়েছে, নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য অভিযোগগুলি অপরাধ শাখায় পাঠানো হয়েছে। অভিযোগকারীদের বক্তব্য নেওয়া হয়েছে। ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজও খতিয়ে দেখার কথা রয়েছে। অভিযোগ সংক্রান্ত আরও ভিডিয়ো বা প্রমাণ থাকলে তা জমা দেওয়ার আবেদনও করা হয়েছে।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই ৫ অক্টোবর দিল্লি সরকারের একটি নির্দেশ সামনে আসে। সেখানে ১২ জন সিলেকশন গ্রেড ডানিপস আধিকারিককে অতিরিক্ত ডিসিপির বর্তমান দায়িত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। তাঁদের তালিকায় ছিলেন বিবেক ভগতও। তিনি তখন কনট প্লেসের এসডিপিও হিসাবে দায়িত্বে ছিলেন। সরকার অবশ্য স্পষ্ট করেছিল, এটি নিয়মিত পদোন্নতি নয়। সাময়িক ভাবে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়ার ব্যবস্থা মাত্র। এর জন্য আলাদা আর্থিক সুবিধাও নেই।
কিন্তু নির্দেশ প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করে, মহিলা সাংবাদিকদের করা গুরুতর অভিযোগের তদন্ত যখন চলছে, তখন অভিযুক্ত আধিকারিককে কী ভাবে নতুন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হল। এই বিতর্কের মধ্যেই বিবেক ভগত নিজে দায়িত্ব না নেওয়ার কথা জানান। দিল্লি সরকারও তাঁর নাম বাদ দিয়ে সংশোধিত নির্দেশ জারি করার সিদ্ধান্ত নেয়। বাকি ১১ জন আধিকারিককে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়ার নির্দেশ বহাল থাকবে।
{{/usCountry}}কিন্তু নির্দেশ প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করে, মহিলা সাংবাদিকদের করা গুরুতর অভিযোগের তদন্ত যখন চলছে, তখন অভিযুক্ত আধিকারিককে কী ভাবে নতুন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হল। এই বিতর্কের মধ্যেই বিবেক ভগত নিজে দায়িত্ব না নেওয়ার কথা জানান। দিল্লি সরকারও তাঁর নাম বাদ দিয়ে সংশোধিত নির্দেশ জারি করার সিদ্ধান্ত নেয়। বাকি ১১ জন আধিকারিককে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়ার নির্দেশ বহাল থাকবে।
{{/usCountry}}এখন মূল নজর তদন্তের দিকে। অভিযোগে নাম থাকা আধিকারিকদের বিরুদ্ধে কী প্রমাণ মিলছে, ঘটনার সময় কী হয়েছিল এবং তিন সাংবাদিকের অভিযোগ কতটা সত্য, তা খতিয়ে দেখছে ক্রাইম ব্রাঞ্চ। এখনও তদন্ত শেষ হয়নি। তাই অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে, এমন কথা বলারও সুযোগ নেই।
তবে এই ঘটনা নিয়ে দিল্লিতে রাজনৈতিক চাপও বাড়ছে। অভিযোগের পর সাংবাদিক এবং বিভিন্ন সংগঠনের তরফে পুলিশি পদক্ষেপের দাবি উঠেছে। অন্য দিকে, প্রশাসনের বক্তব্য, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমেই পুরো বিষয়টি পরিষ্কার হবে। ফলে আপাতত অতিরিক্ত ডিসিপির দায়িত্ব আটকালেও বিবেক ভগতের বিরুদ্ধে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয়, সেদিকেই নজর।