...
...
Next Story

‘সন্তুষ্ট না হলে আইন নিজের পথে চলবে’, যন্তর মন্তর নিয়ে মামলায় কেন্দ্র ও দিল্লি পুলিশকে নোটিস সুপ্রিম কোর্টের

দিল্লির কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত যন্তর মন্তর দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক ও সামাজিক আন্দোলনের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। বিভিন্ন সময়ে দুর্নীতির অভিযোগ থেকে শুরু করে নাগরিক অধিকার, ভোটার তালিকা এবং সরকারি নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ হয়েছে সেখানে।

Published on: Oct 15, 2026, 14:17:01 IST
Advertisement

দিল্লির যন্তর মন্তরে আর বিক্ষোভ দেখানো যাবে না। প্রতিবাদের এই ঐতিহাসিক স্থানকে নিষিদ্ধ করে বিকল্প তিনটি জায়গা নির্দিষ্ট করেছে দিল্লি পুলিশ। সেই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হলেন এক আবেদনকারী। বৃহস্পতিবার মামলার শুনানিতে কেন্দ্রীয় সরকার এবং দিল্লি পুলিশের বক্তব্য জানতে চাইল শীর্ষ আদালত। প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, আপাতত সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলিকে নিজেদের অবস্থান জানানোর সুযোগ দেওয়া হবে। তাঁদের জবাব সন্তোষজনক না হলে আইন নিজের পথে চলবে। আদালতের এই মন্তব্যে যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের অধিকার নিয়ে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে।

যন্তর মন্তরের বদলে নতুন তিন জায়গা

যন্তর মন্তর নিয়ে মামলায় কেন্দ্র ও দিল্লি পুলিশকে নোটিস সুপ্রিম কোর্টের (Hindustan Times)
যন্তর মন্তর নিয়ে মামলায় কেন্দ্র ও দিল্লি পুলিশকে নোটিস সুপ্রিম কোর্টের (Hindustan Times)

দিল্লির কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত যন্তর মন্তর দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক ও সামাজিক আন্দোলনের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। বিভিন্ন সময়ে দুর্নীতির অভিযোগ থেকে শুরু করে নাগরিক অধিকার, ভোটার তালিকা এবং সরকারি নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ হয়েছে সেখানে। কিন্তু সম্প্রতি ওই জায়গাকে বিক্ষোভের নির্ধারিত স্থান হিসাবে বাতিল করেছে দিল্লি পুলিশ।

১২ অক্টোবরের বিজ্ঞপ্তিতে যন্তর মন্তরের পরিবর্তে তিনটি জায়গাকে বিক্ষোভ ও অবস্থানের জন্য নির্দিষ্ট করা হয়েছে। সেগুলি হল মধ্য দিল্লির রামলীলা ময়দান, উত্তর দিল্লির বুরারি ময়দান এবং পূর্ব দিল্লির সিবিডি গ্রাউন্ড। নতুন জায়গাগুলিতে কী নিয়মে বিক্ষোভ করা যাবে, তা নিয়ে আলাদা নির্দেশিকা প্রকাশের কথা জানিয়েছে পুলিশ।

দিল্লি পুলিশের দাবি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অধীনে গঠিত একটি কমিটির সুপারিশ মেনেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে যন্তর মন্তরের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবাদস্থল বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়ে আপত্তি উঠেছে বিভিন্ন মহলে।

কী বলল সুপ্রিম কোর্ট?

এ ছাড়াও, ২০১৮ সালে সুপ্রিম কোর্টের একটি রায়ের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সেই মামলায় যন্তর মন্তরে প্রতিবাদ করার অধিকার স্বীকার করা হয়েছিল, যদিও জনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে যুক্তিসংগত বিধিনিষেধ আরোপের সুযোগও রাখা হয়েছিল।

বৃহস্পতিবার শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট কেন্দ্র এবং দিল্লি পুলিশের কাছে জবাব চেয়ে নোটিস জারি করে। আদালতের বক্তব্য, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলিকে আগে নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে হবে। তাঁদের জবাবে আদালত সন্তুষ্ট না হলে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ করা হবে।

রাজনৈতিক বিক্ষোভের আবহে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত

যন্তর মন্তরকে ঘিরে বিতর্ক এমন এক সময়ে সামনে এল, যখন দিল্লিতে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর নিয়ে বিরোধীদের আন্দোলন চলছে। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে কংগ্রেস-সহ বিরোধী দলগুলি পথে নেমেছে। একই ইস্যুতে আন্দোলন করছে ককরোচ জনতা পার্টি বা সিজেপি।

এই পরিস্থিতিতে যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের অনুমতি তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত প্রতিবাদের অধিকার নিয়ে প্রশ্ন বাড়িয়েছে। এক দিকে প্রশাসনের যুক্তি, নির্দিষ্ট জায়গায় জমায়েত হলে নিরাপত্তা ও যান চলাচল সামলানো সহজ হবে। অন্য দিকে, আবেদনকারীদের বক্তব্য, বিকল্প স্থান নির্ধারণ করলেই মানুষের প্রতিবাদের অধিকার অক্ষুণ্ণ থাকে না। জায়গাগুলি কতটা সহজে পৌঁছনো যায় এবং সেখানে আন্দোলন করার খরচ কত, তা-ও গুরুত্বপূর্ণ।

এখন কেন্দ্র এবং দিল্লি পুলিশের জবাবের দিকে নজর থাকবে। আদালত শেষ পর্যন্ত যন্তর মন্তরকে ফের বিক্ষোভের নির্ধারিত স্থান হিসাবে স্বীকৃতি দেয় কি না, সেই সিদ্ধান্ত দিল্লির প্রতিবাদ আন্দোলনের ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তবে বৃহস্পতিবারের শুনানিতে যন্তর মন্তর নিয়ে চূড়ান্ত কোনও নির্দেশ দেওয়া হয়নি।

 
ABOUT THE AUTHOR
Abhijit Chowdhury

২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।

SHARE THIS ARTICLE ON
Notifications

Get breaking alerts directly from the newsroom

Notifications are on!You'll be notified when news breaks