দিল্লির লালকেল্লার কাছে গত বছরের ১০ নভেম্বর সংঘটিত ভয়াবহ গাড়িবোমা বিস্ফোরণের তদন্তে বড় অগ্রগতির দাবি করেছে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ)। শুক্রবার বিশেষ এনআইএ আদালতে দাখিল করা সম্পূরক চার্জশিটে সংস্থাটি জানিয়েছে, পলাতক শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. মুজাফ্ফর আহমেদ রাদার আল-কায়েদা-ঘনিষ্ঠ জঙ্গি সংগঠন এজিইউএইচ ইন্টারিম (AGuH Interim)-এর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এবং হামলার 'প্রধান পরিকল্পনাকারীদের' একজন।

এই বিস্ফোরণে আত্মঘাতী জঙ্গি উমর উন নবি-সহ মোট ১২ জনের মৃত্যু হয়েছিল। নতুন সম্পূরক চার্জশিটে মুজাফ্ফর রাদারের পাশাপাশি জম্মু-কাশ্মীরের আরও দুই বাসিন্দা—জমির আহমেদ আহাঙ্গার এবং তুফাইল আহমেদ ভাটের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে এই মামলায় চার্জশিটভুক্ত অভিযুক্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১৩।
চিকিৎসক থেকে জঙ্গি ষড়যন্ত্রের অভিযোগ
এনআইএ-র দাবি, এমবিবিএস ও এমডি ডিগ্রিধারী শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. মুজাফ্ফর রাদার কেবল সংগঠনের সদস্যই ছিলেন না, বরং হামলার মূল পরিকল্পনা তৈরিতে আত্মঘাতী জঙ্গি উমর উন নবি, মুজাম্মিল শাকিল, আদিল আহমেদ রাদার এবং মুফতি ইরফানের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। উল্লেখযোগ্যভাবে, মুজাফ্ফরের ভাই আদিল আহমেদ রাদার ইতিমধ্যেই এই মামলায় গ্রেফতার হয়েছেন।
তদন্তে উঠে এসেছে, ২০২২ সালের জুন মাসে শ্রীনগরের ঈদগাহ এলাকায় একটি গোপন বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মুজাফ্ফর। আফগানিস্তানে পৌঁছানোর ব্যর্থ প্রচেষ্টার পর অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকেই AGuH Interim নামে নতুন জঙ্গি সংগঠনের সূচনা হয় বলে দাবি তদন্তকারীদের।
বিস্ফোরক তৈরির অভিযোগ
এনআইএ জানিয়েছে, হরিয়ানার ফরিদাবাদের আল-ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গোপন ঘাঁটিতে টিএটিপি (TATP) ভিত্তিক শক্তিশালী বিস্ফোরক তৈরির কাজেও সরাসরি যুক্ত ছিলেন মুজাফ্ফর। সেখানে বিস্ফোরক প্রস্তুত, পরীক্ষা এবং গোপনে সংরক্ষণের কাজ চলত বলে অভিযোগ। তাঁর বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই অজামিনযোগ্য গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে এবং তাঁকে ধরতে অভিযান চলছে।
অস্ত্র ও অর্থ সরবরাহের অভিযোগ
{{/usCountry}}এনআইএ জানিয়েছে, হরিয়ানার ফরিদাবাদের আল-ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গোপন ঘাঁটিতে টিএটিপি (TATP) ভিত্তিক শক্তিশালী বিস্ফোরক তৈরির কাজেও সরাসরি যুক্ত ছিলেন মুজাফ্ফর। সেখানে বিস্ফোরক প্রস্তুত, পরীক্ষা এবং গোপনে সংরক্ষণের কাজ চলত বলে অভিযোগ। তাঁর বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই অজামিনযোগ্য গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে এবং তাঁকে ধরতে অভিযান চলছে।
অস্ত্র ও অর্থ সরবরাহের অভিযোগ
{{/usCountry}}নতুন চার্জশিটে অভিযুক্ত জমির আহমেদ আহাঙ্গারকে জঙ্গি সংগঠনের "ওভারগ্রাউন্ড ওয়ার্কার" (OGW) হিসেবে উল্লেখ করেছে এনআইএ। তদন্তকারীদের দাবি, তিনি জঙ্গি সংগঠনের নির্দেশদাতাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন এবং অস্ত্র, গোলাবারুদ ও নগদ অর্থ পরিবহনের দায়িত্ব পালন করতেন।
অন্যদিকে, তুফাইল আহমেদ ভাটকে লস্কর-ই-তইবার (LeT) প্রাক্তন ওভারগ্রাউন্ড ওয়ার্কার বলে দাবি করা হয়েছে। এনআইএ-র অভিযোগ, তিনি গোপন ডেড-ড্রপ পদ্ধতিতে একটি একে-৪৭ রাইফেল, একটি ক্রিংকভ রাইফেল, একটি পিস্তল, ম্যাগাজিন ও বিপুল পরিমাণ গুলি সংগ্রহ করে আত্মঘাতী জঙ্গি উমর উন নবির হাতে তুলে দেন। এর বিনিময়ে তিন লক্ষ টাকা লেনদেন হয়েছিল বলেও দাবি তদন্তকারী সংস্থার।
আল-কায়েদার নতুন শাখা
AGuH Interim নামটি এসেছে আনসার গাজওয়াত-উল-হিন্দ (AGuH) থেকে, যা ২০১৭ সালে জাকির মুসা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। মুসা নিহত হওয়ার পর সংগঠনটি কার্যত নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়লেও, এনআইএ-র দাবি, নতুন নামে সংগঠনটিকে পুনর্গঠনের চেষ্টা চলছিল। তদন্তে আরও জানা গেছে, এই জঙ্গি মডিউলের অভ্যন্তরীণ কোডনাম ছিল 'অপারেশন হেভেনলি হিন্দ'। এর লক্ষ্য ছিল ভারতে জিহাদি মতাদর্শ ছড়িয়ে সদস্য সংগ্রহ, বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও বিস্ফোরক মজুত এবং শেষ পর্যন্ত ভারতের সাংবিধানিক কাঠামো উৎখাত করে শরিয়াভিত্তিক শাসন প্রতিষ্ঠা করা।
আল-ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা
এদিকে, ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)-এর পৃথক তদন্তে অভিযোগ করা হয়, ফরিদাবাদের আল-ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের মানবসম্পদ বিভাগের প্রধানের সুপারিশে এই উগ্রপন্থায় জড়িয়ে পড়া চিকিৎসকদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের চেয়ারম্যান জাওয়াদ আহমেদ সিদ্দিকি সেই নিয়োগ অনুমোদন করেছিলেন বলেও তদন্তে দাবি করা হয়েছে।
এর আগে চলতি বছরের ১৪ মে এনআইএ ৭,৫০০ পাতার মূল চার্জশিটে ১০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেছিল। তাঁদের মধ্যে চারজন চিকিৎসক ছিলেন। তদন্তকারীদের দাবি, ফরেনসিক বিশ্লেষণ, ডিএনএ পরীক্ষার ফল, জিও-লোকেশন ম্যাপিং, আর্থিক লেনদেনের তথ্য এবং ডিজিটাল প্রমাণের ভিত্তিতেই গোটা ষড়যন্ত্রের চিত্র সামনে এসেছে। সংস্থা জানিয়েছে, মামলার তদন্ত এখনও অব্যাহত রয়েছে এবং আরও তথ্য সামনে আসতে পারে।