ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ হলকে ঘিরে নাম বদলের বিতর্কে ফের নতুন মোড়। শেখ মুজিবুর রহমান হলের মূল নাম আবার ফিরিয়ে আনার কাজ শুরু করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। গত বছর ওসমান হাদির মৃত্যুর পরে একদল শিক্ষার্থী হলের নাম পরিবর্তন করে ‘শহিদ ওসমান হাদি হল’ লিখেছিলেন। এবার সেই নাম সরিয়ে আগের নামই ফিরিয়ে আনা হচ্ছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, ওসমান হাদির মৃত্যুর পর থেকেই শেখ মুজিবুর রহমান হলের নাম পরিবর্তনের দাবি উঠতে শুরু করে। সেই সময় কয়েক জন শিক্ষার্থী হলের মূল ফটক থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাম মুছে সেখানে ‘শহিদ ওসমান হাদি হল’ লেখা একটি ব্যানার টাঙিয়ে দেন। পরে হলের বিভিন্ন জায়গাতেও নতুন নাম লেখা হয়।
বিষয়টি গড়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক স্তর পর্যন্ত। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় শেখ মুজিবুর রহমান হলের নাম বদলে ‘শহিদ ওসমান হাদি হল’ করার সুপারিশ করা হয়েছিল। তবে সেই সুপারিশের চূড়ান্ত অনুমোদন হয়নি। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকারি নথি এবং আনুষ্ঠানিক ব্যবহারে হলটির নাম শেখ মুজিবুর রহমান হলই থেকে যায়।
এই অবস্থায় বুধবার দুপুর থেকে ফের হলের নাম লেখার কাজ শুরু হয়। ‘শহিদ ওসমান হাদি হল’ লেখা অংশ মুছে সেখানে শেখ মুজিবুর রহমান হল নামটি নতুন করে লেখার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বক্তব্য, শিক্ষার্থীরা নিজেদের উদ্যোগে যে নাম লিখেছিলেন, তার জন্য কর্তৃপক্ষের কোনও আনুষ্ঠানিক অনুমতি ছিল না। তাই সরকারি ভাবে যে নাম রয়েছে, সেটিই ফের বহাল করা হচ্ছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর ইসরাফিল রতন জানিয়েছেন, ‘শহিদ ওসমান হাদি হল’ নামটি শিক্ষার্থীরাই লিখেছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সেই নাম ব্যবহারের অনুমতি দেয়নি। তাই পুরনো নাম ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
{{/usCountry}}ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর ইসরাফিল রতন জানিয়েছেন, ‘শহিদ ওসমান হাদি হল’ নামটি শিক্ষার্থীরাই লিখেছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সেই নাম ব্যবহারের অনুমতি দেয়নি। তাই পুরনো নাম ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
{{/usCountry}}তবে প্রশাসনের এই সিদ্ধান্ত ঘিরে ফের আপত্তি তুলেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংগঠন। ডাকসুর নেতাদের বক্তব্য, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরেও বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি হল শেখ মুজিবুর রহমানের নামে থাকা নিয়ে তাঁদের আপত্তি রয়েছে। তাঁদের মতে, এই নামের সঙ্গে রাজনৈতিক পরিচয়ের বিষয়টিও জড়িয়ে যাচ্ছে।
ডাকসুর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ জানিয়েছেন, অনেক শিক্ষার্থী শেখ মুজিবুর রহমান হলের বাসিন্দা হিসেবে নিজেদের পরিচয় দিলে তাঁদের সঙ্গে ছাত্রলীগের যোগ থাকার ধারণা তৈরি হচ্ছে। এই কারণেই গণস্বাক্ষর সংগ্রহ করে হলের নাম পরিবর্তনের দাবি তোলা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন ডাকসু নেতারা।
শেষ পর্যন্ত সেই দাবি কার্যকর হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সরকারি নথিতে থাকা পুরনো নামই বহাল রাখার পথে এগিয়েছে। ফলে ফের শেখ মুজিবুর রহমান হল নামেই পরিচিত হবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই হল।