অযোধ্যার রামমন্দিরে ভক্তদের দান ও চড়াবার অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ ঘিরে দেশজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ঘটনার জেরে উত্তরপ্রদেশ প্রশাসন ইতিমধ্যেই বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT)-এর রিপোর্টের ভিত্তিতে এফআইআর দায়ের করে আট জন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে। এদিকে ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তায় হনুমন্ত কথা পাঠ করতে গিয়ে এই ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বাগেশ্বর ধামের পীঠাধীশ্বর পণ্ডিত ধীরেন্দ্র কৃষ্ণ শাস্ত্রী। তিনি এই ঘটনাকে শুধু আর্থিক দুর্নীতি নয়, কোটি কোটি মানুষের বিশ্বাস ও শ্রদ্ধা চুরির ঘটনা বলে মন্তব্য করেছেন।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ধীরেন্দ্র শাস্ত্রী বলেন, 'রাবণ আজও আছে, শুধু তার রূপ বদলেছে। রাবণ মা সীতাকে অপহরণ করেছিল, আর আজ যারা রামমন্দিরের দান আত্মসাৎ করেছে, তারা কোটি কোটি ভক্তের বিশ্বাস চুরি করেছে।' তাঁর দাবি, এই অপরাধীরা শুধু আইনের শাস্তিই পাবে না, ভগবান শ্রীরামের কঠোর দণ্ডও ভোগ করতে হবে। তিনি আরও জানান, তদন্ত এগোলে আরও অনেকে ধরা পড়তে পারেন।
অন্যদিকে, এই অভিযোগের তদন্তে ইতিমধ্যেই বড় পদক্ষেপ করেছে উত্তরপ্রদেশ সরকার। গত ১৩ জুন লখনউ মণ্ডলের কমিশনার বিজয় বিশ্বাস পন্তের নেতৃত্বে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করা হয়। তদন্তের প্রাথমিক রিপোর্ট জমা পড়ার পর রাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্টের নবনিযুক্ত সদস্য কৃষ্ণ মোহনের অভিযোগের ভিত্তিতে ২৫ জুন রাম জন্মভূমি থানায় মামলা দায়ের হয়। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারা এবং দুর্নীতি দমন আইনে মামলা রুজু করে পুলিশ দ্রুত আট অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে।
ধৃতদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, ভুয়ো রসিদ ও জাল নথি ব্যবহার করে ভক্তদের কাছ থেকে নেওয়া দানের অর্থ ট্রাস্টের তহবিলে জমা না দিয়ে নিজেদের দখলে রাখত। তদন্তে বেশ কিছু নকল রসিদ বই ও গুরুত্বপূর্ণ নথিও উদ্ধার হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে গোটা চক্রের সঙ্গে আর কারা যুক্ত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
{{/usCountry}}ধৃতদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, ভুয়ো রসিদ ও জাল নথি ব্যবহার করে ভক্তদের কাছ থেকে নেওয়া দানের অর্থ ট্রাস্টের তহবিলে জমা না দিয়ে নিজেদের দখলে রাখত। তদন্তে বেশ কিছু নকল রসিদ বই ও গুরুত্বপূর্ণ নথিও উদ্ধার হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে গোটা চক্রের সঙ্গে আর কারা যুক্ত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
{{/usCountry}}এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বিতর্কও তীব্র হয়েছে। সমাজবাদী পার্টির সভাপতি অখিলেশ যাদব অভিযোগ করেছেন, তদন্তের নামে প্রকৃত দোষীদের আড়াল করার চেষ্টা হতে পারে। তাঁর দাবি, শুধুমাত্র ছোট অভিযুক্তদের শাস্তি দিয়ে বড় প্রভাবশালীদের রক্ষা করা হচ্ছে। যদিও এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ এবং বিজেপি নেতৃত্ব জানিয়েছে, সরকার 'জিরো টলারেন্স' নীতিতে কাজ করছে এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোরতম ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ফলে ধর্মীয় আবেগ, আইন এবং রাজনীতি— তিন দিক থেকেই রামমন্দিরের দান কেলেঙ্কারি এখন জাতীয় আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে।