...
...
Next Story

Dinesh Trivedi: অতীত ভুলে নয়, আস্থা ফিরিয়ে এগোক ঢাকা-দিল্লি! তারেক-মোদী বৈঠকের বার্তা ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর

বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সম্ভাব্য বৈঠকের প্রসঙ্গ। ত্রিবেদী বলেন, দুই প্রধানমন্ত্রী মুখোমুখি বসলে অনেক সমস্যার সমাধান হতে পারে। তিনি এই বৈঠক নিয়ে আশাবাদী বলেও জানান।

Updated on: Aug 19, 2026, 11:26:21 IST
Advertisement

বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ককে নতুন পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারস্পরিক এবং নিঃশর্ত আস্থার উপর জোর দিলেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। মঙ্গলবার রাতে ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, অতীতকে ভুলে যাওয়ার দরকার নেই। তবে অতীতের সমস্যাগুলি মিটিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে হবে। সম্পর্ককে স্থবির করে রাখা যাবে না।

বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ককে নতুন পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারস্পরিক এবং নিঃশর্ত আস্থার উপর জোর দিলেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। (Bangladesh PM office)
বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ককে নতুন পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারস্পরিক এবং নিঃশর্ত আস্থার উপর জোর দিলেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। (Bangladesh PM office)

ঢাকার ওয়েস্টিন হোটেলে বাংলাদেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতাদের সম্মানে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছিলেন ত্রিবেদী। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম এবং ভারতের শিল্প সংগঠন CII-এর ডিরেক্টর জেনারেল চন্দ্রজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়। ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, দুই দেশই সম্ভাবনাময়। দুই দেশের তরুণ প্রজন্মের লক্ষ্যও প্রায় একই। তাঁরা উন্নতি চান। কর্মসংস্থান চান। সমৃদ্ধি চান। উন্নত ভবিষ্যৎ চান। তাই তরুণদের স্বপ্নকে সামনে রেখেই ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ভবিষ্যৎ তৈরি করা প্রয়োজন।

ত্রিবেদীর কথায়, দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্কের ভিত্তি হল ‘পারস্পরিক এবং নিঃশর্ত আস্থা’। তাঁর মতে, প্রতিবেশী দুই দেশের মধ্যে মতপার্থক্য থাকতেই পারে। কিন্তু সেই সমস্যার সমাধান সম্ভব আলোচনা এবং নিয়মিত যোগাযোগের মাধ্যমে। সাম্প্রতিক সময়েও ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে নানা বিষয়ে টানাপোড়েন রয়েছে। তবে দিল্লি সেই সমস্যাগুলি নিয়ে ঢাকার সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যেতে আগ্রহী বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়েও ইতিবাচক বার্তা দিয়েছেন তিনি। ত্রিবেদী জানান, দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী মোদীর সঙ্গে তাঁর বৈঠক হয়েছিল। সেখানে মোদী তাঁকে বলেছেন, দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক হওয়া প্রয়োজন। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ভারতে গেলে তাঁকে যথাযোগ্য সম্মান দেওয়া হবে বলেও মোদীর আশ্বাসের কথা তুলে ধরেন ত্রিবেদী।

বাংলাদেশের ভারত সফরের আমন্ত্রণ নিয়ে ঢাকার তরফে আগেও জানানো হয়েছিল যে বিষয়টি পর্যালোচনা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে দিল্লি জানিয়েছে, দুই দেশের সম্পর্ককে ইতিবাচক, গঠনমূলক এবং ভবিষ্যতমুখী পথে এগিয়ে নিয়ে যেতে তারা আগ্রহী।

অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রেও ব্যবসায়ী মহলের ভূমিকার কথা বলেন ভারতীয় হাইকমিশনার। তাঁর মতে, কোনও সরকার একা সবকিছু করতে পারে না। বেসরকারি ক্ষেত্রকেও এই সম্পর্কের সেতু হয়ে উঠতে হবে। কর্মসংস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং মানুষের মধ্যে যোগাযোগ—এই ক্ষেত্রগুলিতে দুই দেশের সহযোগিতা আরও বাড়ানোর কথা বলেন তিনি। বিশেষ করে দুই দেশের তরুণদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরির উপর জোর দেন ত্রিবেদী।

ভারতের ‘নেবারহুড ফার্স্ট’ নীতির কথাও তুলে ধরেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, প্রতিবেশী হিসেবে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে। দুই দেশের মধ্যে অভিন্ন ইতিহাস এবং সংস্কৃতির বন্ধন রয়েছে। সাম্প্রতিক সমস্যাগুলি সেই দীর্ঘ সম্পর্ককে ছাপিয়ে যাওয়া উচিত নয়।

ত্রিবেদী বলেন, গণতান্ত্রিক সমাজে মতপার্থক্য থাকাটা স্বাভাবিক। তাই সমস্যা থাকা মানেই সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার কারণ নয়। বরং আলোচনার মাধ্যমে সেই সমস্যাগুলি সমাধান করা প্রয়োজন। এদিকে, CII-এর ১৪ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দলও বর্তমানে বাংলাদেশ সফরে রয়েছে। ভারতীয় সংস্থাগুলির এই প্রতিনিধিদল বাংলাদেশের সরকারি আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করেছে। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং নতুন সহযোগিতার ক্ষেত্র নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

সব মিলিয়ে, সাম্প্রতিক টানাপোড়েনের মধ্যেও ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ককে ফের আস্থার জায়গায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা স্পষ্ট। ত্রিবেদীর বার্তায় সেই উদ্যোগেরই প্রতিফলন। তাঁর কথায়, অতীতকে সঙ্গে রেখেই তার সমস্যাগুলি মিটিয়ে সামনে এগোতে হবে। দুই দেশের তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যৎই হতে পারে সেই নতুন সম্পর্কের মূল চালিকাশক্তি।

 
ABOUT THE AUTHOR
Abhijit Chowdhury

২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।

SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe