এত যুদ্ধ-রাজনীতি, এত আবিষ্কার! তবু মানুষের ইতিহাস এখনও ‘বাচ্চা’, ডাইনোসরদের পৃথিবী শাসন করার সময়ের তুলনায়, বলছে গবেষণা
এই যে নিজেদের মধ্যে এত লড়াই, ঝগড়া, ক্ষমতা দখলের চেষ্টা, পাশাপাশি নতুন নতুন জিনিস আবিষ্কার-- তার পরেও পৃথিবীতে মানুষের অস্তিত্ব কত বছরের? খুঁজলে দেখা যাবে, অন্য বহু প্রাণীর তুলনায় মানুষ খুব অল্প দিনই টিকে রয়েছে পৃথিবীতে। ডাইনোসরদের তুলনায় তা কত? বলছে গবেষণা।
পৃথিবীর সাড়ে চারশ কোটি বছরের ইতিহাসে অসংখ্য প্রাণের উত্থান ও পতন ঘটেছে। তবে সবথেকে বেশি আলোচনা হয় মহাপ্রবল ডাইনোসর (Dinosaurs) এবং বর্তমানের বুদ্ধিমান প্রাণী মানুষ (Humans) নিয়ে। আমরা প্রায়শই নিজেদের পৃথিবীর অধিপতি মনে করি, কিন্তু বিবর্তনীয় সময়ের মাপকাঠিতে ডাইনোসরদের তুলনায় আমরা এখনও ‘নবজাতক’ মাত্র।

পৃথিবীর বুকে প্রাণের টিকে থাকা একটি দীর্ঘ ও জটিল প্রক্রিয়া। ডাইনোসররা এই গ্রহ শাসন করেছে কয়েক কোটি বছর ধরে, যেখানে মানুষের ইতিহাস মাত্র কয়েক লক্ষ বছরের। এই বিশাল সময়ের ব্যবধান আমাদের শেখায় যে প্রকৃতি কতটা বৈচিত্র্যময় এবং কোনো প্রজাতিই চিরস্থায়ী নয়।
(আরও পড়ুন: দেখে তো কুমির বলেই মনে হয়, কিন্তু পাগুলো কুকুরের মতো! ভয়ঙ্কর শিকারির সন্ধান পেলেন বিজ্ঞানীরা)
ডাইনোসররা কত বছর টিকে ছিল?
ডাইনোসরদের যুগকে বলা হয় মেসোজোয়িক মহাযুগ (Mesozoic Era)। তারা আজ থেকে প্রায় ২৩ কোটি বছর (২৩০ মিলিয়ন বছর) আগে ট্রায়াসিক যুগে পৃথিবীতে আবির্ভূত হয়েছিল। এরপর তারা জুরাসিক ও ক্রিটেসিয়াস যুগ পার করে প্রায় ৬.৬ কোটি বছর (৬৬ মিলিয়ন বছর) আগে একটি বিশাল গ্রহাণুর আঘাতে বিলুপ্ত হয়ে যায়।
অর্থাৎ, ডাইনোসররা পৃথিবীতে নিরবচ্ছিন্নভাবে প্রায় ১৬ কোটি ৪০ লক্ষ বছর রাজত্ব করেছে। এই দীর্ঘ সময়ে তারা ছোট পাখি সদৃশ প্রাণী থেকে শুরু করে বিশালকায় 'টাইটানোসর' পর্যন্ত বিভিন্ন রূপে বিবর্তিত হয়েছে। তারা পৃথিবীর জলবায়ুর চরম পরিবর্তন এবং মহাদেশীয় ভাঙাগড়ার সাক্ষী ছিল।
(আরও পড়ুন: গোবি মরুভূমিতে মিলল ডাইনোসর যুগের ১ সেন্টিমিটার জীবাশ্ম! বিজ্ঞানীদের রাতের ঘুম কেড়ে নিয়েছে এটি)
তার তুলনায় মানুষ কত বছর টিকে আছে?
মানুষ বা হোমো সেপিয়েন্স (Homo sapiens)-এর ইতিহাস ডাইনোসরদের তুলনায় অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত। আধুনিক মানুষের উদ্ভব হয়েছে আজ থেকে মাত্র প্রায় ৩ লক্ষ বছর (৩০০,০০০ বছর) আগে আফ্রিকায়। যদি আমরা আমাদের আদিম পূর্বপুরুষদের (যেমন হোমো ইরেক্টাস) সময়কালকেও ধরি, তবে সেই ইতিহাস বড়জোড় ২০ থেকে ২৫ লক্ষ বছরের।

এখন একটু গাণিতিক তুলনা করা যাক:
- ডাইনোসরদের রাজত্বকাল: ১৬৪,০০০,০০০ বছর।
- মানুষের অস্তিত্বকাল: ৩০০,০০০ বছর।
সহজভাবে বললে, ডাইনোসররা মানুষের তুলনায় প্রায় ৫৫০ গুণ বেশি সময় ধরে পৃথিবীতে টিকে ছিল। যদি পৃথিবীর পুরো ইতিহাসকে একটি ২৪ ঘণ্টার ঘড়ি হিসেবে ধরা হয়, তবে ডাইনোসররা সেখানে প্রায় পৌনে এক ঘণ্টা রাজত্ব করেছে, আর মানুষের অস্তিত্ব সেখানে মাত্র কয়েক সেকেন্ডের!
টিকে থাকার রহস্য: ডাইনোসর বনাম মানুষ
ডাইনোসররা টিকে ছিল তাদের শারীরিক শক্তি, বিশাল আকার এবং পরিবেশের সাথে খাপ খাইয়ে নেওয়ার ক্ষমতার কারণে। তারা লক্ষ লক্ষ বছর ধরে বাস্তুসংস্থানের শীর্ষে ছিল। অন্যদিকে, মানুষ টিকে আছে তার প্রখর বুদ্ধিমত্তা, সামাজিক বন্ধন এবং প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে। ডাইনোসররা প্রাকৃতিকভাবে বিলুপ্ত হয়েছে, কিন্তু মানুষ আজ নিজের বুদ্ধিমত্তা দিয়ে প্রকৃতির অনেক সীমাবদ্ধতাকে জয় করেছে।
(আরও পড়ুন: মানুষের মনের ওপর এক সময়ে সত্যিই দখল নেবে ছত্রাক? মাকড়সার পরিণতি দেখে চিন্তায় বিজ্ঞানীরা)
ডাইনোসরদের ১৬ কোটি বছরের রাজত্ব প্রমাণ করে যে তারা পৃথিবীর ইতিহাসের সবথেকে সফল প্রজাতিগুলোর একটি। মানুষ মাত্র ৩ লক্ষ বছরেই পৃথিবীকে আমূল বদলে দিয়েছে, কিন্তু ডাইনোসরদের মতো কয়েক কোটি বছর টিকে থাকা আমাদের জন্য এক বিশাল চ্যালেঞ্জ। জলবায়ু পরিবর্তন এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করাই বলে দেবে যে মানুষ কি ডাইনোসরদের মতো দীর্ঘস্থায়ী হতে পারবে, নাকি এটি কেবল সময়ের একটি সংক্ষিপ্ত ঝলক হয়েই থেকে যাবে।
ABOUT THE AUTHORSuman Royসুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।Read More
E-Paper


