পাকিস্তানের ঘনিষ্ঠ মিত্র আজারবাইজানের সঙ্গে দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে আর্মেনিয়ার। সেই আর্মেনিয়াই এবার ভারতের তৈরি যুদ্ধড্রোন বা লইটারিং মিউনিশন কেনার দিকে এগোচ্ছে বলে দাবি করেছে আর্মেনিয়ার সংবাদমাধ্যম। আলোচনায় উঠে এসেছে ভারতের দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি Divyastra Mk-1। আর্মেনিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রক নাকি বিভিন্ন দেশের মাঝারি পাল্লার ড্রোন খতিয়ে দেখে এই ভারতীয় ব্যবস্থাকেই সবচেয়ে উপযুক্ত বলে মনে করেছে। তবে এখনও ভারত বা আর্মেনিয়া—কোনও পক্ষই আনুষ্ঠানিক ভাবে সম্ভাব্য চুক্তির কথা ঘোষণা করেনি।

স্থানীয় সংবাদপত্র Hraparak-এর প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে একাধিক আর্মেনীয় ও আজারবাইজানি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, আর্মেনিয়া আমেরিকা, ফ্রান্স, ইরান, ইউক্রেন, ইজরায়েল, ভারত, চিন ও রাশিয়ার তৈরি বিভিন্ন ড্রোনের তুলনামূলক বিশ্লেষণ করেছে। সেই পরীক্ষায় ভারতীয় Divyastra Mk-1-কে এগিয়ে রাখা হয়েছে বলে দাবি। কম খরচ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার এবং একাধিক ড্রোন একসঙ্গে পরিচালনার সক্ষমতাকে এর বড় সুবিধা হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
Divyastra Mk-1 সাধারণ নজরদারি ড্রোন নয়। এটি একটি লইটারিং মিউনিশন—অর্থাৎ নির্দিষ্ট এলাকায় কিছু সময় উড়ে থেকে লক্ষ্য খুঁজে নিয়ে প্রয়োজন অনুযায়ী আঘাত হানতে পারে। ভারতীয় সংস্থা HoverIt-এর তৈরি এই প্ল্যাটফর্মের ঘোষিত পাল্লা প্রায় ৫০০ কিলোমিটার এবং প্রায় পাঁচ ঘণ্টা আকাশে থাকার ক্ষমতা রয়েছে। এতে প্রায় ১৫ কিলোগ্রাম পর্যন্ত পেলোড বহনের কথা বলা হয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ‘সোয়র্ম’ ব্যবহারের সক্ষমতাও এর অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
এই অস্ত্রের প্রতি আর্মেনিয়ার আগ্রহের পিছনে তার নিজস্ব নিরাপত্তা পরিস্থিতিও গুরুত্বপূর্ণ। আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানের মধ্যে কয়েক দশক ধরে সংঘাত চলেছে, বিশেষ করে নাগর্নো-কারাবাখকে কেন্দ্র করে। ২০২৩ সালে আজারবাইজান ওই অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার করার পর দু’দেশের মধ্যে নতুন বাস্তবতা তৈরি হয়। পরে ২০২৫ সালে আমেরিকার মধ্যস্থতায় দুই দেশ শান্তিচুক্তির খসড়া চূড়ান্ত করে। ফলে পুরনো সংঘাতের অবসানের প্রক্রিয়া চললেও প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি নিয়ে দু’দেশেরই নজর রয়েছে।
এখানেই পাকিস্তানের প্রসঙ্গও গুরুত্বপূর্ণ। পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে আজারবাইজানের ঘনিষ্ঠ সমর্থক এবং সরকারি নথিতে ইসলামাবাদ আজারবাইজানের আঞ্চলিক অবস্থানকে সমর্থনের কথা জানিয়েছে। পাকিস্তান বহু বছর আর্মেনিয়াকে স্বীকৃতি দেয়নি। তবে ২০২৫ সালের আগস্টে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের সিদ্ধান্ত হয়। ফলে বর্তমানে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় শুরু হলেও আজারবাইজান-পাকিস্তান ঘনিষ্ঠতার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট বদলায়নি।
{{/usCountry}}এখানেই পাকিস্তানের প্রসঙ্গও গুরুত্বপূর্ণ। পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে আজারবাইজানের ঘনিষ্ঠ সমর্থক এবং সরকারি নথিতে ইসলামাবাদ আজারবাইজানের আঞ্চলিক অবস্থানকে সমর্থনের কথা জানিয়েছে। পাকিস্তান বহু বছর আর্মেনিয়াকে স্বীকৃতি দেয়নি। তবে ২০২৫ সালের আগস্টে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের সিদ্ধান্ত হয়। ফলে বর্তমানে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় শুরু হলেও আজারবাইজান-পাকিস্তান ঘনিষ্ঠতার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট বদলায়নি।
{{/usCountry}}অন্যদিকে ভারত ও আর্মেনিয়ার প্রতিরক্ষা সম্পর্ক দ্রুত বেড়েছে। আকাশ এয়ার ডিফেন্স, পিনাকা এবং বিভিন্ন সামরিক সরঞ্জামের পাশাপাশি সাম্প্রতিক সময়ে যৌথ গবেষণা ও প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি সহযোগিতার কথাও সামনে এসেছে। ২০২৬ সালের আগস্টে ভারতের প্রতিরক্ষা সচিব রাজেশ কুমার সিংয়ের আর্মেনিয়া সফরে দুই দেশ প্রতিরক্ষা গবেষণা, সামরিক-প্রযুক্তিগত সহযোগিতা এবং যৌথ উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা করে। একই সময়ে প্রতিরক্ষা শিল্পে গবেষণা ও উদ্ভাবনের জন্য একটি সমঝোতাও স্বাক্ষরিত হয়।
এর আগে ভারত আর্মেনিয়াকে আকাশ ও পিনাকার মতো অস্ত্র সরবরাহ করেছে। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে আর্মেনিয়ার জন্য Guided Pinaka-এর প্রথম ব্যাচ পাঠানোর কথাও ভারতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছিল। ফলে Divyastra Mk-1 নিয়ে নতুন আগ্রহ তৈরি হলে তা ভারত-আর্মেনিয়া প্রতিরক্ষা সহযোগিতার পরবর্তী ধাপ হিসেবেও দেখা হতে পারে।
তবে Divyastra Mk-1 নিয়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতার জায়গা হল—এই মুহূর্তে খবরটি মূলত আর্মেনীয় সংবাদমাধ্যমের দাবি এবং তার ভিত্তিতে প্রকাশিত প্রতিবেদন। কোনও চূড়ান্ত ক্রয়চুক্তি, সংখ্যা বা মূল্য এখনও প্রকাশ্যে আসেনি। ফলে আর্মেনিয়া সত্যিই ভারতীয় এই লইটারিং মিউনিশন কিনছে, নাকি এখনও মূল্যায়ন ও আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে, তা স্পষ্ট হতে সরকারি ঘোষণা প্রয়োজন।
তবু ঘটনাটি ভারতের প্রতিরক্ষা রপ্তানির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দিচ্ছে। আর্মেনিয়া যদি শেষ পর্যন্ত Divyastra Mk-1 বেছে নেয়, তবে ভারতীয় নির্মাতাদের তৈরি দীর্ঘপাল্লার ড্রোন ও লইটারিং মিউনিশনের জন্য আন্তর্জাতিক বাজারে আরও একটি বড় দরজা খুলতে পারে।