...
...
Next Story

Divyastra Mk-1 Drone Update: পাকিস্তানের ঘনিষ্ঠ মিত্রের শত্রুকে এবার ড্রোন দেবে ভারত? Divyastra Mk-1 নিয়ে জোর চর্চা

আর্মেনিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রক নাকি বিভিন্ন দেশের মাঝারি পাল্লার ড্রোন খতিয়ে দেখে এই ভারতীয় ব্যবস্থাকেই সবচেয়ে উপযুক্ত বলে মনে করেছে। তবে এখনও ভারত বা আর্মেনিয়া—কোনও পক্ষই আনুষ্ঠানিক ভাবে সম্ভাব্য চুক্তির কথা ঘোষণা করেনি।

Published on: Sep 22, 2026, 14:35:48 IST
Advertisement

পাকিস্তানের ঘনিষ্ঠ মিত্র আজারবাইজানের সঙ্গে দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে আর্মেনিয়ার। সেই আর্মেনিয়াই এবার ভারতের তৈরি যুদ্ধড্রোন বা লইটারিং মিউনিশন কেনার দিকে এগোচ্ছে বলে দাবি করেছে আর্মেনিয়ার সংবাদমাধ্যম। আলোচনায় উঠে এসেছে ভারতের দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি Divyastra Mk-1। আর্মেনিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রক নাকি বিভিন্ন দেশের মাঝারি পাল্লার ড্রোন খতিয়ে দেখে এই ভারতীয় ব্যবস্থাকেই সবচেয়ে উপযুক্ত বলে মনে করেছে। তবে এখনও ভারত বা আর্মেনিয়া—কোনও পক্ষই আনুষ্ঠানিক ভাবে সম্ভাব্য চুক্তির কথা ঘোষণা করেনি।

আর্মেনিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রক নাকি বিভিন্ন দেশের মাঝারি পাল্লার ড্রোন খতিয়ে দেখে এই ভারতীয় ব্যবস্থাকেই সবচেয়ে উপযুক্ত বলে মনে করেছে। (Kawa UAV)
আর্মেনিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রক নাকি বিভিন্ন দেশের মাঝারি পাল্লার ড্রোন খতিয়ে দেখে এই ভারতীয় ব্যবস্থাকেই সবচেয়ে উপযুক্ত বলে মনে করেছে। (Kawa UAV)

স্থানীয় সংবাদপত্র Hraparak-এর প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে একাধিক আর্মেনীয় ও আজারবাইজানি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, আর্মেনিয়া আমেরিকা, ফ্রান্স, ইরান, ইউক্রেন, ইজরায়েল, ভারত, চিন ও রাশিয়ার তৈরি বিভিন্ন ড্রোনের তুলনামূলক বিশ্লেষণ করেছে। সেই পরীক্ষায় ভারতীয় Divyastra Mk-1-কে এগিয়ে রাখা হয়েছে বলে দাবি। কম খরচ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার এবং একাধিক ড্রোন একসঙ্গে পরিচালনার সক্ষমতাকে এর বড় সুবিধা হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

Divyastra Mk-1 সাধারণ নজরদারি ড্রোন নয়। এটি একটি লইটারিং মিউনিশন—অর্থাৎ নির্দিষ্ট এলাকায় কিছু সময় উড়ে থেকে লক্ষ্য খুঁজে নিয়ে প্রয়োজন অনুযায়ী আঘাত হানতে পারে। ভারতীয় সংস্থা HoverIt-এর তৈরি এই প্ল্যাটফর্মের ঘোষিত পাল্লা প্রায় ৫০০ কিলোমিটার এবং প্রায় পাঁচ ঘণ্টা আকাশে থাকার ক্ষমতা রয়েছে। এতে প্রায় ১৫ কিলোগ্রাম পর্যন্ত পেলোড বহনের কথা বলা হয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ‘সোয়র্ম’ ব্যবহারের সক্ষমতাও এর অন্যতম বৈশিষ্ট্য।

এই অস্ত্রের প্রতি আর্মেনিয়ার আগ্রহের পিছনে তার নিজস্ব নিরাপত্তা পরিস্থিতিও গুরুত্বপূর্ণ। আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানের মধ্যে কয়েক দশক ধরে সংঘাত চলেছে, বিশেষ করে নাগর্নো-কারাবাখকে কেন্দ্র করে। ২০২৩ সালে আজারবাইজান ওই অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার করার পর দু’দেশের মধ্যে নতুন বাস্তবতা তৈরি হয়। পরে ২০২৫ সালে আমেরিকার মধ্যস্থতায় দুই দেশ শান্তিচুক্তির খসড়া চূড়ান্ত করে। ফলে পুরনো সংঘাতের অবসানের প্রক্রিয়া চললেও প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি নিয়ে দু’দেশেরই নজর রয়েছে।

অন্যদিকে ভারত ও আর্মেনিয়ার প্রতিরক্ষা সম্পর্ক দ্রুত বেড়েছে। আকাশ এয়ার ডিফেন্স, পিনাকা এবং বিভিন্ন সামরিক সরঞ্জামের পাশাপাশি সাম্প্রতিক সময়ে যৌথ গবেষণা ও প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি সহযোগিতার কথাও সামনে এসেছে। ২০২৬ সালের আগস্টে ভারতের প্রতিরক্ষা সচিব রাজেশ কুমার সিংয়ের আর্মেনিয়া সফরে দুই দেশ প্রতিরক্ষা গবেষণা, সামরিক-প্রযুক্তিগত সহযোগিতা এবং যৌথ উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা করে। একই সময়ে প্রতিরক্ষা শিল্পে গবেষণা ও উদ্ভাবনের জন্য একটি সমঝোতাও স্বাক্ষরিত হয়।

এর আগে ভারত আর্মেনিয়াকে আকাশ ও পিনাকার মতো অস্ত্র সরবরাহ করেছে। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে আর্মেনিয়ার জন্য Guided Pinaka-এর প্রথম ব্যাচ পাঠানোর কথাও ভারতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছিল। ফলে Divyastra Mk-1 নিয়ে নতুন আগ্রহ তৈরি হলে তা ভারত-আর্মেনিয়া প্রতিরক্ষা সহযোগিতার পরবর্তী ধাপ হিসেবেও দেখা হতে পারে।

তবে Divyastra Mk-1 নিয়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতার জায়গা হল—এই মুহূর্তে খবরটি মূলত আর্মেনীয় সংবাদমাধ্যমের দাবি এবং তার ভিত্তিতে প্রকাশিত প্রতিবেদন। কোনও চূড়ান্ত ক্রয়চুক্তি, সংখ্যা বা মূল্য এখনও প্রকাশ্যে আসেনি। ফলে আর্মেনিয়া সত্যিই ভারতীয় এই লইটারিং মিউনিশন কিনছে, নাকি এখনও মূল্যায়ন ও আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে, তা স্পষ্ট হতে সরকারি ঘোষণা প্রয়োজন।

তবু ঘটনাটি ভারতের প্রতিরক্ষা রপ্তানির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দিচ্ছে। আর্মেনিয়া যদি শেষ পর্যন্ত Divyastra Mk-1 বেছে নেয়, তবে ভারতীয় নির্মাতাদের তৈরি দীর্ঘপাল্লার ড্রোন ও লইটারিং মিউনিশনের জন্য আন্তর্জাতিক বাজারে আরও একটি বড় দরজা খুলতে পারে।

 
ABOUT THE AUTHOR
Abhijit Chowdhury

২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।

SHARE THIS ARTICLE ON
Notifications

Get breaking alerts directly from the newsroom

Notifications are on!You'll be notified when news breaks