উৎসবের মরসুমে আকাশছোঁয়া বিমান ভাড়া নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন এক আবেদনকারী। কিন্তু দ্রুত শুনানির আবেদন জানাতেই শীর্ষ আদালতের মন্তব্য, ‘বিমানে যাতায়াত করবেন না।’ সোমবার এই মন্তব্য করেন বিচারপতি বিক্রম নাথ। বিমান টিকিটের দাম স্বাভাবিকের তুলনায় ৭০০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে বলে আদালতে দাবি করেছিলেন আবেদনকারীর আইনজীবী। তাঁর বক্তব্য ছিল, বিমান পরিষেবা এখন জরুরি পরিষেবার অংশ। অথচ উৎসবের মরসুমে বিমান সংস্থাগুলি ইচ্ছেমতো ভাড়া বাড়াচ্ছে। এতে সাধারণ যাত্রীদের সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। কিন্তু দ্রুত শুনানির আর্জি খারিজ করে দেয় আদালত। আগামী ১৬ নভেম্বর এই সংক্রান্ত মূল মামলার শুনানির দিন ধার্য রয়েছে।
৭০০ শতাংশ পর্যন্ত ভাড়া বৃদ্ধির অভিযোগ

দীপাবলির মরসুমে দেশের বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ রুটে বিমান ভাড়া অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে বিমান টিকিটের দামের ঊর্ধ্বসীমা বেঁধে দেওয়ার দাবি জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেন সমাজকর্মী এস লক্ষ্মীনারায়ণন। তাঁর দায়ের করা জনস্বার্থ মামলায় অভিযোগ, বেসরকারি বিমান সংস্থাগুলি অ্যালগরিদম নির্ভর পদ্ধতিতে টিকিটের দাম ঠিক করে। ফলে উৎসব, ছুটির মরসুম এবং জরুরি পরিস্থিতিতে আচমকাই ভাড়া বেড়ে যায়।
সোমবার এই মামলার দ্রুত শুনানির আর্জি নিয়ে আদালতে যান আবেদনকারীর আইনজীবী অভিষেক। তাঁর দাবি, স্বাভাবিক ভাড়ার তুলনায় বিমান টিকিটের দাম ৭০০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। বিমান পরিষেবাকে জরুরি পরিষেবা হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই ধরনের ভাড়া বৃদ্ধি সংবিধানের ১৪ নম্বর অনুচ্ছেদে বর্ণিত সাম্যের অধিকারের পরিপন্থী। এরপরই বিচারপতি বিক্রম নাথ বলেন, ‘বিমানে যাতায়াত করবেন না।’ তার পরেই পরবর্তী মামলার শুনানি শুরু করার নির্দেশ দেন তিনি। বিচারপতি সন্দীপ মেহতা এবং বিচারপতি অপারেশ কুমার সিংও ওই বেঞ্চে ছিলেন।
দিল্লি-কলকাতা টিকিটের দাম প্রায় ৮০ হাজার!
আবেদনকারীর দাবি, দীপাবলির আগে দেশের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রুটে বিমান ভাড়া স্বাভাবিকের তুলনায় দুই থেকে সাত গুণ পর্যন্ত বেড়েছে। আবেদনে একটি উদাহরণও দেওয়া হয়েছে। সাধারণত দিল্লি থেকে কলকাতা যাওয়ার বিমান টিকিটের দাম ১০ থেকে ১১ হাজার টাকার মধ্যে থাকে। কিন্তু ৬ নভেম্বরের একটি টিকিটের দাম বেড়ে ৭৮ হাজার ৬৯৪ টাকা হয়েছিল বলে অভিযোগ।
{{/usCountry}}আবেদনকারীর দাবি, দীপাবলির আগে দেশের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রুটে বিমান ভাড়া স্বাভাবিকের তুলনায় দুই থেকে সাত গুণ পর্যন্ত বেড়েছে। আবেদনে একটি উদাহরণও দেওয়া হয়েছে। সাধারণত দিল্লি থেকে কলকাতা যাওয়ার বিমান টিকিটের দাম ১০ থেকে ১১ হাজার টাকার মধ্যে থাকে। কিন্তু ৬ নভেম্বরের একটি টিকিটের দাম বেড়ে ৭৮ হাজার ৬৯৪ টাকা হয়েছিল বলে অভিযোগ।
{{/usCountry}}একই দিনে একই রুটে বিভিন্ন সময়ের বিমানের ভাড়াতেও ব্যাপক ফারাক দেখা যাচ্ছে। বেঙ্গালুরু থেকে দিল্লি যাওয়ার একটি বিমানের ভাড়া সকাল ৫টার জন্য প্রায় ১৫ হাজার ৯০১ টাকা। অথচ বিকেল ৩টে ৪৫ মিনিটের বিমানের ভাড়া ৪০ হাজার ৫০৬ টাকা। এই ধরনের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় সরকারের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন আবেদনকারী।
২৫ কেজি থেকে কমে ১৫ কেজি ব্যাগেজ
শুধু বিমানের টিকিটের দাম নয়, বিনামূল্যে মালপত্র বহনের সীমা কমানো নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন আবেদনকারী। তাঁর দাবি, আগে ইকোনমি ক্লাসের যাত্রীরা ২৫ কেজি পর্যন্ত মালপত্র বিনামূল্যে নিয়ে যেতে পারতেন। এখন সেই সীমা কমিয়ে ১৫ কেজি করা হয়েছে। ফলে অতিরিক্ত মালপত্রের জন্য যাত্রীদের আলাদা টাকা দিতে হচ্ছে।
উৎসবের মরসুমে যাঁরা বাড়ি ফেরেন, তাঁদের অনেককেই উপহার এবং প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে যেতে হয়। তাঁদের উপর বাড়তি আর্থিক বোঝা চাপছে বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। উৎসব এবং বছরের শেষের মরসুমে বিমান ভাড়ার ঊর্ধ্বসীমা নির্ধারণের পাশাপাশি পুরনো ব্যাগেজ ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনারও দাবি উঠেছে।
নতুন নিয়ম আনছে কেন্দ্র
বিমান ভাড়া নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে কেন্দ্র আগেই সুপ্রিম কোর্টকে জানিয়েছিল, ভারতীয় বিমানযান আইন, ২০২৪-এর অধীনে নতুন নিয়ম তৈরি করা হয়েছে। ১ নভেম্বর ভারতীয় বিমানযান নিয়ম, ২০২৬ বিজ্ঞপ্তি আকারে প্রকাশিত হয়েছে। তবে তা কার্যকর হবে ১ জানুয়ারি ২০২৭ থেকে। বিশেষ পরিস্থিতিতে জনস্বার্থে প্রয়োজন মনে করলে বিমান ভাড়ার বিষয়ে কেন্দ্র বিমান সংস্থাগুলিকে নির্দেশ দিতে পারবে। এখন এই মামলার পরবর্তী শুনানি ১৬ নভেম্বর। বিমান ভাড়ার অস্বাভাবিক ওঠানামা নিয়ন্ত্রণে নতুন নিয়ম কতটা কার্যকর হয়, সেদিকেই নজর যাত্রীদের।