...
...
Next Story

Trump Promises 5000 dollars in Vote Rally: রিপাবলিকান জিতলেই প্রতি আমেরিকানকে ৫০০০ ডলার! ভোটের আগে ট্রাম্পের বড় ‘বাজি’

তাঁর দল রিপাবলিকান পার্টি যদি প্রতিনিধি পরিষদ এবং সেনেট—দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারে, তা হলে আমেরিকার প্রতিটি প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিককে ৫ হাজার ডলার করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেন ট্রাম্প।

Published on: Sep 10, 2026, 11:29:44 IST
Advertisement

নভেম্বরের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে বড়সড় ঘোষণা করলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর দল রিপাবলিকান পার্টি যদি প্রতিনিধি পরিষদ এবং সেনেট—দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারে, তা হলে আমেরিকার প্রতিটি প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিককে ৫ হাজার ডলার করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেন তিনি। ডালাসে রিপাবলিকান পার্টির বিশেষ মধ্যবর্তী সম্মেলনে এই ঘোষণা করেন ট্রাম্প। তিনি এই অর্থকে নাম দিয়েছেন ‘ট্রাম্প ডিভিডেন্ড’।

তাঁর দল রিপাবলিকান পার্টি যদি প্রতিনিধি পরিষদ এবং সেনেট—দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারে, তা হলে আমেরিকার প্রতিটি প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিককে ৫ হাজার ডলার করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেন ট্রাম্প। (REUTERS)
তাঁর দল রিপাবলিকান পার্টি যদি প্রতিনিধি পরিষদ এবং সেনেট—দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারে, তা হলে আমেরিকার প্রতিটি প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিককে ৫ হাজার ডলার করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেন ট্রাম্প। (REUTERS)

তবে ট্রাম্পের এই প্রস্তাব ঘিরে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। কী ভাবে এই বিপুল অর্থের ব্যবস্থা করা হবে, তা স্পষ্ট করেননি তিনি। বিভিন্ন হিসাব অনুযায়ী, এই প্রকল্পের খরচ ১ ট্রিলিয়ন ডলারেরও বেশি হতে পারে। ফলে বাস্তবে এই প্রতিশ্রুতি কতটা কার্যকর করা সম্ভব, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।

ভোটের আগে সরাসরি অর্থ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি

ডালাসে রিপাবলিকানদের প্রথম মধ্যবর্তী সম্মেলনের মঞ্চে ট্রাম্প বলেন, রিপাবলিকানরা জিতলে আমেরিকার প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিক ৫ হাজার ডলার পাবেন। তাঁর দাবি, দেশের অর্থনীতি এখন এত শক্তিশালী যে সরকার এই অর্থ দেওয়ার ক্ষমতা রাখে। তবে অর্থের সুনির্দিষ্ট উৎস, কারা এই টাকা পাবেন এবং কবে থেকে দেওয়া হবে—এসব নিয়ে কোনও বিস্তারিত পরিকল্পনা প্রকাশ করেননি ট্রাম্প। তিনি শুধু জানিয়েছেন, এই অর্থ আমেরিকার মধ্যেই খরচ করতে হবে।

‘আমি ব্যালটে আছি’—ভোটারদের উদ্দেশে ট্রাম্প

চলতি নির্বাচনে ট্রাম্প নিজে প্রার্থী নন। তবু নিজের ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তাকে রিপাবলিকানদের প্রচারের প্রধান অস্ত্র করতে চাইছেন তিনি। সম্মেলনে সমর্থকদের উদ্দেশে ট্রাম্প বলেন, তাঁরা যেন ভাবেন যে তিনি নিজেই নির্বাচনের ব্যালটে রয়েছেন। তাঁর কথায়, ভোটারদের বুঝতে হবে যে এই নির্বাচন অনেকটা তাঁর নেতৃত্বের উপর গণভোটের মতো।

ট্রাম্পের বক্তৃতায় ইরান যুদ্ধও বড় জায়গা দখল করে নেয়। তিনি বলেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু করার সিদ্ধান্ত সহজ ছিল না। তবে তাঁর দাবি, ইরান কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই পরমাণু অস্ত্র তৈরির ক্ষমতার কাছাকাছি পৌঁছে যেতে পারে বলে আমেরিকার সামনে বড় ঝুঁকি তৈরি হয়েছিল। যুদ্ধের কারণে আমেরিকার অর্থনীতিতে চাপ পড়ছে—এমন ইঙ্গিতও তাঁর বক্তব্যে পাওয়া যায়। বিশেষ করে তেলের দাম নিয়ে তিনি বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শেষ হলে তেলের দাম কমবে। ট্রাম্প দাবি করেন, যুদ্ধের পর খাদ্য এবং অন্যান্য পণ্যের দামও কমতে থাকবে।

হরমুজ প্রণালী নিয়েও বড় মন্তব্য

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহণ পথ হরমুজ প্রণালী নিয়েও মন্তব্য করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি ইঙ্গিত দেন, ইরানের সঙ্গে সংঘাতে আমেরিকার জয় হলে তেলের বাজারে বড় পরিবর্তন আসবে। এমনকি হরমুজ প্রণালীর নাম নিজের নামে করার কথাও মজা করে বলেন ট্রাম্প। এর মাধ্যমে নিজের রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং ইরান যুদ্ধ—দুটিকেই একই প্রচারের সঙ্গে জুড়ে দেন তিনি।

‘কমিউনিজম’ নিয়ে সতর্কবার্তা

সম্মেলনে ডেমোক্র্যাটদের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণও চালান ট্রাম্প। তাঁর দাবি, ডেমোক্র্যাটরা জিতলে আমেরিকা ‘কমিউনিস্ট’ দেশের দিকে চলে যাবে। তিনি ভোটারদের সতর্ক করে বলেন, নভেম্বরের নির্বাচন আমেরিকার ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আগামী ২৫০ বছরে দেশ কোন পথে যাবে, তা এই ভোটের ফলের উপর নির্ভর করছে বলেও দাবি করেন তিনি।

কেন ৫ হাজার ডলারের ঘোষণা?

মূলত ভোটের আগে রিপাবলিকান সমর্থকদের উজ্জীবিত করতেই এই ঘোষণা বলে মনে করা হচ্ছে। ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা নিয়ে চাপ রয়েছে। মূল্যবৃদ্ধি, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং ইরান যুদ্ধ নিয়ে একাংশের মধ্যে অসন্তোষও রয়েছে। সেই পরিস্থিতিতে সরাসরি অর্থ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি সাধারণ ভোটারদের কাছে আকর্ষণীয় বার্তা হিসেবে কাজ করতে পারে। তবে এত বড় অঙ্কের অর্থ কোথা থেকে আসবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ফলে এটি বাস্তবে কতটা কার্যকর করা সম্ভব হবে, সেই প্রশ্নও থেকেই যাচ্ছে।

নির্বাচনের ফলই দেবে উত্তর

আগামী ৩ নভেম্বর আমেরিকায় মধ্যবর্তী নির্বাচন। সেখানে প্রতিনিধি পরিষদ ও সেনেটের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে লড়াই হবে। ট্রাম্পের নেতৃত্বে রিপাবলিকানরা যদি দুই কক্ষেই নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারে, তবে তাঁর ‘ট্রাম্প ডিভিডেন্ড’ প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পথে যেতে হবে। আর তা না হলে এই ঘোষণা ভোটের আগের রাজনৈতিক প্রচারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে।

এই মুহূর্তে তাই ট্রাম্পের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ—ইরান যুদ্ধ ও অর্থনীতিকে ঘিরে তৈরি হওয়া অসন্তোষ সামলে রিপাবলিকান ভোটারদের আবার একজোট করা। ৫ হাজার ডলারের প্রতিশ্রুতি সেই লক্ষ্যেই তাঁর সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক বাজিগুলির একটি হয়ে উঠেছে।

 
ABOUT THE AUTHOR
Abhijit Chowdhury

২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।

SHARE THIS ARTICLE ON
Notifications

Get breaking alerts directly from the newsroom

Notifications are on!You'll be notified when news breaks