Iran-US tensions: হরমুজ প্রণালীকে (Strait of Hormuz) ঘিরে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে আক্রমণ শানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। তাঁর দাবি, দেশটি তীব্র অর্থনৈতিক ও সামরিক চাপের মধ্যে রয়েছে। একইসঙ্গে তিনি ঘোষণা করেছেন যে, কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীর উপর কার্যত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেরই নিয়ন্ত্রণ রয়েছে।

ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট জানান, 'আমি এই মুহূর্তে হরমুজ প্রণালীকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড হিসেবেই দেখছি।' পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, এই জলপথের আশপাশের অঞ্চল, এমনকী ওই অঞ্চলের বিস্তৃত স্থলভাগ-সহ পুরো এলাকার উপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের 'সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ' রয়েছে। শুক্রবার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প বলেন, ইরান (Iran) মরিয়া হয়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছতে চাইছে, কিন্তু তাঁর মতে, ইরান সঠিক শর্ত মেনে নিতে প্রস্তুত নয়। মার্কিন প্রেসিডেন্টের বক্তব্য, 'তারা চুক্তি করতে মরিয়া, কিন্তু আমার মতে, তারা সঠিক চুক্তি করতে প্রস্তুত নয়।'
ট্রাম্প আরও দাবি করেন, ইরান তীব্র অর্থনৈতিক সঙ্কটের মুখে পড়েছে। তাঁর বক্তব্য, দেশটির কাছে কোনও অর্থ নেই এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের বেতন দিতেও তারা হিমশিম খাচ্ছে। তিনি বলেন, 'তাদের কাছে কোনও অর্থ নেই। তাদের কোনও নৌবাহিনী নেই। তাদের কোনও বিমানবাহিনী নেই। তারা তাদের সেনাদের বেতন দিচ্ছে না। তারা তাদের পুলিশকেও বেতন দিচ্ছে না। তাদের মুদ্রাস্ফীতি ৩৫০ শতাংশ।'
‘কখনও পরমাণু অস্ত্র দেওয়া হবে না’
হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ এবং বৃহত্তর একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর প্রচেষ্টা নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলা অচলাবস্থার মধ্যেই ট্রাম্প এই মন্তব্য করেছেন। ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়েও কঠোর অবস্থান নিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি ফের স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, তেহরানকে কোনওভাবেই পরমাণু অস্ত্র অর্জনের অনুমতি দেওয়া হবে না। 'তারা কখনও পরমাণু অস্ত্র পাবে না,' তিনি বলেন। এর আগে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ইরান যদি পরমাণু অস্ত্র তৈরি করতে সক্ষম হয়, তাহলে তারা ইজরায়েল এবং এই অঞ্চলের অন্যান্য দেশের বিরুদ্ধে সেই অস্ত্র ব্যবহার করতে পারে। তিনি বারবার বলেছেন, ওয়াশিংটন কোনওভাবেই তেহরানকে এই ধরনের সক্ষমতা অর্জন করতে দেবে না।
{{/usCountry}}হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ এবং বৃহত্তর একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর প্রচেষ্টা নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলা অচলাবস্থার মধ্যেই ট্রাম্প এই মন্তব্য করেছেন। ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়েও কঠোর অবস্থান নিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি ফের স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, তেহরানকে কোনওভাবেই পরমাণু অস্ত্র অর্জনের অনুমতি দেওয়া হবে না। 'তারা কখনও পরমাণু অস্ত্র পাবে না,' তিনি বলেন। এর আগে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ইরান যদি পরমাণু অস্ত্র তৈরি করতে সক্ষম হয়, তাহলে তারা ইজরায়েল এবং এই অঞ্চলের অন্যান্য দেশের বিরুদ্ধে সেই অস্ত্র ব্যবহার করতে পারে। তিনি বারবার বলেছেন, ওয়াশিংটন কোনওভাবেই তেহরানকে এই ধরনের সক্ষমতা অর্জন করতে দেবে না।
{{/usCountry}}ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়ানোর সময়ই তাঁর সর্বশেষ এই মন্তব্য এসেছে। ট্রাম্প ব্যাপক নিষেধাজ্ঞার হুমকি দিয়েছেন এবং এই অভিযানকে 'ইকোনমিক ডি-ডে' হিসেবে বর্ণনা করেছেন। মার্কিন কর্মকর্তারাও ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, বর্তমানে তেহরানের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক চাপই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান হাতিয়ার।
একই ষাঁড়, শুধু তাদের ধরণ বদলেছে
অন্যদিকে ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি তেহরানের উপর ট্রাম্পের সর্বশেষ অর্থনৈতিক চাপের অভিযানের পাল্টা জবাব দিয়েছেন। তিনি এটিকে আরও একটি ব্যর্থ কৌশল বলে খারিজ করেছেন। এক্স হ্যান্ডেলে একটি পোস্টে আরাঘচি বলেন, '১৪ বছর আগে: ‘ইতিহাসের সবচেয়ে কঠোর নিষেধাজ্ঞা।’ ব্যর্থ। ৮ বছর আগে: ‘সর্বোচ্চ চাপ।’ ব্যর্থ। ৫ মাস আগে: ‘শর্তহীন আত্মসমর্পণ।’ ব্যর্থ। আজ: ‘এখন পর্যন্ত সবচেয়ে ধ্বংসাত্মক অর্থনৈতিক অভিযান।’ এটিও ব্যর্থ হতে বাধ্য। আমরা এই সিনেমা আগেও দেখেছি। আসলে একই ষাঁড়, শুধু তাদের ধরণ বদলেছে।' ইরানের বিদেশমন্ত্রী আরও অভিযোগ করেন, নিজেদের অর্থনৈতিক সমস্যাগুলি থেকে মানুষের নজর ঘোরাতেই ওয়াশিংটন শেষ পর্যন্ত এই ঘোষণা করেছে। তাঁর দাবি, তেহরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর মার্কিন কৌশল শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হবে, কারণ এর আগের অভিযানগুলিও তাদের নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জন করতে পারেনি।
মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কড়া জবাব ইরানের
এদিকে ইরান সতর্ক করেছে যে, তেহরানকে টার্গেট করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞা শুধু ইরানের জন্যই সমস্যা নয়, বরং বিশ্বের সব স্বাধীন দেশের সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি। ইরানের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই এই নিষেধাজ্ঞাগুলিকে 'নির্লজ্জ, পূর্ণমাত্রার ঔপনিবেশিকতায়' ফিরে যাওয়ার সম্ভাবনা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। বাঘাই বলেন, এই পদক্ষেপগুলি একটি নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক যুদ্ধের সীমা ছাড়িয়ে গিয়েছে। বরং তাঁর মতে, এগুলি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে রাষ্ট্রসংঘের সদস্য অন্যান্য দেশগুলির উপর নিজেদের কর্তৃত্ব বিস্তারের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রচেষ্টার অংশ। ইরানের মুখপাত্র বলেন, ওয়াশিংটন অন্যান্য দেশের সরকার, ব্যাঙ্ক, ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান এবং বিমানবন্দরগুলি কীভাবে ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য করবে, তা নির্ধারণ করে দিতে চাইছে।
ইরানের সংবাদ সংস্থা ফারস-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাঘাই বলেন, 'কোনও সরকারেরই অধিকার নেই যে বিদেশি ব্যাঙ্ক, ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান বা বিমানবন্দর-যেগুলি প্রত্যেকেই নিজেদের সার্বভৌমত্বের একচ্ছত্র এখতিয়ারের অধীনে পরিচালিত হয়-তাদের তৃতীয় কোনও দেশের সঙ্গে বৈধ বাণিজ্য করা থেকে বিরত থাকতে বাধ্য করবে।' তিনি সতর্ক করে বলেন, যে দেশগুলি এই ধরনের চাপের কাছে নতি স্বীকার করবে, তারা নিজেদের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের উপর নিয়ন্ত্রণ হারানোর ঝুঁকিতে পড়বে। অক্সফোর্ড ডিকশনারি অনুযায়ী, ঔপনিবেশিকতাকে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে এভাবে-'অন্য একটি দেশের উপর সম্পূর্ণ বা আংশিক রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ অর্জন, সেখানে বসতি স্থাপনকারীদের নিয়ে গিয়ে দেশটি দখল করা এবং অর্থনৈতিকভাবে শোষণ করার নীতি বা প্রক্রিয়া।'