ইজরায়েলের সঙ্গে মিলে ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের অভিযান শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। আগের বছর পর্যন্ত যে ট্রাম্প নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য হাপিত্যেশ করছিলেন, সেই ট্রাম্পই এখন রণংদেহী আকার ধারণ করেছেন। ইরানের বিরুদ্ধে 'অলআউট' হামলার কথা বলছেন ট্রাম্প। এই ট্রাম্প বহুবার '৮টি যুদ্ধ' বন্ধ করার দাবি করেছেন। তবে তিনি প্রায় একই সংখ্যক সামরিক পদক্ষেপের নির্দেশও দিয়েছেন। ইরানের আগে যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলায় প্রবেশ করে ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে অপহরণ করেছিল আমেরিকা। এর আগে ২০২৫ সালের মার্চে ইরাকের আল-আনবার প্রদেশে বিমান হামলায় চালিয়েছিল আমেরিকা। সেই অভিযানে আইএসআইএল সেকেন্ড কমান্ডার আবদুল্লা 'আবু খাদিজা' মল্লি মুসলিহ আল-রিফাইকে খতম করেছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।
২০২৫ সালের ডিসেম্বরে সিরিয়াতেও সামরিক অভিযান চালিয়েছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। সিরিয়ায় আইএসআইএল-এর ঘাঁটিতে হামলা চালায় আমেরিকা। পালিমারায় হামলায় দুই মার্কিন সেনা ও এক অনুবাদক নিহত হওয়ার পর এই হামলা চালানো হয়। ২০২৫ সালের মার্চ থেকে মে মাসে ইয়েমেনর হুথি বিদ্রোহী গোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এছাড়া ট্রাম্প প্রশাসন সোমালিয়ায় মার্কিন সামরিক অভিযানও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে। এখানে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে আল-শাবাব এবং আইএসআইএলের (আইএসআইএস) আঞ্চলিক শাখার মতো সশস্ত্র গোষ্ঠী মোকাবিলায় স্থানীয় সরকারের সাথে কাজ করছে। ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে সোমালিয়ায় বিমান হামলা ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এদিকে ট্রাম্প প্রশাসন নাইজেরিয়ায় হামলা চালিয়েছিল এবং নাইজেরিয়ান সামরিক বাহিনীকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য ১০০ মার্কিন সেনা মোতায়েন করেছে।
এদিকে ওয়াচডগ গ্রুপ এয়ারওয়ার্সের তথ্য উদ্ধৃত করে আল জাজিরা জানিয়েছে, গত সেপ্টেম্বর থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র লাতিন আমেরিকা এবং ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে মাদক পাচারের সন্দেহভাজন জাহাজগুলিতে কমপক্ষে ৪৫টি হামলা চালিয়েছে। এই হামলায় কমপক্ষে ১৫১ জন নিহত হয়েছেন। ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ধরতে 'অপারেশন অ্যাবসোলিউট রেজোলিউশন' চালায় যুক্তরাষ্ট্র। সেই হামলায় শতাধিক জনের মৃত্যু।