...
...
Next Story

ফের বোমা ফাটালেন ট্রাম্প! ভারতের উপর নয়া শুল্ক আরোপ US-র, বাণিজ্য চুক্তি কী...

দীর্ঘ দরকষাকষি এবং স্নায়ুযুদ্ধের পর বাণিজ্যচুক্তিতে ভারত-মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সমঝোতা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে প্রথম ঘোষণা করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং পরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

Published on: Feb 25, 2026, 13:26:43 IST
Advertisement

মার্কিন সুপ্রিম কোর্টে ধাক্কা খাওয়ার পরও ভারত থেকে আমদানি করা সোলার পণ্যের উপর ১২৬ শতাংশ প্রাথমিক শুল্ক আরোপ করলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই শুল্ক ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তির ক্ষেত্রে বড় ধাক্কা হতে পারে। ভারত ছাড়াও ইন্দোনেশিয়া এবং লাওসের মতো দেশ থেকে আমদানি করা সৌর প্যানেলের উপরও শুল্ক আরোপ করা হচ্ছে।

ভারতের উপর নয়া শুল্ক আরোপ US-র
ভারতের উপর নয়া শুল্ক আরোপ US-র

মার্কিন বাণিজ্য বিভাগ ভারত থেকে আমদানি করা সোলার পণ্যের উপর ১২৬ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা করেছে। মার্কিন বাণিজ্য বিভাগের দাবি, নয়া দিল্লি দেশের সোলার প্যানেল প্রস্তুতকারী সংস্থাগুলিকে বিপুল পরিমাণ ভর্তুকি দেয়। এই ভর্তুকির জেরে ভারত অন্য দেশগুলিতে অনেক কম দামে সেগুলি বিক্রি করতে পারে। এর জেরে মার্কিন সংস্থাগুলির ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। মার্কিন সংস্থাগুলির অভিযোগের ভিত্তিতেই এই পদক্ষেপ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ইন্দোনেশিয়ার ক্ষেত্রে ৮৬ শতাংশ থেকে ১৪৩ শতাংশ এবং লাওসের ক্ষেত্রে ৮১ শতাংশ পর্যন্ত প্রাথমিক শুল্ক নির্ধারণ করা হয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্টের দাবি, এই ভর্তুকির ফলে বিদেশি সংস্থাগুলি দেশীয় নির্মাতাদের তুলনায় কম দামে পণ্য বিক্রি করতে পেরেছে। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, মার্কিন নির্মাতাদের লাভবান করার লক্ষ্যেই এই শুল্ক আরোপের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

দীর্ঘ দরকষাকষি এবং স্নায়ুযুদ্ধের পর বাণিজ্যচুক্তিতে ভারত-মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সমঝোতা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে প্রথম ঘোষণা করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং পরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সেই ঘোষণার পর অন্তর্বর্তী সমঝোতা নিয়ে যৌথ বিবৃতি দিয়েছে দুই দেশ। তার পরেই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কেন্দ্রীয় বাণিজ্যমন্ত্রী পীষূষ গোয়েল জানান, ভারতীয় পণ্যে শুল্কের হার ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৮ শতাংশ করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এরমধ্যেই ২০ ফেব্রুয়ারি মার্কিন সুপ্রিম কোর্টে বড় ধাক্কা খান প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তাঁর চাপানো অতিরিক্ত আমদানিশুল্ক বা ‘ট্যারিফ’ বাতিল করে দেয় সে দেশের সুপ্রিম কোর্ট। সে দেশের শীর্ষ আদালত সাফ জানায়, ঢালাও শুল্ক বসিয়ে আসলে নিজের ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন ট্রাম্প। জরুরি অবস্থার জন্য তোলা থাকা একটি আইনকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে তিনি এই কর চাপিয়েছিলেন, যা একেবারেই নিয়মবিরুদ্ধ।

ব্লুমবার্গএনইএফ-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের প্রথম ছয় মাসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মোট সোলার মডিউল আমদানির ৫৭ শতাংশ এসেছে ভারত, ইন্দোনেশিয়া এবং লাওস থেকে। রিপোর্ট বলছে, ২০২৪ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভারত থেকে সৌর সামগ্রী আমদানির করেছিল প্রায় ৭৯২.৬ মিলিয়ন ডলারের। ভারতীয় মুদ্রায় এর মূল্য প্রায় ৬,৬০০ কোটি টাকা। যা ২০২২ সালের তুলনায় ৯ গুন বেশি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সোলার ম্যানুফ্যাকচারিং অ্যান্ড ট্রেড জোটের পক্ষে আইনজীবী টিম ব্রাইটবিল বলেন, ‘আজকের এই সিদ্ধান্ত মার্কিন সোলার বাজারে ন্যায্য প্রতিযোগিতা ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। মার্কিন নির্মাতারা দেশীয় উৎপাদন বাড়াতে এবং ভালো বেতনের চাকরি তৈরি করতে বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছে। অন্যায্য ভাবে আমদানি করা পণ্য বাজারে বিকৃত পরিস্থিতি তৈরি করলে সেই বিনিয়োগ সফল হবে না।’

 
SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe