ইরানে শীঘ্রই যুদ্ধ শেষ হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি গতকাল এক অনুষ্ঠানে বলেন, 'আমেরিকা ইতিমধ্যেই অনেক দিক দিয়ে এই যুদ্ধ জিতেছে। তবে এখনও সবটা জেতা হয়নি।' তবে ট্রাম্পের কথায়, 'এই যুদ্ধ প্রায় সম্পন্ন হয়ে গিয়েছে এবং তা প্রায় শেষের পথে।' এরই সঙ্গে ইরানকে 'কোনও বাজে কাণ্ড' না ঘটানোর জন্য হুঁশিয়ারি দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তবে ট্রাম্পের এই সব দাবি ঘিরেই এবার প্রশ্ন উঠছে, ইরান যুদ্ধে কি পথ হারিয়ে পালানোর পথ খুঁজছে আমেরিকা? কারণ খামেনেইকে খতম করতে সক্ষম হলেও আমেরিকা নিজের ইচ্ছে মতো শাসক বসাতে পারেনি ইরানে। বরং খামেনেই পুত্র মোজতাবা ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হয়েছেন ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি সত্ত্বেও। এদিকে ইরানের তেলও আমেরিকা পায়নি। মার্কিন গোয়েন্দা রিপোর্টে বলা হয়েছে, যুদ্ধ দীর্ঘ চললেও ইরানের ইসলামি মৌলবাদী শাসন ব্যবস্থা শেষ করা খুবই কঠিন হবে। এই হবে যুদ্ধ জয় নিয়ে বড় বড় দাবি করে ইরান যুদ্ধ থেকে নিজেদের গোটাতে চাইছে আমেরিকা?

ট্রাম্পের কথায়, 'ইরানের কোনও নৌবাহিনী নেই, তাদের যোগাযোগ ব্যবস্থা ভএঙে পড়েছে, তাদের কোনও বায়ুসেনা নেই। ইরানের মিসাইলের সংখ্যাও কমে এসেছে। ইরানের ড্রোনকে জায়গায় জায়গায় ধ্বংস করা হচ্ছে। তাদের ড্রোন তৈরি করার সক্ষমতাকেও খতম করা হয়েছে। তাই সামরিক ভাবে এখন আর কিছু করার বাকি নেই।' এর আগে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, এই যুদ্ধ ৪-৫ সপ্তাহ চলতে পারে। তবে এখন তিনি দাবি করছেন, এই সংঘাত দ্রুত শেষ হয়ে যেতে পারে। এই আবহে প্রশ্ন উঠছে, ট্রাম্প কি তবে মুখ বাঁচিয়ে ইরান যুদ্ধ থেকে মার্কিন সেনাকে গোটাতে চাইছেন? এই প্রশ্ন আরও বেশি জোরালো হচ্ছে, কারণ, ট্রাম্পের এই মন্তব্যের কয়েক ঘণ্টা আগেই মার্কিন যুদ্ধ দফতর দাবি করে, ইরানে যুদ্ধ সবে মাত্র শুরু হয়েছে। এদিকে ইরানকে ট্রাম্প হুমকি দেন, 'ইরানের যা যা মিসাইল ছোড়ার ছিল, তারা ছুড়ে দিয়েছে। এরপর যেন তারা ভুলভাল কিছু করতে না যায়, তাহলে সেই দেশকে শেষ করে দেওয়া হবে।'
এর আগে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান প্রতিবেশী দেশগুলির কাছে হামলার জন্য 'ক্ষমা' চেয়েছিলেন। তাঁর সাফ বক্তব্য ছিল, প্রতিবেশী দেশে হামলা চালালেও ইরান আদতে আমেরিকার ঘাঁটি লক্ষ্য করে মিসাইল ছুড়ছে। সেই 'ক্ষমা' আদতে বার্তা ছিল- ইরানের বিরুদ্ধে যদি আরব দেশগুলি আমেরিকাকে সাহায্য করে, তাহলে তাদের কপাল এভাবেই পুড়তে থাকবে। তবে সেই 'ক্ষমাপ্রার্থনা'কে আমেরিকার বন্ধুরাষ্ট্রগুলির (আরব রাষ্ট্রগুলির) কাছে ইরানের 'আত্মসমর্পণ' হিসেবে তুলে ধরেছিলেন ট্রাম্প। এরপরেই পশ্চিম এশিয়ার একাধিক দেশে ফের ইরানের মিসাইল আছড়ে পড়েছিল। আমেরিকার একাধিক রাডার ব্যবস্থা ধ্বংস করে ইরান। এই সব রাডার ব্যবস্থাগুলির সম্মিলিত মূল্য কয়েক বিলিয়ন ডলার হবে। এই আবহে পশ্চিম এশিয়ায় নিজেদের 'চোখ-কান' হারিয়েছে আমেরিকা। এবং আমেরিকার সাতজন সেনা এখনও পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছেন এই যুদ্ধে।
{{/usCountry}}এর আগে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান প্রতিবেশী দেশগুলির কাছে হামলার জন্য 'ক্ষমা' চেয়েছিলেন। তাঁর সাফ বক্তব্য ছিল, প্রতিবেশী দেশে হামলা চালালেও ইরান আদতে আমেরিকার ঘাঁটি লক্ষ্য করে মিসাইল ছুড়ছে। সেই 'ক্ষমা' আদতে বার্তা ছিল- ইরানের বিরুদ্ধে যদি আরব দেশগুলি আমেরিকাকে সাহায্য করে, তাহলে তাদের কপাল এভাবেই পুড়তে থাকবে। তবে সেই 'ক্ষমাপ্রার্থনা'কে আমেরিকার বন্ধুরাষ্ট্রগুলির (আরব রাষ্ট্রগুলির) কাছে ইরানের 'আত্মসমর্পণ' হিসেবে তুলে ধরেছিলেন ট্রাম্প। এরপরেই পশ্চিম এশিয়ার একাধিক দেশে ফের ইরানের মিসাইল আছড়ে পড়েছিল। আমেরিকার একাধিক রাডার ব্যবস্থা ধ্বংস করে ইরান। এই সব রাডার ব্যবস্থাগুলির সম্মিলিত মূল্য কয়েক বিলিয়ন ডলার হবে। এই আবহে পশ্চিম এশিয়ায় নিজেদের 'চোখ-কান' হারিয়েছে আমেরিকা। এবং আমেরিকার সাতজন সেনা এখনও পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছেন এই যুদ্ধে।
{{/usCountry}}সব মিলিয়ে আমেরিকার এখন যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছে না থাকলেও তারা এই যুদ্ধে ফেঁসে গিয়েছে বলে অনেকের মত। এই সংঘাতে ইজরায়েলের থেকে বেশি ক্ষতি যেন আমেরিকার হচ্ছে। কাতার, কুয়েত, সৌদিতে তাদের সামরিক ঘাঁটি থেকে শুরু করে দূতাবাসে হামলা চলছে। এদিকে আমেরিকার জন্য আরব দেশগুলির ক্ষতি হওয়ায় ট্রাম্পের ওপর চটে আছে তারা। এরই সঙ্গে হরমুজ প্রণালীতে ইরান তাণ্ডব চালানোর জেরে গোটা বিশ্বের অর্থনীতিতে ধস নামার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। তেলের সংকটে ভুগতে পারে গোটা বিশ্ব। এই আবহে ট্রাম্প বারবার দাবি করতে চাইছেন, ইরান বিরুদ্ধে আমেরিকা জয়ী হয়েছে। তাই এই যুদ্ধের আর কোনও প্রয়োজন নেই। তবে আদতে এই সংঘাত এখনও জারি রয়েছে। পশ্চিম এশিয়া জ্বলছে।