ন্যাটোর অন্যান্য মিত্রদের ওপর প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরান যুদ্ধের মাঝখানে ন্যাটোভুক্ত দেশগুলো আমেরিকাকে সাহায্য করতে অস্বীকার করেছে। এই আবহে ন্যাটো থেকে প্রত্যাহার করার হুমকিও দিয়েছে আমেরিকা। এই পরিস্থিতিতে ইউক্রেন এর 'ফল' ভুগতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। ইউক্রেন গত ৪ বছর ধরে রাশিয়ার সাথে যুদ্ধ করছে। আর এখন ইরান যুদ্ধে বলির পাঁঠা হতে পারে তারা। প্রতিবেদনে বলা হয়, ইউরোপীয় দেশগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টির জন্য ইউক্রেনে অস্ত্র সরবরাহ বন্ধের কথা বলছেন ট্রাম্প।
ফিনান্সিয়াল টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প সম্প্রতি ইউক্রেনে অস্ত্র সরবরাহ বন্ধের হুমকি দিয়েছেন। সূত্র উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের হুমকির উদ্দেশ্য, হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত রাখতে আমেরিকাকে সহায়তা করার জন্য পশ্চিমা দেশগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি করা। বিশ্লেষকদের মতে, ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে চলমান যুদ্ধের মধ্যে ন্যাটো মিত্রদের জন্য ট্রাম্পের বক্তব্য অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয়। ইতিমধ্যেই ইরান যুদ্ধের আবহে রাশিয়ার তেলের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করেছে আমেরিকা। এর ফলে আপাতত বেশ স্বস্তিতে আছে রাশিয়া।
উল্লেখ্য, ইরান যুদ্ধে নিজেদের সামরিক ঘাঁটি ব্যবহার করতে দিতে অস্বীকার করেছে ফ্রান্স, স্পেন এবং ইতালি সহ একাধিক ইউরোপীয় দেশ। এমনকী জাপান বা অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশও আমেরিকাকে সহায়তা করতে এগিয়ে আসেনি। এদিকে হরমুজ উন্মুক্ত রাখতে ট্রাম্প যে জোট গড়ার কথা বলেছে, তাতে যোগ দেয়নি ইউরোপীয় দেশগুলি। ইউরোপীয় দেশগুলো বলছে, এটা তাদের লড়াই নয়। এদিকে ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে ন্যাটোর সমালোচনা করে আসছেন। এই আবহে তিনি বারবার ন্যাটো থেকে আমেরিকাকে প্রত্যাহার করার হুমকি দিয়ে আসছেন। ন্যাটোর ইউরোপীয় দেশগুলিks 'পেপার টাইগার' বলে কটাক্ষও করেছেন ট্রাম্প। যদিও ন্যাটো থেকে আমেরিকাকে প্রত্যাহার করতে হলে মার্কিন সংসদের 'পরামর্শ ও সম্মতি' নিতে হয়। যার জন্য দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রয়োজন।