ভারত–আমেরিকা সম্পর্ককে আরও একধাপ এগিয়ে নিয়ে যেতে আগামী বছরের শুরুর দিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভারত সফরের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। শুক্রবার এই তথ্য জানিয়েছেন মার্কিন বিদেশমন্ত্রী মার্কো রুবিও। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বৈঠকের পর দুই দেশের কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক নতুন গতি পেয়েছে। একইসঙ্গে চলতি বছরের শেষের দিকে তিনি নিজেও ভারত সফরে আসবেন বলে জানিয়েছেন।

আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা আইএএনএস-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রুবিও বলেন, জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী মোদী ও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মধ্যে অত্যন্ত ইতিবাচক বৈঠক হয়েছে। সেই আলোচনার ধারাবাহিকতায় ভারত ও আমেরিকার মধ্যে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত বাণিজ্য চুক্তি এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। তাঁর কথায়, 'চুক্তি সম্পন্ন করতে আমরা শেষ ধাপে পৌঁছে গিয়েছি এবং অগ্রগতি অত্যন্ত ইতিবাচক। খুব শীঘ্রই কোয়াড বৈঠকেও আবার দুই দেশ একসঙ্গে অংশ নেবে। পাশাপাশি আগামী বছরের প্রথম দিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ভারত সফরের পরিকল্পনাও করা হচ্ছে।'
ট্রাম্পের এই সফর বাস্তবায়িত হলে ২০২০ সালের পর এটাই হবে তাঁর প্রথম ভারত সফর। সে সময় তিনি দিল্লি, আগ্রা ও আহমেদাবাদ সফর করেছিলেন। আহমেদাবাদের মোতেরায় আয়োজিত ‘নমস্তে ট্রাম্প’ অনুষ্ঠানে এক লক্ষেরও বেশি মানুষের উপস্থিতি আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল। সেই সফরের স্মৃতি এখনও দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হয়।
এদিকে ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোরও মোদী-ট্রাম্প বৈঠককে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন। তাঁর দাবি, দুই রাষ্ট্রনেতার আলোচনায় প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, অর্থনৈতিক সম্পর্ক এবং কৌশলগত অংশীদারিত্বের মতো একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে এসেছে। আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই এই বৈঠকের ভিত্তিতে বেশ কিছু বড় ঘোষণা হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
{{/usCountry}}এদিকে ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোরও মোদী-ট্রাম্প বৈঠককে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন। তাঁর দাবি, দুই রাষ্ট্রনেতার আলোচনায় প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, অর্থনৈতিক সম্পর্ক এবং কৌশলগত অংশীদারিত্বের মতো একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে এসেছে। আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই এই বৈঠকের ভিত্তিতে বেশ কিছু বড় ঘোষণা হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
{{/usCountry}}গোর বলেন, ভারত–আমেরিকা সম্পর্কের সবচেয়ে বড় শক্তি হল প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও প্রধানমন্ত্রী মোদীর ব্যক্তিগত বন্ধুত্ব। সংবাদমাধ্যমে নানা জল্পনা তৈরি হলেও বাস্তবে দুই নেতার সম্পর্ক অত্যন্ত দৃঢ় এবং বহু বছরের। তাঁর কথায়, ‘দুই নেতা যখনই কথা বলেন, তখনই ইতিবাচক কিছু ঘটে। ভারতে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই আমার লক্ষ্য ছিল দুই দেশের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখা এবং এমন সুযোগ খুঁজে বের করা, যাতে উভয় দেশই সমানভাবে লাভবান হয়।’ কূটনৈতিক মহলের মতে, সম্ভাব্য বাণিজ্য চুক্তি, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এবং ট্রাম্পের সম্ভাব্য ভারত সফর—এই তিনটি বিষয় আগামী দিনে ভারত–আমেরিকা সম্পর্ককে আরও নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।