এক দিকে রাজকীয় আয়োজন, অন্য দিকে টেবিলে একের পর এক কঠিন প্রশ্ন। বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে চিনের প্রেসিডেন্ট শি চিনফিংকে নিয়ে এমনই ব্যস্ততায় কাটল আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দিন। দুই রাষ্ট্রপ্রধানের বৈঠকে বাণিজ্য, তাইওয়ান, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা নিয়ে কথা হলেও বড় কোনও সমঝোতার লক্ষণ দেখা যায়নি।

শি'কে স্বাগত জানাতে হোয়াইট হাউসে ছিল জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজন। দিনের শেষে ট্রাম্প তাঁর সম্মানে নৈশভোজের আয়োজন করেন। সেখানে আমেরিকার প্রযুক্তি ও ব্যবসা জগতের একাধিক পরিচিত মুখ হাজির ছিলেন। ইলন মাস্ক, টিম কুক, জেনসেন হুয়াং এবং স্যাম অল্টম্যানের মতো শিল্পপতিদের উপস্থিতি থেকেই বোঝা যায়, দুই দেশের সম্পর্কের মধ্যে বাণিজ্য এবং প্রযুক্তির গুরুত্ব এখন কতটা বেড়েছে।
নৈশভোজে ট্রাম্প শি'র সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত সম্পর্কের কথা তুলে ধরেন। দুই দেশ আলাদা রাজনৈতিক ব্যবস্থায় চললেও দুই দেশের মানুষের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের বলে মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর বক্তব্যে আমেরিকা ও চিনের মধ্যে সহযোগিতা বাড়িয়ে ভবিষ্যতে উন্নতি এবং নিরাপত্তার পথ তৈরি করার কথাও উঠে আসে।
অন্য দিকে শি-ও বলেন, আমেরিকার লক্ষ্য যেমন দেশকে আরও শক্তিশালী করা, তেমনই চিনের লক্ষ্য জাতীয় উন্নয়নকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। তাঁর মতে, দুই দেশের এই লক্ষ্য একে অপরের সঙ্গে সংঘর্ষে না গিয়ে পরস্পরকে সাহায্য করতে পারে।
বাণিজ্যের ক্ষেত্রে আপাতত উত্তেজনা কিছুটা কমানোর চেষ্টা হয়েছে। আমেরিকা এবং চিন নিজেদের বাণিজ্য বিরতি আরও দুই মাস বাড়িয়েছে। এর আগে নভেম্বর মাসে চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল। নতুন সিদ্ধান্তে সেই সময়সীমা জানুয়ারি ১০ পর্যন্ত গড়িয়েছে বলে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানিয়েছেন।
{{/usCountry}}বাণিজ্যের ক্ষেত্রে আপাতত উত্তেজনা কিছুটা কমানোর চেষ্টা হয়েছে। আমেরিকা এবং চিন নিজেদের বাণিজ্য বিরতি আরও দুই মাস বাড়িয়েছে। এর আগে নভেম্বর মাসে চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল। নতুন সিদ্ধান্তে সেই সময়সীমা জানুয়ারি ১০ পর্যন্ত গড়িয়েছে বলে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানিয়েছেন।
{{/usCountry}}তবে মূল সমস্যাগুলি এখনও মেটেনি। চিনের কাছ থেকে কৃষিপণ্য কেনা, শুল্ক, বিরল খনিজের সরবরাহ এবং উন্নত প্রযুক্তি নিয়ে দুই দেশের মতভেদ রয়েছে। আমেরিকার দাবি, কিছু ক্ষেত্রে চিন আগের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কাজ করছে না। ফলে বাণিজ্য নিয়ে আরও আলোচনার প্রয়োজন থাকছে।
তাইওয়ান নিয়েও শি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন। বেজিং চায়, তাইওয়ানের স্বাধীনতার প্রশ্নে ওয়াশিংটন যেন সাবধানে অবস্থান নেয়। আমেরিকার দীর্ঘদিনের নীতি হল, তারা তাইওয়ানের স্বাধীনতাকে সমর্থন করে না। তবে এই বৈঠকের পর সেই অবস্থানে নতুন কোনও পরিবর্তনের ঘোষণা হয়নি।
আরও একটি বড় বিষয় ছিল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই। ট্রাম্প এআই নিয়ে নতুন করে কঠোর নিয়ম চাপানোর পক্ষে না গিয়ে আমেরিকার বিচার দফতরের উপর নির্ভর করার কথা বলেছেন। শি অবশ্য অন্য সুরে বলেছেন, এআইয়ের উন্নয়ন মানুষের নিয়ন্ত্রণে থাকা দরকার এবং এর ব্যবহার সাধারণ মানুষের কল্যাণে হওয়া উচিত।
দুই দেশের মধ্যে সামরিক সংঘাতের আশঙ্কাও আলোচনার বাইরে থাকেনি। শি ফের সতর্ক করে বলেছেন, আমেরিকা ও চিনের সম্পর্ক যেন সেই পরিস্থিতিতে না যায় যেখানে এক পক্ষের উত্থান অন্য পক্ষের কাছে হুমকি হয়ে দাঁড়ায়। তাঁর মতে, দুই দেশের মধ্যে প্রতিযোগিতা থাকতে পারে, কিন্তু তা যেন সরাসরি সংঘাতে না গড়ায়। নিয়মিত সামরিক যোগাযোগ এবং সংকট মোকাবিলার ব্যবস্থা আরও শক্ত করার পক্ষেও সওয়াল করেছেন তিনি।
সব মিলিয়ে, শি'কে ঘিরে ট্রাম্পের আয়োজন ছিল চোখ ধাঁধানো। কিন্তু সেই জাঁকজমকের আড়ালে বাণিজ্য, তাইওয়ান, এআই এবং নিরাপত্তা নিয়ে পুরনো টানাপোড়েন থেকেই গেল। বৈঠকে আলোচনার দরজা খোলা থাকলেও বড় কোনও সমস্যার স্থায়ী সমাধান এখনও হয়নি।