মাঝ আকাশে অল্পের জন্য এড়ানো গেল সম্ভাব্য বড় দুর্ঘটনা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বহনকারী সরকারি হেলিকপ্টার ‘মেরিন ওয়ান’-এর খুব কাছ দিয়ে উড়ে যায় একটি যাত্রীবাহী বিমান। কয়েক সেকেন্ডের জন্য তৈরি হয় চরম উদ্বেগের পরিস্থিতি। যদিও শেষ মুহূর্তে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে দুটি উড়ান আলাদা হয়ে যায়। ঘটনায় কেউ আহত হননি এবং কোনও ক্ষয়ক্ষতির খবরও নেই। তবু ঘটনাটিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত শুরু করেছে মার্কিন ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) এবং ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড (এনটিএসবি)।

একাধিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মঙ্গলবার বিকেলে হোয়াইট হাউস থেকে অ্যান্ড্রুস জয়েন্ট বেসের উদ্দেশে রওনা দেয় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সরকারি হেলিকপ্টার ‘মেরিন ওয়ান’। প্রায় একই সময়ে ওয়াশিংটনের একটি বিমানবন্দর থেকে উড়ান শুরু করে আমেরিকান এয়ারলাইন্সের একটি যাত্রীবাহী বিমান। আকাশে ওঠার কিছুক্ষণের মধ্যেই দুটি উড়ান বিপজ্জনকভাবে কাছাকাছি চলে আসে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা এবং প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, যাত্রীবিমানটি প্রেসিডেন্টের হেলিকপ্টারের খুব কাছ দিয়ে চলে যায়। কয়েক মুহূর্তের জন্য পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হয়ে উঠলেও দ্রুত দুই উড়ানের গতিপথ আলাদা করে দেওয়া হয়। ফলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়। ঘটনার সময় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হেলিকপ্টারেই ছিলেন বলে জানা গিয়েছে।
কী কারণে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে এফএএ জানিয়েছে, দুটি উড়ানের মধ্যে যে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখার কথা, তাতে সাময়িক বিচ্যুতি ঘটেছিল। তবে বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা দ্রুত সক্রিয় হওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। সেই কারণেই কোনও দুর্ঘটনা ঘটেনি।
ঘটনার পরই তদন্তে নেমেছে এফএএ এবং এনটিএসবি। বিমান চলাচলের রাডার তথ্য, এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের অডিয়ো রেকর্ড, উড়ানের গতিপথ এবং সংশ্লিষ্ট পাইলটদের সঙ্গে যোগাযোগের সমস্ত তথ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঠিক কোথায় সমন্বয়ের ঘাটতি হয়েছিল এবং কী কারণে দুটি উড়ান এত কাছাকাছি চলে এসেছিল, তা জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা।
{{/usCountry}}ঘটনার পরই তদন্তে নেমেছে এফএএ এবং এনটিএসবি। বিমান চলাচলের রাডার তথ্য, এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের অডিয়ো রেকর্ড, উড়ানের গতিপথ এবং সংশ্লিষ্ট পাইলটদের সঙ্গে যোগাযোগের সমস্ত তথ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঠিক কোথায় সমন্বয়ের ঘাটতি হয়েছিল এবং কী কারণে দুটি উড়ান এত কাছাকাছি চলে এসেছিল, তা জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা।
{{/usCountry}}মার্কিন প্রেসিডেন্টের সফরের সময় আকাশপথে সাধারণত অত্যন্ত কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা বলবৎ থাকে। প্রেসিডেন্টের হেলিকপ্টার বা বিমান উড়লে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য আকাশসীমার একটি অংশ নিয়ন্ত্রিত রাখা হয়। সেই পরিস্থিতিতেও কীভাবে একটি বাণিজ্যিক বিমান এত কাছে পৌঁছে গেল, তা নিয়েই উঠছে প্রশ্ন।
যদিও এই ঘটনায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নিরাপত্তায় কোনও ফাঁক ছিল কি না, সে বিষয়ে এখনও কিছু জানানো হয়নি। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছতে চাইছে না মার্কিন প্রশাসন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক বিমান চলাচল ব্যবস্থায় একাধিক নিরাপত্তা স্তর থাকায় এ ধরনের পরিস্থিতিতেও দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়। তবে রাষ্ট্রপ্রধানকে বহনকারী উড়ানের এত কাছে অন্য একটি বিমান পৌঁছে যাওয়া অত্যন্ত বিরল ঘটনা। তাই ভবিষ্যতে যাতে এমন পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সেই লক্ষ্যেই ঘটনার প্রতিটি দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।