...
...
Next Story

DRDO Launches SHIELD Program: ডিআরডিও শিল্ড প্রোগ্রামের সূচনা! হাই-পাওয়ার মাইক্রোওয়েভ প্রযুক্তিতে ভারতের নয়া পদক্ষেপ

প্রকল্পটি ডিআরডিওর প্রযুক্তি উন্নয়ন তহবিলের আওতায় নেওয়া হয়েছে। এই তহবিলের মূল উদ্দেশ্য হল দেশীয় শিল্প সংস্থা, নতুন প্রযুক্তি সংস্থা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলির সহযোগিতায় গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির উন্নয়ন ঘটানো। শিল্ডের ক্ষেত্রেও বেসরকারি প্রযুক্তি সংস্থাগুলিকে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

Published on: Sep 7, 2026, 09:09:43 IST
Advertisement

DRDO Launches SHIELD Program: প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির ক্ষেত্রে আরও এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ করল ভারত। দেশের প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা ডিআরডিও শুরু করেছে শিল্ড কর্মসূচি। এই প্রকল্পের লক্ষ্য হল এস-ব্যান্ডের উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন মাইক্রোওয়েভ মূল্যায়ন ব্যবস্থা তৈরি করা। এর মাধ্যমে শক্তিশালী মাইক্রোওয়েভ তরঙ্গের প্রভাবে বিভিন্ন বৈদ্যুতিন ব্যবস্থা কতটা ক্ষতিগ্রস্ত বা অচল হতে পারে, তা নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে পরীক্ষা করা সম্ভব হবে।

দেশের প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা ডিআরডিও শুরু করেছে শিল্ড কর্মসূচি।
দেশের প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা ডিআরডিও শুরু করেছে শিল্ড কর্মসূচি।

প্রকল্পটি ডিআরডিওর প্রযুক্তি উন্নয়ন তহবিলের আওতায় নেওয়া হয়েছে। এই তহবিলের মূল উদ্দেশ্য হল দেশীয় শিল্প সংস্থা, নতুন প্রযুক্তি সংস্থা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলির সহযোগিতায় গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির উন্নয়ন ঘটানো। শিল্ড প্রকল্পের ক্ষেত্রেও বেসরকারি প্রযুক্তি সংস্থাগুলিকে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

শিল্ড প্রকল্পের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি হল উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন মাইক্রোওয়েভ ব্যবস্থা। প্রচলিত অস্ত্র যেখানে বিস্ফোরণ, গুলি বা সরাসরি আঘাতের মাধ্যমে লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করে, সেখানে এই প্রযুক্তি শক্তিশালী তড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গ ব্যবহার করে বৈদ্যুতিন যন্ত্রপাতির উপর প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে কোনও রাডার, যোগাযোগ ব্যবস্থা, বিভিন্ন ধরনের সেন্সর, নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা বা অন্যান্য বৈদ্যুতিন যন্ত্রের কার্যক্ষমতা ব্যাহত হতে পারে।

এই প্রকল্পের মাধ্যমে মূলত এই ধরনের আক্রমণের প্রভাব কীভাবে কাজ করে, তা পরীক্ষা ও বিশ্লেষণ করার সক্ষমতা গড়ে তুলতে চাইছে ডিআরডিও। একই সঙ্গে ভারতীয় সামরিক সরঞ্জাম ভবিষ্যতে এই ধরনের বৈদ্যুতিন আক্রমণের বিরুদ্ধে কতটা সুরক্ষিত, সেটিও যাচাই করা যাবে।

প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় স্পন্দিত কার্যপ্রণালী এবং পরিবর্তনশীল কর্তব্যচক্র রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। ফলে বিভিন্ন ধরনের মাইক্রোওয়েভ তরঙ্গ প্রয়োগ করে তার প্রভাব আলাদাভাবে পরীক্ষা করা যাবে। দূরবর্তী অবস্থান থেকে নির্দিষ্ট মাত্রার বৈদ্যুতিক ক্ষেত্র তৈরি করে বিভিন্ন বৈদ্যুতিন যন্ত্রের সহনশীলতাও যাচাই করা সম্ভব হবে।

এই প্রকল্পের গুরুত্ব বিশেষ করে ড্রোন-বিরোধী যুদ্ধব্যবস্থার ক্ষেত্রে যথেষ্ট। আধুনিক যুদ্ধে ছোট ড্রোন থেকে শুরু করে একসঙ্গে বহু ড্রোনের ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। ফলে শুধুমাত্র প্রচলিত ক্ষেপণাস্ত্র বা আগ্নেয়াস্ত্রের উপর নির্ভর না করে বৈদ্যুতিন ও শক্তিনির্ভর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার গুরুত্বও বাড়ছে। শক্তিশালী মাইক্রোওয়েভ প্রযুক্তি ভবিষ্যতে এমন ড্রোনের বৈদ্যুতিন ব্যবস্থা অচল করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।

এছাড়াও এই প্রকল্প ভারতের দিকনির্দেশিত শক্তি-ভিত্তিক অস্ত্র প্রযুক্তি এবং বৈদ্যুতিন যুদ্ধক্ষমতা আরও শক্তিশালী করার পথ খুলে দিতে পারে। শত্রুর যোগাযোগ ব্যবস্থা, সেন্সর বা অন্যান্য বৈদ্যুতিন সরঞ্জামকে অকার্যকর করার পাশাপাশি নিজেদের সরঞ্জামকে একই ধরনের আক্রমণ থেকে সুরক্ষিত রাখার ক্ষেত্রেও গবেষণাটি গুরুত্বপূর্ণ হবে।

তবে শিল্ড প্রকল্পকে এখনই কোনও পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধাস্ত্র হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। এটি মূলত একটি মূল্যায়ন ও পরীক্ষামূলক ব্যবস্থা, যার মাধ্যমে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন মাইক্রোওয়েভ প্রযুক্তির কার্যকারিতা, সীমাবদ্ধতা এবং সম্ভাব্য সামরিক ব্যবহার পরীক্ষা করা হবে।

সব মিলিয়ে, শিল্ড কর্মসূচি ভারতের প্রতিরক্ষা গবেষণায় একটি তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ। দিকনির্দেশিত শক্তি, বৈদ্যুতিন যুদ্ধ এবং ড্রোন-বিরোধী প্রতিরক্ষা—এই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে দেশীয় সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি ভবিষ্যতের যুদ্ধক্ষেত্রে বৈদ্যুতিন শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের দৌড়েও ভারতকে আরও এক ধাপ এগিয়ে দিতে পারে এই উদ্যোগ।

 
ABOUT THE AUTHOR
Abhijit Chowdhury

২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।

SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe