Saudi drone attack: সৌদি আরবের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত একটি তেল কেন্দ্রে ড্রোন হামলা প্রতিহত করার পর খসে পড়া ধ্বংসাবশেষের আঘাতে দুই বিদেশি নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে। এই আকস্মিক ঘটনায় আরও দুইজন আহত হয়েছেন, যার মধ্যে একজন ভারতীয় নাগরিক রয়েছেন। দেশটির জ্বালানি মন্ত্রক জানিয়েছে যে, সংযুক্ত আরব আমিরশাহির সীমান্তসংলগ্ন শায়বা তেল ক্ষেত্রটিকে লক্ষ্য করে এই ড্রোনটি ছোঁড়া হয়েছিল। তবে ঠিক কারা এই হামলার পেছনে রয়েছে, সে বিষয়ে মন্ত্রকের তরফে তাৎক্ষণিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। এই পরিস্থিতিতে সৌদি আরব থেকে মার্কিন দূতাবাসের কিছু কর্মী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের দেশটি ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।

এই ধারাবাহিক হামলার পেক্ষাপটে মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট সৌদি আরব থেকে তাদের সমস্ত সরকারি অনতিপ্রয়োজনী কর্মী এবং তাঁদের পরিবারকে অবিলম্বে দেশ ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে। গত বুধবার মার্কিন বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র টমি পিগট এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। হুথিদের ক্রমবর্ধমান বিমানবন্দর ও ভূখণ্ডমুখী হামলার প্রেক্ষিতেই এই সুরক্ষা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে তিনি এক্স হ্যান্ডেলে লিখেছেন। তাঁর কথায়, 'মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের কর্মী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা আমাদের কাছে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।' টমি পিগট বলেছেন, ইরানের সমর্থনপুষ্ট হুথিরা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে ক্রমেই বেশি শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ডে জড়াচ্ছে। এর মধ্যে দেশটির বেসামরিক বিমানবন্দর-সহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোয় হামলাও রয়েছে। এসব হামলায় মানুষ হতাহত হচ্ছেন। পাশাপাশি, যাতায়াতব্যবস্থায় মারাত্মক বিঘ্ন ঘটছে।
সৌদি আরবের সরকারি এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে যে, এই হামলার চেষ্টা দুই ব্যক্তির প্রাণ কেড়ে নিয়েছে, যাদের একজন ফিলিপাইনের এবং অন্যজন নেপালের নাগরিক। এছাড়া আহত দুই ব্যক্তির মধ্যে একজন পাকিস্তানি এবং অপরজন ভারতীয় নাগরিক বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। ভূপাতিত ড্রোনটির অবশেষ আছড়ে পড়ার ফলে ওই তেল স্থাপনার ভেতরে থাকা ঠিকাদারদের একটি গাড়িতে আগুন ধরে যায়। সাম্প্রতিক সময়ে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের পক্ষ থেকে সৌদি আরবের বিমানবন্দর ও বিভিন্ন জ্বালানি পরিকাঠামোকে লক্ষ্য করে হামলার প্রবণতা লাগাতার বৃদ্ধি পেয়েছে। এর আগে গত মাসেও হুথিদের ছোঁড়া একটি ড্রোন প্রতিহত করার পর তার টুকরো মাথায় লেগে সৌদি আরবে এক ইয়েমেনি বাসিন্দার মৃত্যু হয়েছিল। গোষ্ঠীটির এই আক্রমণাত্মক মনোভাব বৃদ্ধির পর দেশটিতে কোনও সাধারণ নাগরিকের মৃত্যুর সেটিই ছিল প্রথম ঘটনা। এমনকী চলতি মাসের শুরুর দিকেও সৌদির পূর্বাঞ্চলের একটি আরামকো কারখানার প্রশাসনিক ভবনে হামলার জেরে সামান্য অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছিল বলে জ্বালানি মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছিল। চার বছরের যুদ্ধবিরতি ভেঙে হুথি ও সৌদি সমর্থিত সরকারি বাহিনীর মধ্যে নতুন করে সংঘর্ষ শুরু হওয়ার পরেই মূলত উত্তেজনার এই পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
এদিকে, গত ১০ অক্টোবর একাধিকবার হামলার শিকার হওয়ার পর বন্ধ থাকা রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর গত বুধবার থেকে অভ্যন্তরীণ বিমান চলাচলের জন্য ফের খুলে দেওয়া হয়েছে। তবে নিরাপত্তার খাতিরে আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থাগুলির মধ্যে বেশ কয়েকটি এই অঞ্চলে তাদের নির্ধারিত বিমান পরিষেবা বাতিল করেছে।
{{/usCountry}}এদিকে, গত ১০ অক্টোবর একাধিকবার হামলার শিকার হওয়ার পর বন্ধ থাকা রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর গত বুধবার থেকে অভ্যন্তরীণ বিমান চলাচলের জন্য ফের খুলে দেওয়া হয়েছে। তবে নিরাপত্তার খাতিরে আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থাগুলির মধ্যে বেশ কয়েকটি এই অঞ্চলে তাদের নির্ধারিত বিমান পরিষেবা বাতিল করেছে।
{{/usCountry}}