শরৎ মানেই, ট্রেনের ভিতর থেকে, খোলা জানলা দিয়ে চোখে পড়ে যাওয়া কাশের বন! কোথাওবা কোঁচরভর্তি শিউলি কিম্বা ছাতিমের ঘ্রাণের ভেসে আসা.. এই সবই জানান দিয়ে যায় মা আসছেন! আজ তৃতীয়া। ষষ্ঠীর বোধনে আর বেশি দেরি নেই। ইতিমধ্যেই, বাংলার শহর থেকে শহরতলীতে দেবী বরণের প্রস্তুতি ঘিরে সাজো সাজো রব! উমাকে বরণ করে নিতে অপেক্ষার কাউন্টডাউনের সূর্য কার্যত মধ্যগগনে! শহর কলকাতায় বহু মণ্ডপে সন্ধ্যা নামতেই ভক্তদের ঢল, পুজোর উৎসবের ঢাকে কার্যত পড়ে গিয়েছে কাঠি! এই শহর কলকাতা থেকে ক্রোশ দূরে টেক্সাস। সেখানেও বাঙালিরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় রয়েছেন দেবীবরণের জন্য। আসছে বাঙালির প্রাণের পুজো দুর্গাপুজো। আর সেই দুর্গাপুজো ঘিরে প্রস্তুতিতে টেক্সাসের Rhythm DFW Cultural Association !

২০০৩ সালে গঠিত গ্রেটার ডালাস-ফোর্ট ওয়ার্থের পরিচিত বাঙালি সাংস্কৃতিক সংগঠন Rhythm DFW Cultural Association আয়োজন করতে চলেছে তাদের বার্ষিক শারদোৎসব। সংগঠনের পক্ষ থেকে প্রতিবারের মতো এবারেও সকলকে সাদরে আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে দুর্গাপুজো ঘিরে।
বিগত ২৩ বছর ধরে উত্তর টেক্সাসে প্রবাসী বাঙালিদের মেলবন্ধন তৈরি এবং সংস্কৃতিকে ধরে রেখে এই সংগঠন আরও এগিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে! টেক্সাসের Rhythm DFW র পুজো ঘিরে যেমন সাজো সাজো রব, তেমনই পুজোর সঙ্গে সংস্কৃতি-মনা এই সংগঠনের নাট্যচর্চা, ২০২৬ সালে ১০ বছর পার করছে।এই বিশেষ মাইলফলক উদযাপনে এবছর তাদের নাট্যদল ‘সোনার তরী' র দশম নিবেদন। পেশায় কোয়ালিটি ইঞ্জিনিয়ার শিমুল সাহা জানান, ‘এবছর দেবী চৌধুরানী উপন্যাসের ওপর ভিত্তি করে তাদের ১০ম বর্ষের বিশেষ নাটক 'উত্তরণ' মঞ্চস্থ করছে। অষ্টাদশ শতাব্দীর ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির দমনমূলক কর ব্যবস্থার বিরুদ্ধে সশস্ত্র কৃষক প্রতিরোধের এক তেজস্বিনী প্রতীক ছিলেন দেবী চৌধুরাণী। ভবানী পাঠকের পাশাপাশি সন্ন্যাসী বিদ্রোহের সময় লড়াই করা এই ঐতিহাসিক বিপ্লবীর বীরত্বপূর্ণ জীবন ও সংগ্রামকে কেন্দ্র করেই রচিত এই কালজয়ী গল্প এবার নাটকের রূপে মঞ্চে ফুটে উঠবে ।' নাটকের সাউন্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের দায়িত্বে থাকা শৈবাল গুহ বলেন,‘প্রথম বছরের অসামান্য সাফল্যের পর আর থেমে থাকতে হয়নি; প্রতি বছরই সোনার তরী বিভিন্ন বিখ্যাত নাটক উপহার দিয়ে এসেছে।' তিনি বলেন, ‘২০১৫ সালে ডালাসে অভিবাসী বাঙালিদের ,এই রিদম সংগঠনের আন্তরিকতা ও সমাজকল্যাণমূলক কাজে আকৃষ্ট হয়েই দুর্গাপূজায় আমাদের নাটক মঞ্চস্থ করার পথচলা শুরু।'
সংগঠনের সভাপতি পেশায় ম্যানেজার দিলীপ সাহা বলেন, ‘আমাদের ১৩তম বছরের পুজোটা কেবল একটি আয়োজন নয়, এটা আমাদের ভালোবাসা এবং একতার গল্প। প্রবাসে এসেও যে ১০ বছর ধরে আমরা মঞ্চে নাটক ফুটিয়ে তুলতে পারছি, এটা ভাবলেই মনটা ভালো লাগায় ভরে ওঠে। আমাদের সব সদস্য, স্বেচ্ছাসেবক আর সংস্কৃতিপ্রেমী মানুষদের অক্লান্ত পরিশ্রম ছাড়া এটা কখনোই সম্ভব হতো না।'
{{/usCountry}}সংগঠনের সভাপতি পেশায় ম্যানেজার দিলীপ সাহা বলেন, ‘আমাদের ১৩তম বছরের পুজোটা কেবল একটি আয়োজন নয়, এটা আমাদের ভালোবাসা এবং একতার গল্প। প্রবাসে এসেও যে ১০ বছর ধরে আমরা মঞ্চে নাটক ফুটিয়ে তুলতে পারছি, এটা ভাবলেই মনটা ভালো লাগায় ভরে ওঠে। আমাদের সব সদস্য, স্বেচ্ছাসেবক আর সংস্কৃতিপ্রেমী মানুষদের অক্লান্ত পরিশ্রম ছাড়া এটা কখনোই সম্ভব হতো না।'
{{/usCountry}}