এসআইআর-র পর এবার রাজ্যে হতে চলেছে এসএসআর। বৃহস্পতিবার কেন্দ্রের তরফে ঘোষণা করা হয়েছে, দেশের ১৭ টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে এই এসএসআর হবে। কী সেটি? জেনে নিন।
এসএসআর অর্থাৎ ‘স্পেশ্যাল সামারি রিভিশন’ বা বিশেষ সংক্ষিপ্ত সংশোধন। ভোটার তালিকার ‘স্পেশ্যাল সামারি রিভিশন’র নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। ১ জানুয়ারি, ২০২৭ তারিখ, এই সংক্রান্ত যোগ্যতার শেষ তারিখ হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। জানানো হয়েছে, এই প্রক্রিয়াটি, আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ, আসাম, বিহার, ছত্তিশগড়, গোয়া, গুজরাট, কেরল, লাক্ষাদ্বীপ, মধ্যপ্রদেশ, মণিপুর, পুদুচেরি, পাঞ্জাব, রাজস্থান, তামিলনাড়ু, উত্তরপ্রদেশ, উত্তরাখণ্ড এবং পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে পরিচালিত হবে। নির্বাচন কমিশন (ইসিআই) ১৯৫০ সালের জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের ২১ ধারা অনুযায়ী বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, এই নির্দেশনা জারি করেছে। এই পদক্ষেপের লক্ষ্য হল, ২০২৭ সালের যোগ্যতা অর্জনের তারিখের আগে বিদ্যমান ভোটার তালিকা আপডেট করা এবং যোগ্য ভোটারদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা নিশ্চিত করা। নির্বাচন কমিশনের জারি করা সময়সূচি অনুযায়ী, ভোটকেন্দ্রগুলোর যৌক্তিকীকরণ ও পুনর্বিন্যাসের কাজ ২০২৬ সালের ২ নভেম্বরের মধ্যে সম্পন্ন হবে। এরপর ১২ নভেম্বর সমন্বিত খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে। কমিশনের প্রকাশিত নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, খসড়া ভোটার তালিকা সংক্রান্ত দাবি ও আপত্তি দাখিল করার জন্য ভোটারদের ১২ নভেম্বর থেকে ১১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় দেওয়া হবে। এই দাবি ও আপত্তিগুলোর নিষ্পত্তি ২৮ ডিসেম্বরের মধ্যে সম্পন্ন করার কথা রয়েছে। চূড়ান্ত ভোটার তালিকা ২০২৭ সালের ৪ জানুয়ারি প্রকাশিত হবে।
কমিশন জানিয়েছে, অন্ধ্রপ্রদেশ, অরুণাচল প্রদেশ, চণ্ডীগড়, দাদরা ও নগর হাভেলি, দমন ও দিউ, হরিয়ানা, ঝাড়খণ্ড, কর্ণাটক, মহারাষ্ট্র, মেঘালয়, মিজোরাম, নাগাল্যান্ড, দিল্লি, ওডিশা, সিকিম, ত্রিপুরা এবং তেলেঙ্গানা—এই রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিতে এসআইআর চলছে বা সবেমাত্র শেষ হয়েছে। তাই সেখানে এসএসআর-এর দিনক্ষণ পরে ঘোষণা করা হবে। কমিশন আলাদাভাবে এও জানিয়েছে যে, হিমাচল প্রদেশ, জম্মু ও কাশ্মীর এবং লাদাখে, যেখানে এখনও এসআইআর (SIR) শুরু হয়নি, সেখানকার ভোটার তালিকা সংশোধনের সময়সূচী আবহাওয়ার পরিস্থিতি মাথায় রেখে পরে ঘোষণা করা হবে। জানা যাচ্ছে, আসন্ন নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকা আপডেট করা এবং যোগ্য নাগরিকরা যাতে নিবন্ধন করে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করতে পারেন, তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশনের বৃহত্তর প্রচেষ্টা শুরু হচ্ছে। প্রসঙ্গত, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে সরব হয়ে সিজেপি সহ বিরোধীরা যখন সোচ্চার, ঠিক তখনই নির্বাচন কমিশনের তরফে এল এই বড় নির্দেশ।