...
...
Next Story

১৩২২ কোটি টাকার ঋণ জালিয়াতির অভিযোগ, জি-র প্রতিষ্ঠাতা সুভাষ চন্দ্রের বিরুদ্ধে ইডির তদন্ত শুরু

গত ৩১ অগস্ট এই ঋণ সংক্রান্ত অভিযোগে এফআইআর দায়ের করেছিল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই। তার পরেই আর্থিক তছরুপ প্রতিরোধ আইনের (পিএমএলএ) অধীনে তদন্ত শুরু করে ইডি।

Published on: Nov 2, 2026, 09:40:51 IST
Advertisement

বড়সড় আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগে বিপাকে জি গোষ্ঠীর প্রতিষ্ঠাতা সুভাষ চন্দ্র। তাঁর বিরুদ্ধে আর্থিক তছরুপের তদন্ত শুরু করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। অভিযোগ, লাইফ ইনসিওরেন্স কর্পোরেশনের (এলআইসি) অধীনস্থ সংস্থা এলআইসি হাউজিং ফিনান্স থেকে প্রায় ৯৮০ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছিল এসেল গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত দু'টি সংস্থা। সেই ঋণ পাওয়ার জন্য নিজের সম্পত্তির পরিমাণ নিয়ে অতিরঞ্জিত তথ্য এবং ভুয়ো নথি জমা দিয়েছিলেন সুভাষ। পরবর্তী সময়ে ঋণের টাকা ফেরত না আসায় ঋণদাতা সংস্থার ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১,৩২২ কোটি টাকা। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই সিবিআইয়ের দায়ের করা এফআইআরের ভিত্তিতে ইসিআইআর নথিভুক্ত করেছে ইডি।

১৩২২ কোটি টাকার ঋণ জালিয়াতির অভিযোগ, সুভাষ চন্দ্রের বিরুদ্ধে ইডির তদন্ত শুরু
১৩২২ কোটি টাকার ঋণ জালিয়াতির অভিযোগ, সুভাষ চন্দ্রের বিরুদ্ধে ইডির তদন্ত শুরু

হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ৩১ অগস্ট এই ঋণ সংক্রান্ত অভিযোগে এফআইআর দায়ের করেছিল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই। তার পরেই আর্থিক তছরুপ প্রতিরোধ আইনের (পিএমএলএ) অধীনে তদন্ত শুরু করে ইডি। তদন্তকারী সংস্থার এক আধিকারিক জানিয়েছেন, এই ঘটনায় ইসিআইআর নথিভুক্ত করা হয়েছে। সিবিআইয়ের এফআইআরে সুভাষ চন্দ্রকে প্রধান অভিযুক্ত হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর পাশাপাশি তিনটি সংস্থা, দু'জন ব্যক্তি এবং আরও কয়েক জন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির নাম রয়েছে। অভিযোগের মধ্যে রয়েছে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, প্রতারণা এবং বিশ্বাসভঙ্গ।

কী ভাবে হয়েছিল ঋণের লেনদেন?

তদন্তকারীদের নজরে রয়েছে মূলত দু'টি ঋণ। প্রথম ক্ষেত্রে ভাসন্ত সাগর নামে একটি সংস্থাকে ৫০০ কোটি টাকা ঋণ দিয়েছিল এলআইসি হাউজিং ফিনান্স। এই ঋণের সহ-গ্রহীতা ছিল প্যান ইন্ডিয়া ইনফ্রাপ্রজেক্টস প্রাইভেট লিমিটেড। অন্য দিকে, ডিজিটাল সাবস্ক্রাইবার ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড কনসালটেন্সি সার্ভিসেস প্রাইভেট লিমিটেডকে দেওয়া হয়েছিল ৪৮০ কোটি টাকা। এই ঋণের ক্ষেত্রে সহ-গ্রহীতা ছিল স্প্রিট ইনফ্রাপাওয়ার অ্যান্ড মাল্টিভেঞ্চার্স।

কিন্তু পরবর্তী সময়ে ব্যক্তিগত দেউলিয়া সংক্রান্ত মামলায় সুভাষ নিজেই এই বিপুল সম্পত্তির দাবি অস্বীকার করেন বলে সিবিআইয়ের অভিযোগ। তদন্তকারীদের দাবি, ২০২৪ সালে আদালতের প্রক্রিয়ায় তিনি নিজের সম্পত্তির পরিমাণ ৩১.৭৯ কোটি টাকা বলে জানিয়েছিলেন। এমনকি ২০১৭-১৮ সালেও তাঁর সম্পত্তির পরিমাণ ৪০ হাজার কোটি টাকার বেশি ছিল না বলে দাবি করেছিলেন তিনি।

দেউলিয়া মামলাতেও নতুন বিতর্ক

এই মামলার পাশাপাশি সুভাষের ব্যক্তিগত দেউলিয়া সংক্রান্ত প্রক্রিয়াও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। ন্যাশনাল কোম্পানি ল ট্রাইব্যুনাল (এনসিএলটি) সম্প্রতি ২২,০০৬ কোটি টাকার স্বীকৃত ঋণের দাবির বিপরীতে মাত্র ৬.২৫ কোটি টাকা পরিশোধের পরিকল্পনা অনুমোদন করেছিল। পরে পাঁচ সদস্যের বেঞ্চ সেই নির্দেশে স্থগিতাদেশ দেয়।

এ দিকে, জি এন্টারটেনমেন্ট জানিয়েছে, সুভাষ চন্দ্রের ব্যক্তিগত বিষয় এবং সংস্থার কয়েকটি প্রোমোটার প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে এই তদন্ত চলছে। এর সঙ্গে তালিকাভুক্ত সংস্থার দৈনন্দিন ব্যবসা বা কাজকর্মের কোনও সম্পর্ক নেই। সুভাষ চন্দ্রের কাছ থেকেও এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া চাওয়া হয়েছিল। তবে তিনি কোনও উত্তর দেননি।

ইতিমধ্যেই সিবিআইয়ের আবেদনের ভিত্তিতে সুভাষের বিরুদ্ধে লুক আউট সার্কুলার জারি হয়েছে। ফলে দেশের বিমানবন্দর, সমুদ্রবন্দর এবং স্থলসীমান্ত দিয়ে তাঁর বিদেশে যাওয়ার উপর নজরদারি রয়েছে। এখন ইডির তদন্তে ঋণের টাকা কোথায় গিয়েছে এবং সম্পত্তি সংক্রান্ত নথিতে কোনও জালিয়াতি হয়েছিল কি না, সেটাই খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

 
ABOUT THE AUTHOR
Abhijit Chowdhury

২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।

SHARE THIS ARTICLE ON
Notifications

Get breaking alerts directly from the newsroom

Notifications are on!You'll be notified when news breaks