Education Minister Dharmendra Pradhan: সিবিএসই-র নবম শ্রেণীর পড়ুয়াদের জন্য বাধ্যতামূলক ‘তিন-ভাষা নীতিকে’ নিয়ে দেশজুড়ে বিতর্কের মাঝেই এই নীতির পক্ষে সওয়াল করলেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। এনডিটিভি-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট জানান, এই নীতি নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট যে সিদ্ধান্তই নিক না কেন, কেন্দ্রীয় সরকার তা অক্ষরে অক্ষরে মেনে চলবে।

‘তিন-ভাষা নীতি' কার্যকর করা নিয়ে অভিভাবক এবং পড়ুয়াদের মনে তৈরি হওয়া নানা উদ্বেগ ও প্রশ্নের জবাবে এনডিটিভি-র শিখতা দেও-কে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, 'এই বিষয়ে সুপ্রিম কোর্ট যা নির্দেশ দেবে, আমরা সেটাই করব।' তিনি স্পষ্ট করে দেন যে, সিবিএসই বোর্ড রাতারাতি কোনও নতুন নিয়ম চাপিয়ে দেয়নি। তাঁর কথায়, 'দেশের প্রায় ৯৯ শতাংশ সিবিএসই স্কুলেই ছাত্র-ছাত্রীরা ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত ইতিমধ্যেই তাদের মাতৃভাষায় পড়াশোনা করছে। বোর্ডের সর্বশেষ সার্কুলারে (বিজ্ঞপ্তি) শুধু বলা হয়েছে যে, এই ব্যবস্থা এবার থেকে নবম শ্রেণিতেও চালু থাকবে।' পাশাপাশি,ব্যক্তিগত উদাহরণ টেনে এই শিক্ষানীতির যৌক্তিকতা তুলে ধরেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। তিনি বলেন, 'আমার মেয়ে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত মারাঠি পড়েছে।'
তিনি মনে করিয়ে দেন যে, ভারতে একাধিক বা নিজের মাতৃভাষায় পড়াশোনা করা কোনও নতুন বা অস্বাভাবিক বিষয় নয়। বরং জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০-এর অধীনে আঞ্চলিক ও মাতৃভাষায় শিক্ষাদানকে আরও বেশি উৎসাহিত করা হচ্ছে, যাতে পড়ুয়াদের মেধার সার্বিক বিকাশ ঘটে। মূলত সিবিএসই বোর্ডের একটি সাম্প্রতিক ঘোষণার পর থেকেই এই ভাষা বিতর্কের সূত্রপাত হয়। বোর্ডের নির্দেশিকায় জানানো হয়েছিল, ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে নবম শ্রেণির পড়ুয়াদের জন্য মোট তিনটি ভাষা পড়া বাধ্যতামূলক হবে, যার মধ্যে অন্তত দুটি অবশ্যই ভারতীয় ভাষা হতে হবে। বোর্ডের এই আকস্মিক সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে এবার সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন অভিভাবক, পড়ুয়া এবং শিক্ষকদের একটি বড় অংশ। আদালতে দায়ের করা ওই আবেদনে তাঁরা এই নীতিটির বাস্তবায়নযোগ্যতা, পর্যাপ্ত ভাষা শিক্ষকের অভাব এবং পড়ুয়াদের ওপর পড়াশোনার অতিরিক্ত মানসিক চাপ তৈরি হওয়ার মতো একাধিক গুরুতর বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। সিবিএসই-র এই নতুন শিক্ষানীতিকে চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা মামলার প্রেক্ষিতে ইতিমধ্যেই কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। সর্বোচ্চ আদালত এই বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকার, সেন্ট্রাল বোর্ড অফ সেকেন্ডারি এডুকেশন (সিবিএসই) এবং এনসিইআরটি-র কাছে জবাব তলব করেছে। মামলার শুনানির সময় সুপ্রিম কোর্ট একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ করে। আদালত জানায়, নীতিগতভাবে ভারতীয় ভাষাগুলোর প্রচার ও প্রসার অবশ্যই একটি ইতিবাচক ও প্রশংসনীয় পদক্ষেপ। তবে এটি বাধ্যতামূলকভাবে কার্যকর করার আগে এর পরিকাঠামো, লজিস্টিকস (যেমন পর্যাপ্ত শিক্ষক ও পাঠ্যপুস্তক) এবং মাঠপর্যায়ের বাস্তব দিকগুলো পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখা অত্যন্ত প্রয়োজন।