মুম্বইয়ের মাজগাঁও এলাকায় গণেশ মূর্তি নিয়ে আসার শোভাযাত্রাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়াল। রবিবার রাত থেকে সোমবার ভোরের মাঝামাঝি সময়ে শোভাযাত্রায় ডিম ছোড়ার অভিযোগকে ঘিরে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে বিপুল সংখ্যক পুলিশ। নতুন করে যাতে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সে জন্য নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার রাতে গণেশ মূর্তির আগমন উপলক্ষে শোভাযাত্রা চলছিল। সেই সময় কাছাকাছি একটি বহুতল থেকে কয়েকজন শোভাযাত্রার দিকে ডিম ছুড়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। স্থানীয়দের দাবি, যে বিল্ডিং থেকে ডিম ছোড়া হয়, সেটি গণেশ প্যান্ডেল থেকে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ মিটার দূরে। ডিম ছোড়ার ঘটনা ছড়িয়ে পড়তেই শোভাযাত্রায় থাকা মানুষজন ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। মুহূর্তের মধ্যে ঘটনাস্থলে লোকজন জমা হতে শুরু করে এবং পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
অভিযোগ, এরপর দুই পক্ষের মধ্যে বচসা ও হাতাহাতি শুরু হয়। পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে পড়লে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে হস্তক্ষেপ করে। পুলিশকর্মীরা দুই পক্ষকে সরিয়ে দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে ঘটনার পর এলাকায় এখনও চাপা উত্তেজনা রয়েছে। সম্ভাব্য অশান্তি এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি গণেশ উৎসব কমিটির সদস্যরাও দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
আখিল পাবলিক ফেস্টিভ্যাল কমিটির সভাপতি হিতেশ যাদব ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন। তাঁর অভিযোগ, গণেশের আগমন শোভাযাত্রা সম্পন্ন হওয়ার পরই কাছের একটি বাড়ি থেকে ডিম ছোড়া হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয় বলে জানান তিনি। যাদবের দাবি, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পুলিশের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে। মহারাষ্ট্রের সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী আশিস শেলারও বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন এবং দ্রুত পদক্ষেপের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
{{/usCountry}}আখিল পাবলিক ফেস্টিভ্যাল কমিটির সভাপতি হিতেশ যাদব ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন। তাঁর অভিযোগ, গণেশের আগমন শোভাযাত্রা সম্পন্ন হওয়ার পরই কাছের একটি বাড়ি থেকে ডিম ছোড়া হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয় বলে জানান তিনি। যাদবের দাবি, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পুলিশের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে। মহারাষ্ট্রের সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী আশিস শেলারও বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন এবং দ্রুত পদক্ষেপের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
{{/usCountry}}গণপতি মণ্ডলের ডেপুটি সেক্রেটারি বিবেক রাণেও ঘটনার নিন্দা করেছেন। তাঁর দাবি, প্যান্ডেল থেকে মাত্র ৩০ থেকে ৪০ মিটার দূরের একটি বিল্ডিং থেকে শোভাযাত্রার দিকে ডিম ছোড়া হয়েছিল। তিনি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, এ ধরনের ঘটনা এই প্রথম নয়। কয়েক বছর আগে বাইকুল্লার নাগপাড়া এলাকাতেও গণেশ শোভাযাত্রাকে লক্ষ্য করে ডিম ছোড়ার অভিযোগ উঠেছিল। ২০২২ সালের অগস্টে কামাঠিপুরা-নাগপাড়া এলাকায় একই ধরনের ঘটনায় দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছিল। সেই ঘটনায় একজনকে গ্রেফতার করা হয় এবং ভারতীয় দণ্ডবিধির ১৫৩এ ও ২৯৫এ ধারায় এফআইআর দায়ের করা হয়েছিল। ১৫৩এ ধারায় বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে ধর্মীয় ভিত্তিতে শত্রুতা উসকে দেওয়ার অভিযোগ এবং ২৯৫এ ধারায় ধর্মীয় অনুভূতিতে ইচ্ছাকৃতভাবে আঘাত করার মতো অভিযোগের ক্ষেত্রে ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান ছিল।
মাজগাঁওয়ের সাম্প্রতিক ঘটনার ক্ষেত্রে এখনও পর্যন্ত পুলিশের তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি। তবে এলাকায় পুলিশি নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। প্রশাসনের মূল লক্ষ্য, ঘটনার জেরে যাতে আর কোনও সংঘর্ষ বা সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা না ছড়ায়। একই সঙ্গে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জোরালো হচ্ছে। গণেশ উৎসবের আবহে মুম্বইয়ের এই ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।