Election Commission: ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR)-সহ নির্বাচন কমিশনের নেওয়া প্রতিটি নীতিগত সিদ্ধান্তই সর্বসম্মত। অন্দরে মতপার্থক্যের গুঞ্জন উড়িয়ে বুধবার সাফ জানিয়ে দিল কমিশন সূত্র।
এসআইআর প্রক্রিয়ায় ভোটার তালিকায় নাম তোলা থেকে বাদ দেওয়া, ভোটার তথ্য, ফর্ম ৬-এর মতো নানা বিষয়কে কেন্দ্র করে নির্বাচন কমিশনের তিন সদস্যের মধ্যেই মতবিরোধ দেখা দিয়েছিল বলে সম্প্রতি দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস একটি প্রতিবেদনে দাবি করেছিল। এদিন ওই দাবি উড়িয়ে সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে টিভি-কে কমিশনের একটি সূত্র জানায়, তাদের তিন সদস্যের মধ্যে অভ্যন্তরীণ মতবিরোধ বা অসন্তোষের খবর সত্য নয়। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার এবং অন্য দুই কমিশনারের অনুমোদন ও স্বাক্ষর নিয়েই সমস্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এসআইআর প্রক্রিয়ায় ভোটার তালিকা সংশোধন সংক্রান্ত সমস্ত পদক্ষেপ সকলের সম্মতিতেই করা হয়েছে।
দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল যে, গত ১০ মাসে কমিশনের নানা সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অন্তত ১৪ বার আপত্তি জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক জোশী। ফর্ম-৬ এর পরিবর্তন থেকে শুরু করে ডেটাবেস অ্যাক্সেস কিংবা পশ্চিমবঙ্গ ও গোয়ার একাধিক প্রশাসনিক বিষয়ে নাকি দুই কমিশনার নোট অফ ডিসেন্ট বা আপত্তি রেকর্ড করিয়েছেন। এই খবর প্রকাশ্যে আসার পরেই দিল্লির রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়ে যায়। সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন বিরোধী শিবিরের রাজনীতিকরা। বিতর্ক বাড়তেই আসরে নামে কমিশন সূত্র। ২০২৩ সালের ‘মুখ্য নির্বাচন কমিশনার এবং অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার আইন’-এর ১৮ নম্বর ধারার কথা মনে করিয়ে প্যানেলের দাবি, অভ্যন্তরীণ বৈঠকে বিভিন্ন সদস্যের নিজস্ব মতামত বা ভিন্ন চিন্তা থাকতেই পারে, যা গণতন্ত্রের অঙ্গ। কিন্তু চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে আইন মেনেই তা সর্বসম্মতভাবে বা সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতেই বাস্তবায়িত হয়েছে। বিশেষ করে, এসআইআর সংক্রান্ত সমস্ত পদক্ষেপ তিন সদস্যের যৌথ অনুমোদন নিয়েই নেওয়া হয়েছে বলে স্পষ্ট জানানো হয়েছে।
কমিশন নিজেদের বিবৃতিতে স্পষ্ট করেছে যে, সংশ্লিষ্ট আইনি ধারা মেনেই নির্বাচন কমিশন সমস্ত সিদ্ধান্ত ও প্রশাসনিক নির্দেশ জারি করে থাকে। বিগত ১০ মাসের কোটি কোটি নির্দেশের মধ্যে দু-একটি নির্দিষ্ট মন্তব্যকে আলাদা করে তুলে ধরে বিভ্রান্তি তৈরি করা হচ্ছে, যা সামগ্রিক প্রক্রিয়ার একটি অত্যন্ত আংশিক চিত্র মাত্র।
বিরোধীদের নিশানায় কমিশন
{{/usCountry}}কমিশন নিজেদের বিবৃতিতে স্পষ্ট করেছে যে, সংশ্লিষ্ট আইনি ধারা মেনেই নির্বাচন কমিশন সমস্ত সিদ্ধান্ত ও প্রশাসনিক নির্দেশ জারি করে থাকে। বিগত ১০ মাসের কোটি কোটি নির্দেশের মধ্যে দু-একটি নির্দিষ্ট মন্তব্যকে আলাদা করে তুলে ধরে বিভ্রান্তি তৈরি করা হচ্ছে, যা সামগ্রিক প্রক্রিয়ার একটি অত্যন্ত আংশিক চিত্র মাত্র।
বিরোধীদের নিশানায় কমিশন
{{/usCountry}}কমিশনের অন্দরের এই মতপার্থক্যের খবর সামনে আসতেই কেন্দ্রীয় সরকারকে একহাত নিয়েছে বিরোধী শিবির। সমাজবাদী পার্টি প্রধান অখিলেশ যাদব গোটা বিষয়টিকে 'অত্যন্ত উদ্বেগজনক' বলে অভিহিত করেছেন এবং সুপ্রিম কোর্টের স্বতঃপ্রণোদিত হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন। তাঁর মতে, স্বাধীন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ স্বচ্ছতা বিঘ্নিত হলে তা গণতন্ত্রের পক্ষে বিপজ্জনক। এক্স-এ পোস্ট করে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী বুধবার লেখেন, 'ভোট চুরি ভারতের মানুষের বিরুদ্ধে অপরাধ এবং সংবিধানের উপর সরাসরি আক্রমণ। বিজেপি, আরএসএস এবং নির্বাচন কমিশন এই কাজে যুক্ত এবং তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।' ভিডিও বার্তাতেও নির্বাচন কমিশন এবং নির্বাচনী আধিকারিকদের উদ্দেশে কড়া মন্তব্য করেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা। তাঁর দাবি, এসআইআর-এর নামে যে পদক্ষেপ করা হচ্ছে, তা ভুল এবং দেশের স্বার্থবিরোধী। অন্যদিকে, কংগ্রেস সাংসদ মণীশ তিওয়ারিও কমিশনের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে এর নেপথ্যে 'অদৃশ্য শক্তির হাত' রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন।