মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে বৈঠক চলাকালীন কথা কাটাকাটি সিনিয়র আইএএস আধিকারিকের। দ্য ওয়ালের এক রিপোর্টে দাবি করা হল, কোচবিহারের এক পর্যবেক্ষক নাকি সরাসরি জ্ঞানেশ কুমারকে মুখের ওপর বলেন, 'আপনি এভাবে কথা বলতে পারেন না, ২৫ বছর ধরে সার্ভিস করছি।' জানা গিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গ ও তামিলনাড়ুতে বিধানসভা ভোটে নিযুক্ত পর্যবেক্ষকদের সঙ্গে আজ নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চ বৈঠক করেন ভার্চুয়াল মাধ্যমে। সেই সময়ই কোচবিহারের অবজার্ভার অনুরাগ যাদবের উদ্দেশ্যে নাকি জ্ঞানেশ বলেছিলেন, 'এমন হলে বাড়ি চলে যান।' আর তারই জবাবে নাকি অনুরাগ পালটা বলেন, 'আপনি আমাদের সঙ্গে এমন আচরণ করতে পারেন না। ২৫ বছর ধরে সার্ভিস করছি। আপনি এভাবে কথা বলতে পারেন না।'

জানা যায়, আজ বৈঠক চলাকালীন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল বলেন, 'কোচবিহারের বেশ কিছু স্পর্শকাতর বুথ রয়েছে, সেখানে কী ১৬৩ ধারা জারি করে দেওয়া যায়?' এই প্রসঙ্গেই খাপ্পা হন জ্ঞানেশ কুমার। তিনি জেলা পুলিশ এবং কোচবিহারে নিযুক্ত পর্যবেক্ষকের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। সেই সময়ই কথা কাটাকাটি হয় জ্ঞানেশ এবং অনুরাগের। তবে এই বাক্য বিনিময়ের পরে কথা ঘুরিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করেন জ্ঞানেশ। এরই মাঝে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে কড়া অবস্থান নিয়ে জ্ঞানেশ কুমার জানান, আইনশৃঙ্খলা নিয়ে কোনও সমস্যা হলে পুলিশ অবজার্ভার সরাসরি কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ডাকতে পারবেন। আর এহেন পরিস্থিতিতে ৩০ মিনিটের মধ্যে ঘটনাস্থলে বাহিনীকে পৌঁছতে হবে।
এদিকে আজ তৃণমূলের প্রতিনিধি দলের সঙ্গেও নাকি জ্ঞানেশ কুমারের বাক্য বিনিময় হয়। অন্তত এমনই অভিযোগ করেছেন তৃণমূল সাংসদ ডেরেক ও ব্রায়েন। রিপোর্ট অনুযায়ী, নির্বাচন সদনের অন্দরে দুই পক্ষের বাদানুবাদ হয় আজ। সেই সময় মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের ওপর চেঁচান ডেরেক এবং জ্ঞানেশ কুমারের উদ্দেশ্যে নাকি তিনি বলেন, 'কোনও কথা বলবেন না।' এদিকে তৃণমূলের অভিযোগ, বারংবার যোগাযোগ করা হলেও নির্বাচন কমিশন তাদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে জবাব দেয় না। এই আবহে তৃণমূল নেতা সাংবাদিকদের বলেন, 'টা কি নির্বাচন কমিশন না অন্য আরও কিছু। আমরা আজ কিছু ইস্যু উত্থাপন করতে এসেছিলাম। তবে আজও কোনও প্রতিক্রিয়া ছিল না নির্বাচনী আধিকারিকদের। মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক আমাদের বৈঠকের সাত মিনিটের মধ্যে বলেন - গেট লস্ট। আমরা সংসদে দ্বিতীয় বৃহত্তম বিরোধী দল। সেই দলের চারজন সংসদকে বলেছেন, এখান থেকে বেরিয়ে যাও।' এদিকে কমিশনের বক্তব্য, ডেরেক ও ব্রায়েন ভিতরে ঢুকে চিৎকার করতে থাকেন। ডেরেককে ভদ্র ব্যবহার করার কথা বলেন কমিশনার। বুঝিয়ে বলেন যে এভাবে চেঁচিয়ে কথা বলা উচিৎ নয়। তবে ডেরেক বেরিয়ে এসে দাবি করেন, তাঁদের সঙ্গে কোনও কথাই হয়নি কমিশনারের।