আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টির হয়ে বিপুল টাকা খরচ করেছিলেন তিনি। নির্বাচনী প্রচারে ঢেলেছিলেন প্রায় ৪৫৮ মিলিয়ন ডলার। ভারতীয় মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ৪৪০০ কোটি টাকা। কিন্তু এত টাকা খরচ করেও নির্বাচনে আশানুরূপ ফল পেলেন না বিশ্বের অন্যতম ধনী ব্যক্তি ইলন মাস্ক। উল্টে রিপাবলিকানদের বড় ধাক্কার পর সমাজমাধ্যম এক্স থেকে একের পর এক রিপাবলিকান-পন্থী পোস্ট মুছে ফেলেছেন তিনি। এমনকি নির্বাচনের দিন ভোটারদের উদ্দেশে দেওয়া ‘ভোট রেড টুডে’ বার্তাটিও আর তাঁর অ্যাকাউন্টে দেখা যাচ্ছে না। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই আমেরিকার রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে।
এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৯ অক্টোবর এক্সে একটি পোস্ট পিন করেছিলেন মাস্ক। সেখানে আমেরিকার নাগরিকদের রিপাবলিকান সেনেট প্রার্থীদের ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন তিনি। নির্বাচনের ফল সামনে আসার পর বুধবার ওই পোস্টটি সরিয়ে দেন মাস্ক। শুধু তা-ই নয়, নির্বাচনের দিন অর্থাৎ ৩ নভেম্বর তাঁর দেওয়া ‘ভোট রেড টুডে’ পোস্টটিও মুছে ফেলা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
এক্স ব্যবহারকারীরা বিষয়টি প্রথম নজরে আনেন। এক ব্যবহারকারী মাস্কের পোস্ট মুছে ফেলা নিয়ে প্রশ্ন করেছিলেন তাঁরই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্ভর চ্যাটবট গ্রককে। উত্তরে গ্রক জানায়, বিষয়টি সত্যি। রিপাবলিকানদের বড়সড় পরাজয়ের পর মাস্ক তাঁর কয়েকটি নির্বাচনী পোস্ট সরিয়ে দিয়েছেন। তবে তাঁর সব রিপাবলিকান-পন্থী পোস্ট মুছে ফেলা হয়েছে, এমনটা নয়। কেন তিনি পোস্টগুলি সরিয়েছেন, সে বিষয়েও প্রকাশ্যে কোনও ব্যাখ্যা দেননি মাস্ক।
৪৪০০ কোটি খরচ, তবু ফল শূন্য!
২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের জেতাতে কার্যত নিজের সম্পদের ভান্ডার খুলে দিয়েছিলেন মাস্ক। মার্কিন নির্বাচন কমিশনের নথি অনুযায়ী, অন্তত ৪৫৮ মিলিয়ন ডলার খরচ করেছিলেন তিনি। এর মধ্যে প্রায় ২১৬ মিলিয়ন ডলার দিয়েছিলেন নিজের রাজনৈতিক সংগঠন আমেরিকা প্যাককে। এই অর্থ ভোটারদের কাছে পৌঁছনো, নির্বাচনী কর্মী নিয়োগ এবং ডিজিটাল বিজ্ঞাপনের কাজে ব্যবহার করা হয়েছিল।
রিপাবলিকান প্রার্থীদের হয়ে সবচেয়ে বেশি অর্থ ঢালা হয়েছিল টেক্সাসের নির্বাচনে। সেখানে সেনেটের আসনে রিপাবলিকান প্রার্থী কেন প্যাক্সটনকে সমর্থন করেছিলেন মাস্ক। তাঁর বিরুদ্ধে প্রচারে বিপুল অর্থ খরচ হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জেমস তালারিকোর কাছে হেরে যান প্যাক্সটন। ১৯৮৮ সালের পর এই প্রথম টেক্সাস থেকে ডেমোক্র্যাট সেনেটর নির্বাচিত হলেন।
{{/usCountry}}রিপাবলিকান প্রার্থীদের হয়ে সবচেয়ে বেশি অর্থ ঢালা হয়েছিল টেক্সাসের নির্বাচনে। সেখানে সেনেটের আসনে রিপাবলিকান প্রার্থী কেন প্যাক্সটনকে সমর্থন করেছিলেন মাস্ক। তাঁর বিরুদ্ধে প্রচারে বিপুল অর্থ খরচ হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জেমস তালারিকোর কাছে হেরে যান প্যাক্সটন। ১৯৮৮ সালের পর এই প্রথম টেক্সাস থেকে ডেমোক্র্যাট সেনেটর নির্বাচিত হলেন।
{{/usCountry}}রয়টার্সের হিসাব অনুযায়ী, হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসে মাস্কের সমর্থন পাওয়া ৩৭ জন রিপাবলিকান প্রার্থীর মধ্যে মাত্র তিন জন জয়ী হয়েছেন। ৩৩ জন পরাজিত হয়েছেন। সেনেটের সাত জন প্রার্থীর মধ্যে ছ'জনই হেরে গিয়েছেন। ফলে বিপুল অর্থ খরচ করেও নির্বাচনী ফলাফল বদলাতে পারেননি বিশ্বের অন্যতম ধনী ব্যক্তি।
সম্পত্তিতেও বড় ধাক্কা
নির্বাচনের ফলের প্রভাব পড়েছে মাস্কের ব্যবসায়িক সাম্রাজ্যেও। ডেমোক্র্যাটদের শক্তি বৃদ্ধির পর তাঁর সংস্থাগুলির উপর নজরদারি বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিনিয়োগকারীরা। বিশেষ করে স্পেসএক্সের স্টারলিঙ্ক পরিষেবা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্ভর ডেটা সেন্টার প্রকল্প নিয়ে কড়াকড়ির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, টেসলা ও স্পেসএক্সের শেয়ারের দর পড়ায় এক দিনেই প্রায় ২৩.৭ বিলিয়ন ডলার সম্পত্তি হারিয়েছেন মাস্ক। ভারতীয় মুদ্রায় যা কয়েক লক্ষ কোটি টাকা।
অন্য দিকে, নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর এক্সে ব্যঙ্গ করে মাস্ক লিখেছেন, তাঁর ‘নির্বাচনে হস্তক্ষেপকারী মহাকাশ লেজার’ এ বার কাজ করেনি। সব মিলিয়ে বিপুল অর্থ, প্রচার এবং ব্যক্তিগত প্রভাব খাটিয়েও নির্বাচনে প্রত্যাশিত সাফল্য পেলেন না ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ এই ধনকুবের। বরং ডেমোক্র্যাটদের হাতে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ যাওয়ায় আগামী দিনে তাঁর ব্যবসায়িক স্বার্থও নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।