...
...
Next Story

গোলমেশিন বনাম ফরাসি প্রাচীর! ২০২৬ বিশ্বকাপে হালান্ড বনাম সালিবা দ্বৈরথ কেন ফুটবলবিশ্বের নজরে

Erling Haaland vs William Saliba: এবারের বিশ্বকাপে হালান্ড এবং সালিবার দ্বৈরথটি সম্পূর্ণ আলাদা; এটি হলো বিশ্বের সেরা গোলস্কোরারের সাথে বিশ্বের অন্যতম সেরা সেন্ট্রাল ডিফেন্ডারের ‘ওয়ান-অন-ওয়ান’ (One-on-One) শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই।

Published on: Jul 7, 2026, 15:41:07 IST
Advertisement

Erling Haaland vs William Saliba: বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় এবং মর্যাদাপূর্ণ মঞ্চ হলো ফিফা বিশ্বকাপ। আর বর্তমান ২০২৬ সালের এই মেগা টুর্নামেন্টে ফুটবলপ্রেমীদের নজর কেড়েছে পিচের অন্যতম সেরা এক মরণপণ লড়াই—আক্রমণভাগের নরওয়েজীয় গোলমেশিন আর্লিং হালান্ড (Erling Haaland) বনাম রক্ষণভাগের ফরাসি প্রাচীর উইলিয়াম সালিবা (William Saliba)। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে ম্যানচেস্টার সিটি এবং আর্সেনালের হয়ে তাঁদের নিয়মিত দ্বৈরথ ফুটবলবিশ্বকে বরাবরই মুগ্ধ করেছে। এবার সেই হাই-ভোল্টেজ ক্লাব রাইভালরি বা ক্লাব প্রতিদ্বন্দ্বিতা স্থানান্তরিত হয়েছে আন্তর্জাতিক ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসরে। কেন এই দুই ফুটবলারকে এবারের বিশ্বকাপে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী মনে করা হচ্ছে এবং তাঁদের পারফরম্যান্স স্ট্যাটিসটিকস বা রেকর্ড কী বলছে, তা জেনে নিন।

গোলমেশিন বনাম ফরাসি প্রাচীর! বিশ্বকাপে হালান্ড বনাম সালিবা দ্বৈরথ সকলের নজরে
গোলমেশিন বনাম ফরাসি প্রাচীর! বিশ্বকাপে হালান্ড বনাম সালিবা দ্বৈরথ সকলের নজরে

সাধারণত ফুটবল বিশ্বে প্রতিদ্বন্দ্বিতা বলতে মানুষ দুই দলের দুই স্ট্রাইকারের গোল করার লড়াইকে বোঝে। তবে এবারের বিশ্বকাপে হালান্ড এবং সালিবার দ্বৈরথটি সম্পূর্ণ আলাদা; এটি হলো বিশ্বের সেরা গোলস্কোরারের সাথে বিশ্বের অন্যতম সেরা সেন্ট্রাল ডিফেন্ডারের ‘ওয়ান-অন-ওয়ান’ (One-on-One) শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই।

১. ক্লাব ফুটবলের তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা এখন বিশ্বমঞ্চে

ইংল্যান্ডের প্রিমিয়ার লিগে ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে হালান্ড যখনই আর্সেনালের মুখোমুখি হয়েছেন, তখনই সালিবা তাঁকে বোতলবন্দি করার জন্য নিজের সর্বোচ্চ শক্তি উজাড় করে দিয়েছেন। মাঠে তাঁদের ট্যাকলিং, পজিশনিং সেন্স এবং শারীরিক শক্তির লড়াই ফুটবলপ্রেমীদের জন্য এক দারুণ বিনোদন। আন্তর্জাতিক ফুটবলে নিজ নিজ দেশের জার্সিতেও এই সমীকরণটি একই রকম। নরওয়ের আক্রমণভাগের সমস্ত পরিকল্পনা যেখানে হালান্ডকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়, সেখানে ফ্রান্সের রক্ষণভাগকে নেতৃত্ব দেওয়ার গুরুদায়িত্ব থাকে সালিবার কাঁধে।

২. আর্লিং হালান্ড: গোলবক্সের নির্মম জল্লাদ

আর্লিং হালান্ড আধুনিক ফুটবলের অন্যতম ভয়ংকর ও ক্লিনিকাল স্ট্রাইকার। তাঁর অবিশ্বাস্য শারীরিক শক্তি, গতি এবং গোল করার নিখুঁত পজিশনিং সেন্স যেকোনো রক্ষণভাগের জন্য দুঃস্বপ্ন।

  • পারফরম্যান্স স্ট্যাটিসটিকস: ক্লাব ও আন্তর্জাতিক ফুটবল মিলিয়ে হালান্ডের ম্যাচ প্রতি গোলের অনুপাত প্রায় ১। বক্সে সামান্যতম সুযোগ পেলেই তিনি বল জালে জড়াতে পারেন। বিশ্বকাপে নরওয়েকে অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার এবং গোল্ডেন বুট জেতার অন্যতম প্রধান দাবিদার তিনি। তাঁর বাঁ পায়ের জোরালো শট এবং এরিয়াল ডমিনেন্স (হেড করার ক্ষমতা) প্রতিপক্ষের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ।

৩. উইলিয়াম সালিবা: ফ্রান্সের আকাশছোঁয়া কড়া প্রহরী

ম্যাচে সালিবার মূল লক্ষ্য থাকে হালান্ডকে বক্সের মধ্যে ফাঁকা জায়গা না দেওয়া এবং নিজের ডিফেন্সিভ পার্টনারের সঙ্গে কম্বিনেশন তৈরি করে হালান্ডকে বল রিসিভ করা থেকে বিরত রাখা। অন্যদিকে, হালান্ড তাঁর বুদ্ধিদীপ্ত মুভমেন্ট এবং গায়ের জোরের মাধ্যমে সালিবার ডিফেন্স লাইনকে ভেঙে সতীর্থদের জন্য জায়গা তৈরি করার চেষ্টা করেন। ফলে, ৯০ মিনিটের এই লড়াই কেবল পায়ের নয়, বরং দুই ফুটবল মস্তিস্কের এক দাবার চালের মতো।

বর্তমান ২০২৬ সালের এই ফিফা বিশ্বকাপে ফুটবলপ্রেমীরা কেবল সুন্দর ফুটবল নয়, বরং গ্ল্যাডিয়েটরদের মতো হাড্ডাহাড্ডি লড়াই দেখতে চান। আর আর্লিং হালান্ড বনাম উইলিয়াম সালিবার এই মহাদ্ব্যন্তরীণ প্রতিদ্বন্দ্বিতা ঠিক সেই রোমাঞ্চই উপহার দিচ্ছে। আক্রমণ বনাম রক্ষণের এই মহাযুদ্ধে শেষ পর্যন্ত কার শেষ হাসি ফুটবে, তা মাঠের পারফরম্যান্সই নির্ধারণ করবে। তবে এই দুই তারকার লড়াই যে এবারের বিশ্বকাপের আকর্ষণকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে, তা নিশ্চিত।

 
ABOUT THE AUTHOR
Suman Roy

সুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।

SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe