ইউক্রেনকে অস্ত্র দিতে গিয়ে বড় বিতর্কে এস্তোনিয়া। আর সেই বিতর্কের জেরেই ইস্তফা দিলেন দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রী হান্নো পেভকুর। অভিযোগ, ইউক্রেনের জন্য কামানের গোলা কিনতে একটি ভারতীয় মালিকানাধীন সংস্থার সঙ্গে প্রায় ৭ কোটি ইউরোর চুক্তি হয়েছিল। কিন্তু সেই চুক্তি শেষ পর্যন্ত ভেস্তে যায়। গোলা সরবরাহে দেরি হয়। মান নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। পেভকুর ২০২২ সাল থেকে এস্তোনিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন। বুধবার রাতে টেলিভিশনে নিজের ইস্তফার কথা জানান তিনি। তাঁর বক্তব্য, প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসাবে গোটা দফতরের রাজনৈতিক দায় তাঁকেই নিতে হবে।
কোথায় গোলমাল?

বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে ইতালিতে নথিভুক্ত সংস্থা Datasel SRL। এস্তোনিয়ার সংবাদমাধ্যম Eesti Ekspress-এর দাবি, ২০২৪ সালে ইউক্রেনের জন্য এই সংস্থার কাছ থেকে কামানের গোলা কেনার চুক্তি করা হয়েছিল। Datasel-এর মালিকানা ছিল ভারতীয় সংস্থা Neco Defence Munitions-এর হাতে। একই সঙ্গে অভিযোগ ওঠে, ওই দুই সংস্থার আগে কামানের গোলা তৈরির বা সরবরাহের তেমন অভিজ্ঞতা ছিল না। এস্তোনিয়া আগাম বিপুল টাকা দিয়েছিল। প্রথম দফায় দেওয়া হয় ১ কোটি ৫০ লক্ষ ইউরো। পরে আরও টাকা দেওয়া হয়। সব মিলিয়ে আগাম অর্থের অঙ্ক প্রায় ৭ কোটি ইউরোতে পৌঁছয়। এই অর্থ এসেছিল ইউরোপীয় ইউনিয়নের European Peace Facility থেকে।
গোলা এল দেরিতে, মান নিয়েও প্রশ্ন
চুক্তি অনুযায়ী দ্রুত গোলা সরবরাহ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তা হয়নি। বার বার দেরি হয়। পরে কিছু গোলা এলেও সেগুলির মান নিয়ে এস্তোনিয়ার আধিকারিকেরা প্রশ্ন তোলেন। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রক জানিয়েছে, সরবরাহ করা কিছু সামগ্রী প্রয়োজনীয় মান পূরণ করেনি। চুক্তির কিছু অংশও শেষ করা হয়নি বলে অভিযোগ। ফলে বিষয়টি আদালত এবং আন্তর্জাতিক সালিশি প্রক্রিয়ায় গড়িয়েছে। সরবরাহকারী সংস্থার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপও করেছে এস্তোনিয়া। প্রায় ৭ কোটি ইউরোর একটি কনসাইনমেন্ট নিয়ে এখনও বিরোধ চলছে।
ভারতীয় সংস্থার পাল্টা দাবি
তবে ভারতীয় সংস্থাটি অভিযোগ মানেনি। Jayaswal NECO Industries-এর ডিরেক্টর রমেশ জয়সওয়াল দাবি করেছেন, এস্তোনিয়ার আধিকারিকেরা গুণমান যাচাই করার পরেই গোলা সরবরাহ করা হয়েছিল। তাঁর আরও দাবি, পরে এস্তোনিয়া তাদের সঙ্গে আরও চুক্তি করেছিল। পরে অর্থের সমস্যার কারণে সেই চুক্তিগুলি বন্ধ করা হয়। অর্থাৎ, সংস্থাটির বক্তব্য একেবারেই ভিন্ন। তাদের দাবি, ইচ্ছাকৃত ভাবে নিম্নমানের পণ্য সরবরাহের অভিযোগ ঠিক নয়।
কেন ইস্তফা দিলেন মন্ত্রী?
{{/usCountry}}তবে ভারতীয় সংস্থাটি অভিযোগ মানেনি। Jayaswal NECO Industries-এর ডিরেক্টর রমেশ জয়সওয়াল দাবি করেছেন, এস্তোনিয়ার আধিকারিকেরা গুণমান যাচাই করার পরেই গোলা সরবরাহ করা হয়েছিল। তাঁর আরও দাবি, পরে এস্তোনিয়া তাদের সঙ্গে আরও চুক্তি করেছিল। পরে অর্থের সমস্যার কারণে সেই চুক্তিগুলি বন্ধ করা হয়। অর্থাৎ, সংস্থাটির বক্তব্য একেবারেই ভিন্ন। তাদের দাবি, ইচ্ছাকৃত ভাবে নিম্নমানের পণ্য সরবরাহের অভিযোগ ঠিক নয়।
কেন ইস্তফা দিলেন মন্ত্রী?
{{/usCountry}}এই ঘটনা সামনে আসার পর পেভকুরের উপর চাপ বাড়ে। এস্তোনিয়ার অডিট কর্তৃপক্ষও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কেনাকাটার পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। চুক্তি পরিচালনা এবং পণ্য যাচাইয়ের ক্ষেত্রেও গাফিলতির অভিযোগ উঠেছে। বুধবার সংসদীয় কমিটির সামনে জেরার মুখেও পড়তে হয় প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে। পেভকুর অবশ্য ঘটনাটিকে মূলত একটি ‘চুক্তিগত বিরোধ’ হিসেবে ব্যাখ্যা করেন। এই ঘটনায় ইউক্রেনকে অস্ত্র সরবরাহের জন্য ইউরোপীয় অর্থ ব্যবহারের ক্ষেত্রেও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা বাণিজ্যে সংস্থার অভিজ্ঞতা এবং চুক্তি যাচাই কতটা কঠোর হওয়া উচিত, সেই বিতর্কও সামনে এসেছে।