দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের কাছেই রয়েছে ভারতীয় বায়ুসেনার একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি। সেই ঘাঁটির ভিতরে থাকা প্রায় ৪০ একর জমি নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে বায়ুসেনার টানাপড়েন শুরু হয়েছে। জমিটি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখার আর্জি জানিয়ে অবসরের মাত্র পাঁচ দিন আগে প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংকে চিঠি লিখেছিলেন প্রাক্তন বায়ুসেনা প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল এপি সিং। তাঁর বক্তব্য, এই জমি শুধু ক্রীড়া বা বিনোদনের জন্য নয়, বায়ুসেনার প্রশাসনিক এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত কাজেও গুরুত্বপূর্ণ। তাই জমিটি বায়ুসেনার হাতেই রাখা উচিত। কিন্তু কেন্দ্রীয় আবাসন ও নগর বিষয়ক মন্ত্রক (মোহুয়া) ইতিমধ্যেই জমি পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ নিয়েছে। এই ঘটনাকে ঘিরে প্রতিরক্ষা মহলে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৬ অক্টোবর প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে চিঠি পাঠিয়েছিলেন এপি সিং। তার পাঁচ দিন পর, অর্থাৎ ৩১ অক্টোবর অবসর নেন তিনি। চিঠিতে দিল্লির রেস কোর্স এয়ারফোর্স স্টেশনের ভিতরে থাকা এয়ারফোর্স স্পোর্টস কমপ্লেক্সের জমি বায়ুসেনার নিয়ন্ত্রণে রাখার অনুরোধ জানান। জমি হস্তান্তরের বিষয়টি নতুন করে বিবেচনা করার জন্য প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়ার আর্জিও জানান তিনি।
কেন গুরুত্বপূর্ণ এই ৪০ একর জমি?
দিল্লির লোক কল্যাণ মার্গের কাছে অবস্থিত রেস কোর্স এয়ারফোর্স স্টেশন। ১৯৪০-এর দশকে তৈরি এই ঘাঁটি দীর্ঘদিন ধরে বায়ুসেনার গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক কেন্দ্র হিসেবে কাজ করছে। এপি সিং তাঁর চিঠিতে উল্লেখ করেন, এই স্টেশন থেকে বায়ুসেনার সদর দফতর এবং ৫ হাজারেরও বেশি কর্মীকে প্রশাসনিক সহায়তা দেওয়া হয়।
ঘাঁটির ভিতরে রয়েছে বিবাহিত ও অবিবাহিত কর্মীদের থাকার ব্যবস্থা। রয়েছে বায়ুসেনার কর্মী এবং অগ্নিবীরবায়ুদের প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, নিরাপত্তা পরিকাঠামো, চিকিৎসাকেন্দ্র, স্কুল এবং সেনাদের নিজস্ব ক্যান্টিন। ফলে এই জায়গার গুরুত্ব শুধু একটি ক্রীড়া কমপ্লেক্সের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়।
এছাড়াও দিল্লি ইন্টিগ্রেটেড এয়ার ডিফেন্স সেন্টারের (ডিআইএডিসি) অধীনে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের সময় চালকবিহীন আকাশযান বা ড্রোনের সম্ভাব্য হামলা মোকাবিলার দায়িত্বও রয়েছে এই বায়ুসেনা স্টেশনের। ফলে নিরাপত্তার দিক থেকেও জমিটি গুরুত্বপূর্ণ বলে প্রতিরক্ষা মন্ত্রককে জানিয়েছে বায়ুসেনা।
বন্ধ ক্রীড়া কমপ্লেক্স, বাতিল বিদায়ী অনুষ্ঠান
{{/usCountry}}এছাড়াও দিল্লি ইন্টিগ্রেটেড এয়ার ডিফেন্স সেন্টারের (ডিআইএডিসি) অধীনে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের সময় চালকবিহীন আকাশযান বা ড্রোনের সম্ভাব্য হামলা মোকাবিলার দায়িত্বও রয়েছে এই বায়ুসেনা স্টেশনের। ফলে নিরাপত্তার দিক থেকেও জমিটি গুরুত্বপূর্ণ বলে প্রতিরক্ষা মন্ত্রককে জানিয়েছে বায়ুসেনা।
বন্ধ ক্রীড়া কমপ্লেক্স, বাতিল বিদায়ী অনুষ্ঠান
{{/usCountry}}এই বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে এয়ারফোর্স স্পোর্টস কমপ্লেক্স। সেখানে রয়েছে গল্ফ খেলার মাঠ, সুইমিং পুল, ফিটনেস সেন্টার, অতিথিদের থাকার কটেজ এবং রেস্তরাঁ। গত অক্টোবর মাসে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কমপ্লেক্সটি সদস্যদের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়।
এর ফলে ২৮ অক্টোবর এপি সিংয়ের বিদায়ী গল্ফ অনুষ্ঠানের আয়োজনও বাতিল করতে হয়। সাধারণত বিদায়ী বায়ুসেনা প্রধানের সম্মানে এই ধরনের গল্ফ অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। কিন্তু জমি পুনরুদ্ধারের সরকারি উদ্যোগের জেরে সেই অনুষ্ঠান আর হয়নি।
জমি পুনরুদ্ধারে তৎপর কেন্দ্র
মোহুয়া কেন এই জমি নিজেদের অধীনে নিতে চাইছে, তার নির্দিষ্ট কারণ এখনও প্রকাশ্যে জানানো হয়নি। তবে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের আশপাশের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ জমি পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ নিয়েছে কেন্দ্র। দিল্লি জিমখানা ক্লাব এবং জয়পুর পোলো গ্রাউন্ডের জমি নিয়েও একই ধরনের পদক্ষেপ করা হয়েছে। জমি ও উন্নয়ন দফতর (এলঅ্যান্ডডিও) ইতিমধ্যেই এয়ারফোর্স স্পোর্টস কমপ্লেক্সের জমি জরিপ করেছে।
এদিকে ৩১ অক্টোবর বায়ুসেনার নতুন প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন এয়ার চিফ মার্শাল অশুতোষ দীক্ষিত। ফলে এপি সিংয়ের অবসরের পর এই জমি নিয়ে বায়ুসেনার পরবর্তী পদক্ষেপের দায়িত্ব এখন তাঁর কাঁধে। নতুন বায়ুসেনা প্রধান জানিয়েছেন, বাহিনীর কর্মীদের প্রশিক্ষণ, পেশাদারিত্ব, মনোবল, নিরাপত্তা এবং কল্যাণ তাঁর কাছে বিশেষ গুরুত্ব পাবে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় থেকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে রেস কোর্স এয়ারফোর্স স্টেশন। ১৯৪৭-৪৮ সালের কাশ্মীর যুদ্ধ এবং ১৯৭১ সালের যুদ্ধের সময়ও এই ঘাঁটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ও রসদ সরবরাহের কাজ করেছিল। তাই ৪০ একর জমি নিয়ে কেন্দ্র ও বায়ুসেনার মধ্যে শেষ পর্যন্ত কী সিদ্ধান্ত হয়, এখন সেদিকেই নজর প্রতিরক্ষা মহলের।