Dharmendra Pradhan on Gen Z & Resignation: NEET-UG পরীক্ষায় অনিয়ম এবং প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে ছাত্র আন্দোলনের জেরে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। সেই ইস্তফার পর প্রথমবারের মতো বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে মুখ খুললেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী তথা সম্বলপুরের সাংসদ। শনিবার একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ধর্মেন্দ্র প্রধান দাবি করেন, NEET বিতর্ককে ঘিরে আন্দোলনের সময় দেশের নতুন প্রজন্ম বা Gen Z-এর পড়ুয়াদের ভুল পথে চালিত করা হয়েছিল। একইসঙ্গে তিনি জানান, আন্দোলনকারীদের উদ্বেগকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করার সুযোগ না দিয়ে তাঁদের বক্তব্য স্বীকার করে নেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কাছে তিনি নিজেই আবেদন করেছিলেন।

সম্বলপুরে পদ্ম পুরস্কারপ্রাপকদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছিলেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। সেখানেই নিজের ইস্তফার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, এই গোটা ঘটনায় তিনি মনে করেছিলেন, নতুন প্রজন্মের পড়ুয়াদের একটি অংশকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তাঁর কথায়, তিনি নিজেই এই পরিস্থিতির শিকার হয়েছেন।
ধর্মেন্দ্র প্রধান জানান, তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে দেখা করে Gen Z-এর উদ্বেগ ও আকাঙ্ক্ষাকে স্বীকৃতি দেওয়ার অনুরোধ করেছিলেন। তাঁর বক্তব্য, তিনি প্রধানমন্ত্রীকে বলেছিলেন, পড়ুয়াদের সামনে গিয়ে তাঁদের উদ্বেগের কথা স্বীকার করার সুযোগ তাঁকে দেওয়া হোক। তবে বিষয়টি কখনও তাঁর ব্যক্তিগত সম্মান বা পদমর্যাদার প্রশ্ন ছিল না বলেও স্পষ্ট করেন তিনি।
প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রীর দাবি, প্রধানমন্ত্রী তাঁর অনুরোধে সম্মতি দিয়েছিলেন এবং পরে নিজেই পড়ুয়াদের সামনে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন। ধর্মেন্দ্র প্রধান বলেন, তিনি শুরু থেকেই পুরো পরিস্থিতির দায় নিজের কাঁধে নিয়েছিলেন। মেধাবী পড়ুয়াদের ভবিষ্যৎ যাতে পরীক্ষার অনিয়মের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, তা নিশ্চিত করাই তাঁর লক্ষ্য ছিল।
গত ২৫ জুলাই শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। NEET-UG পরীক্ষাকে ঘিরে কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা ছাত্র আন্দোলনের পর তাঁর পদত্যাগ নিয়ে জাতীয় রাজনীতিতে জোরদার আলোচনা শুরু হয়। নিজের ইস্তফাপত্রেও ধর্মেন্দ্র প্রধান জানিয়েছিলেন, আন্দোলনকে যাতে ‘দেশবিরোধী শক্তি’ নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করতে না পারে, দেশের ঐক্য যাতে অক্ষুণ্ণ থাকে এবং পড়ুয়াদের ভবিষ্যৎ যাতে আইনি জটিলতায় আটকে না যায়, সেই কারণেই তিনি পদ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাঁর কাছে এটি ব্যক্তিগত সম্মানের বিষয় নয় বলেও জানিয়েছিলেন তিনি।
{{/usCountry}}গত ২৫ জুলাই শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। NEET-UG পরীক্ষাকে ঘিরে কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা ছাত্র আন্দোলনের পর তাঁর পদত্যাগ নিয়ে জাতীয় রাজনীতিতে জোরদার আলোচনা শুরু হয়। নিজের ইস্তফাপত্রেও ধর্মেন্দ্র প্রধান জানিয়েছিলেন, আন্দোলনকে যাতে ‘দেশবিরোধী শক্তি’ নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করতে না পারে, দেশের ঐক্য যাতে অক্ষুণ্ণ থাকে এবং পড়ুয়াদের ভবিষ্যৎ যাতে আইনি জটিলতায় আটকে না যায়, সেই কারণেই তিনি পদ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাঁর কাছে এটি ব্যক্তিগত সম্মানের বিষয় নয় বলেও জানিয়েছিলেন তিনি।
{{/usCountry}}NEET-UG পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ সামনে আসার পর কেন্দ্রীয় সরকার তদন্তের দায়িত্ব সিবিআইয়ের হাতে তুলে দেয়। পরীক্ষাটি বাতিল করে পুনরায় পরীক্ষা নেওয়া হয়। ২১ জুন পুনরায় পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় এবং ১৬ জুলাই তার ফল প্রকাশ করা হয়। ধর্মেন্দ্র প্রধানের দাবি, অভিযোগ সামনে আসার পর সরকার দ্রুত পদক্ষেপ করেছিল।
শনিবারের অনুষ্ঠানে ভারতের তরুণ প্রজন্মের গুরুত্বের কথাও তুলে ধরেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। তাঁর মতে, আগামী দিনে ভারতকে বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে Gen Z-এর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি জানান, প্রতি বছর ভারতে প্রায় দুই কোটি শিশু জন্মগ্রহণ করে। আগামী ১০ বছরে ১৫ থেকে ২৫ বছর বয়সি প্রায় ২০ কোটি তরুণ দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
ধর্মেন্দ্র প্রধানের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে সামনে এল, যখন তরুণ প্রজন্মের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর দিকে জোর দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের প্রধান মোহন ভাগবত। NEET আন্দোলনের পর দেশের রাজনীতিতে Gen Z-এর প্রভাব নতুন করে আলোচনায় এসেছে। ফলে ধর্মেন্দ্র প্রধানের মন্তব্যকে সেই বৃহত্তর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটেও তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।