দিল্লিতে বিক্ষোভকারীদের আটক করা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে রাষ্ট্রসংঘের মানবাধিকার দফতর। আর তাতেই ক্ষুব্ধ প্রাক্তন পাক ক্রিকেটার দানিশ কানারিয়া। ভারতের পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুললেও পাকিস্তান ও বাংলাদেশে হিন্দুদের উপর অত্যাচারের অভিযোগ নিয়ে রাষ্ট্রসংঘ কেন নীরব, সেই প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। একই সঙ্গে চিনে উইঘুর মুসলিমদের উপর দমনপীড়নের অভিযোগ নিয়েও আন্তর্জাতিক সংস্থার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কানারিয়া। তাঁর বক্তব্য, মানবাধিকার রক্ষার প্রশ্নে রাষ্ট্রসংঘের অবস্থান কি সব ক্ষেত্রে সমান?
দিল্লির বিক্ষোভ নিয়ে রাষ্ট্রসংঘের উদ্বেগ

দিল্লিতে সিজেপি বিক্ষোভ ঘিরে তৈরি হয়েছে বিতর্ক। বিক্ষোভের আগে এবং বিক্ষোভ চলাকালীন বহু মানুষকে আটক করার খবর সামনে আসে। তাঁদের মধ্যে ছিলেন আন্দোলনের নেতা, নাগরিক সমাজের সদস্য, আইনজীবী এবং সাংবাদিকেরাও। এই ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে রাষ্ট্রসংঘের মানবাধিকার দফতর।
দফতরের তরফে ভারতীয় কর্তৃপক্ষকে সংযম দেখানোর আবেদন জানানো হয়। শান্তিপূর্ণ ভাবে জমায়েত হওয়ার অধিকারকে সম্মান করার কথাও বলা হয়। পাশাপাশি, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করতে হলে তা প্রয়োজনীয় ও যুক্তিসঙ্গত হতে হবে বলে জানানো হয়।
রাষ্ট্রসংঘের এই বক্তব্য প্রকাশ্যে আসার পরেই সরব হন দানিশ কানারিয়া। সমাজমাধ্যমে রাষ্ট্রসংঘের মানবাধিকার দফতরের পোস্টটি ভাগ করে নিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন, ভারতের ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হলেও অন্য কয়েকটি দেশে সংখ্যালঘুদের পরিস্থিতি নিয়ে একই রকম সক্রিয়তা দেখা যায় না কেন?
পাকিস্তান ও বাংলাদেশের হিন্দুদের কথা বলবে কে?
কানারিয়ার মূল প্রশ্ন পাকিস্তান ও বাংলাদেশের হিন্দুদের নিরাপত্তা নিয়ে। তাঁর অভিযোগ, এই দুই দেশে হিন্দু সংখ্যালঘুদের উপর অত্যাচারের অভিযোগ উঠলেও রাষ্ট্রসংঘের মানবাধিকার দফতরকে একই ভাবে সরব হতে দেখা যায় না।
{{/usCountry}}কানারিয়ার মূল প্রশ্ন পাকিস্তান ও বাংলাদেশের হিন্দুদের নিরাপত্তা নিয়ে। তাঁর অভিযোগ, এই দুই দেশে হিন্দু সংখ্যালঘুদের উপর অত্যাচারের অভিযোগ উঠলেও রাষ্ট্রসংঘের মানবাধিকার দফতরকে একই ভাবে সরব হতে দেখা যায় না।
{{/usCountry}}সমাজমাধ্যমে তিনি জানতে চান, পাকিস্তান ও বাংলাদেশে হিন্দুদের উপর অত্যাচারের অভিযোগ নিয়ে রাষ্ট্রসংঘ কবে মুখ খুলবে? কবে এই বিষয়গুলিকে সমান গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে?
তবে কানারিয়ার এই বক্তব্য তাঁর নিজস্ব প্রতিক্রিয়া। পাকিস্তান ও বাংলাদেশের প্রতিটি অভিযোগের সত্যতা বা রাষ্ট্রসংঘের সামগ্রিক ভূমিকা সম্পর্কে এই পোস্ট থেকে আলাদা করে সিদ্ধান্তে পৌঁছনো যায় না। কিন্তু তাঁর মন্তব্য নতুন করে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলির ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক উস্কে দিয়েছে।
চিনের উইঘুর মুসলিমদের প্রসঙ্গও তুললেন
শুধু হিন্দু সংখ্যালঘুদের পরিস্থিতিই নয়, চিনে উইঘুর মুসলিমদের উপর দমনপীড়নের অভিযোগ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন কানারিয়া। তাঁর বক্তব্য, মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগের ক্ষেত্রে কোনও দেশকেই ছাড় দেওয়া উচিত নয়। যে দেশেই এমন অভিযোগ উঠুক, তার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ জরুরি। রাষ্ট্রসংঘের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন ঘটনায় বেছে বেছে সরব হওয়ার অভিযোগ ওঠে। কানারিয়ার মন্তব্য সেই বিতর্ককেই ফের সামনে এনেছে।
এ দিকে দিল্লির বিক্ষোভ ঘিরে আটক হওয়া মানুষের সংখ্যা নিয়েও আলোচনা চলছে। দিল্লি পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রায় সাত হাজার মানুষকে আটক করা হয়েছিল। তাঁদের ধাপে ধাপে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে সংবাদে প্রকাশ। তবে বিক্ষোভের সঙ্গে যুক্ত তিন জন গুরুত্বপূর্ণ নেতা তখনও আটক ছিলেন বলে লাইভ হিন্দুস্তানের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
সব মিলিয়ে, দিল্লির বিক্ষোভ নিয়ে রাষ্ট্রসংঘের উদ্বেগকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। এক দিকে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের অধিকার রক্ষার প্রশ্ন, অন্য দিকে বিভিন্ন দেশে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে আন্তর্জাতিক সংস্থার ভূমিকা। কানারিয়ার প্রশ্ন, মানবাধিকার রক্ষার ক্ষেত্রে কি সব দেশের জন্য একই মাপকাঠি থাকা উচিত নয়?