CAG Report: বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম রেল নেটওয়ার্ক ভারতীয় রেলওয়ে। লক্ষ লক্ষ যাত্রী প্রতিদিন ট্রেনে যাতায়াত করেন। এবার রেলস্টেশনে যাত্রীদের জন্য দেওয়া পানীয় জলের মান নিয়ে বড় প্রশ্ন উঠল। সম্প্রতি কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল (CAG)-এর রিপোর্টে উঠে এসেছে, বেশ কয়েকটি স্টেশনে কুলারের পানীয় জলে 'ই-কোলাই' (E.coli) ব্যাকটেরিয়া পাওয়া গিয়েছে। এই ব্যাকটেরিয়া পেটে গেলে, মারাত্মক সংক্রমণ হতে পারে।

১২ অগস্ট সংসদে পেশ করা 'ভারতীয় রেলের নন-সাবার্বান বা শহরতলি-বহির্ভূত স্টেশনগুলিতে যাত্রীদের সুযোগ-সুবিধা ও পরিচ্ছন্নতা' বিষয়ক প্রতিবেদনে ক্যাগ জানিয়েছে, 'ছয়টি জোনের অন্তর্গত ৫৯টি স্টেশনে পানীয় জলের কোনও ব্যাকটেরিয়াজনিত পরীক্ষা (bacteriological analysis) করাই হয়নি।' সমস্ত জোনের অন্তর্গত ৫১২টি নন-সাবার্বান স্টেশনের যাত্রী পরিষেবার বিষয়টি খতিয়ে দেখার পর রিপোর্টে আরও জানানো হয়েছে, 'সাউদার্ন রেলওয়ে (SR)-এর দুটি স্টেশনে (কোয়েম্বাটোর ও পালক্কড় জংশন), সাউথ সেন্ট্রাল রেলওয়ে (SCR)-এর একটি স্টেশনে (হায়দরাবাদ), সেন্ট্রাল রেলওয়ে (CR)-এর চারটি স্টেশনে (ছত্রপতি শিবাজি মহারাজ টার্মিনাস, ভিওয়ান্ডি রোড, কল্যাণ ও লোনাভালা) এবং ইস্টার্ন রেলওয়ে (ER)-এর একটি স্টেশনে (মধুপুর) ওয়াটার কুলার থেকে সংগৃহীত জলের নমুনায় 'ই-কোলাই' ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি পাওয়া গিয়েছে।'
ওই রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, '২০২২-২৩ সালে আটটি জোনের ৪৯টি স্টেশনে এবং ২০২৩-২৪ সালে নয়টি জোনের ৫৬টি স্টেশনের প্ল্যাটফর্মের কল থেকে সংগৃহীত পানীয় জলের নমুনার পরীক্ষায় 'টোটাল কলিফর্ম' ব্যাকটেরিয়া যার মধ্যে 'ই-কোলাই'-ও অন্তর্ভুক্ত, তা ধরা পড়েছে।' অডিটে দেখা গিয়েছে, 'টোটাল কলিফর্ম' ছাড়া অন্যান্য ব্যাকটেরিয়াজনিত পরীক্ষার ফলাফলও সন্তোষজনক ছিল না ৷ ২০২২-২৩ সালে চারটি জোনের আটটি স্টেশনে এবং ২০২৩-২৪ সালে পাঁচটি জোনের ১১টি স্টেশনে এমনটা দেখা গিয়েছে।
রেলের যাত্রী পরিষেবা খতিয়ে দেখতে দেশের বিভিন্ন জোনের ৫১২টি নন-সাবার্বান স্টেশন পরীক্ষা করে ক্যাগ। এর মধ্যে ৪৫৮টি স্টেশনে, অর্থাৎ প্রায় ৯০ শতাংশ স্টেশনে ন্যূনতম প্রয়োজনীয় পরিষেবার (Minimum Essential Amenities) ঘাটতি পাওয়া গিয়েছে। কোথাও নির্দিষ্ট পরিষেবা একেবারেই ছিল না, আবার কোথাও রেল বোর্ডের নির্ধারিত মানের তুলনায় পরিষেবা কম ছিল। রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, '২০১৮ সালের এপ্রিলে রেলওয়ে বোর্ড এনএসজি ১ (NSG-1) থেকে এনএসজি ৬ (NSG-6) পর্যন্ত শ্রেণিবদ্ধ স্টেশনগুলির জন্য ন্যূনতম অত্যাবশ্যকীয় সুবিধা, প্রস্তাবিত সুবিধা এবং কাঙ্ক্ষিত সুবিধা নির্ধারণ করে বিস্তারিত নির্দেশিকা জারি করেছিল। বোর্ড নির্দেশ দিয়েছিল যে, ২০১৮ সালের ৩১ অগস্টের মধ্যে সমস্ত স্টেশনে ওই সুবিধাগুলি নিশ্চিত করতে হবে।' এতে আরও বলা হয়, 'বোর্ডের নির্দেশিকায় বাধ্যতামূলক করা হয়েছিল স্টেশনগুলির শ্রেণি নির্বিশেষে প্রথমেই সেখানে যাবতীয় সুবিধা প্রদান করতে হবে। এই সুবিধাগুলির মধ্যে রয়েছে-পানীয় জল, ওয়েটিং হল, বসার ব্যবস্থা, প্ল্যাটফর্মের ছাউনি, ইউরিনাল, শৌচাগার, উঁচু প্ল্যাটফর্ম, ফ্যান, ফুট ওভার ব্রিজ, ডাস্টবিন, ঘড়ি এবং পাবলিক অ্যাড্রেস সিস্টেম।'
{{/usCountry}}রেলের যাত্রী পরিষেবা খতিয়ে দেখতে দেশের বিভিন্ন জোনের ৫১২টি নন-সাবার্বান স্টেশন পরীক্ষা করে ক্যাগ। এর মধ্যে ৪৫৮টি স্টেশনে, অর্থাৎ প্রায় ৯০ শতাংশ স্টেশনে ন্যূনতম প্রয়োজনীয় পরিষেবার (Minimum Essential Amenities) ঘাটতি পাওয়া গিয়েছে। কোথাও নির্দিষ্ট পরিষেবা একেবারেই ছিল না, আবার কোথাও রেল বোর্ডের নির্ধারিত মানের তুলনায় পরিষেবা কম ছিল। রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, '২০১৮ সালের এপ্রিলে রেলওয়ে বোর্ড এনএসজি ১ (NSG-1) থেকে এনএসজি ৬ (NSG-6) পর্যন্ত শ্রেণিবদ্ধ স্টেশনগুলির জন্য ন্যূনতম অত্যাবশ্যকীয় সুবিধা, প্রস্তাবিত সুবিধা এবং কাঙ্ক্ষিত সুবিধা নির্ধারণ করে বিস্তারিত নির্দেশিকা জারি করেছিল। বোর্ড নির্দেশ দিয়েছিল যে, ২০১৮ সালের ৩১ অগস্টের মধ্যে সমস্ত স্টেশনে ওই সুবিধাগুলি নিশ্চিত করতে হবে।' এতে আরও বলা হয়, 'বোর্ডের নির্দেশিকায় বাধ্যতামূলক করা হয়েছিল স্টেশনগুলির শ্রেণি নির্বিশেষে প্রথমেই সেখানে যাবতীয় সুবিধা প্রদান করতে হবে। এই সুবিধাগুলির মধ্যে রয়েছে-পানীয় জল, ওয়েটিং হল, বসার ব্যবস্থা, প্ল্যাটফর্মের ছাউনি, ইউরিনাল, শৌচাগার, উঁচু প্ল্যাটফর্ম, ফ্যান, ফুট ওভার ব্রিজ, ডাস্টবিন, ঘড়ি এবং পাবলিক অ্যাড্রেস সিস্টেম।'
{{/usCountry}}দেশের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রথম শ্রেণির (NSG-1) স্টেশনেও রেল পরিষেবার ঘাটতি ধরা পড়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ছত্রপতি শিবাজি মহারাজ টার্মিনাস, হাওড়া, শিয়ালদহ, নয়া দিল্লি ও মুম্বই সেন্ট্রালের নাম। এই স্টেশনগুলিতেও পর্যাপ্ত বসার ব্যবস্থা, ইউরিনাল, শৌচাগার, ডাস্টবিন এবং ইলেকট্রনিক ট্রেন ইন্ডিকেটর বোর্ডের মতো পরিষেবায় ঘাটতি পাওয়া গিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে পানীয় জলের মান নিয়ে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে ক্যাগ। জল সরবরাহ ব্যবস্থার নিয়মিত পরিদর্শন এবং পানীয় জলের সমস্ত নির্ধারিত মানদণ্ড অনুযায়ী নিয়মিত পরীক্ষা করার পরামর্শ দিয়েছে তারা।