ইরানের বিরুদ্ধে ইজরায়েল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অতর্কিত হামলা শুক্রবার পর্যন্ত টানা ৩৫ দিনে গড়েছে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ধারাবাহিকভাবে বলে আসছেন, ইরানের সামরিক সক্ষমতা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে তিনি দাবি করছেন যে ইরানের নৌবাহিনী, সেনাবাহিনী অবশিষ্ট বলে কিছু নেই। তবে ট্রাম্পের এসব দাবিকে একপ্রকার 'খণ্ডন' করে চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট প্রকাশ করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন।

ইজরায়েল ও উপসাগরীয় দেশগুলোর কথায়, ইরানের হামলার গতি হয়তো কমেছে, কিন্তু আক্রমণ অব্যাহত রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে এই সপ্তাহে কাতার ও কুয়েতের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা এবং সৌদি আরবের একটি তেল রপ্তানি টার্মিনাল লক্ষ্য করে চালানো একটি হামলা, যা প্রতিহত করা হয়েছিল। ইরানও ক্ষেপণাস্ত্র ফুরিয়ে যাওয়ার কথা অস্বীকার করেছে। বস্তুত, ইরানি বাহিনী বলেছে, যুদ্ধ সত্ত্বেও ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন উৎপাদন অব্যাহত রয়েছে। শুধু বৃহস্পতিবারেই ইরান সংযুক্ত আরব আমিরশাহিকে লক্ষ্য করে ১৫টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ১১টি ড্রোন নিক্ষেপ করেছে।
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার কী শেষ?
সংক্ষিপ্ত উত্তর-না। সিএনএন-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের এখনও অর্ধেক মিসাইল উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা অক্ষত আছে। পাশাপাশি দেশটির হাজার হাজার একমুখী আক্রমণকারী ড্রোন এখনও তাদের অস্ত্রভাণ্ডারে রয়েছে। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার সাম্প্রতিক মূল্যায়নের সঙ্গে জ্ঞাত তিনটি সূত্র সিএনএন'কে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে। একটি সূত্র জানিয়েছে, ইরান এখনও সমগ্র অঞ্চলে চরম ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত। গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, ইরানের কাছে এখনও হাজার হাজার ড্রোন রয়েছে, যা দেশটির মোট ড্রোন সক্ষমতার প্রায় ৫০ শতাংশ। সংশ্লিষ্ট দুইটি সূত্র জানিয়েছে, সাম্প্রতিক এই মূল্যায়নে আরও দেখা গেছে যে ইরানের উপকূলীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের একটি বড় অংশও অক্ষত রয়েছে। সূত্রগুলোর মতে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের বিমান হামলায় উপকূলীয় সামরিক স্থাপনাগুলোকে প্রধান লক্ষ্যবস্তু না করায় এই সক্ষমতা তুলনামূলকভাবে অক্ষত রয়েছে, যদিও তারা জাহাজে হামলা চালিয়েছে। এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলকে হুমকির মুখে ফেলতে ইরানের একটি বড় শক্তি হিসেবে কাজ করে।
ইরান ভূর্গভে গড়ে তুলেছে তাদের মিসাইল সিটির নেটওয়ার্ক। আর এসব স্থাপনা লক্ষ্য করে অবিরাম হামলা চালিয়ে যাচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েল। এই হিসাবের মধ্যে এমন লঞ্চারও থাকতে পারে, যেগুলো এসব স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় হয়তো মাটির নিচে চাপা পড়েছে, কিন্তু পুরোপুরি ধ্বংস হয়নি। এই গোয়েন্দা মূল্যায়ন ইরানের সামরিক সক্ষমতা সম্পর্কে আরও সূক্ষ্ম ও বাস্তবসম্মত চিত্র তুলে ধরেছে, যা প্রকাশ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তাঁর প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তাদের দেওয়া সামরিক বিজয়ের ব্যাপক দাবির তুলনায় ভিন্ন দৃশ্যপটই সামনে আনছে।
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র
{{/usCountry}}ইরান ভূর্গভে গড়ে তুলেছে তাদের মিসাইল সিটির নেটওয়ার্ক। আর এসব স্থাপনা লক্ষ্য করে অবিরাম হামলা চালিয়ে যাচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েল। এই হিসাবের মধ্যে এমন লঞ্চারও থাকতে পারে, যেগুলো এসব স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় হয়তো মাটির নিচে চাপা পড়েছে, কিন্তু পুরোপুরি ধ্বংস হয়নি। এই গোয়েন্দা মূল্যায়ন ইরানের সামরিক সক্ষমতা সম্পর্কে আরও সূক্ষ্ম ও বাস্তবসম্মত চিত্র তুলে ধরেছে, যা প্রকাশ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তাঁর প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তাদের দেওয়া সামরিক বিজয়ের ব্যাপক দাবির তুলনায় ভিন্ন দৃশ্যপটই সামনে আনছে।
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র
{{/usCountry}}ইজরায়েল-সহ বিভিন্ন পক্ষের যুদ্ধ-পূর্ববর্তী মূল্যায়ন থেকে জানা যায়, ইরান ২,০০০ থেকে ২,৫০০ মাঝারি পাল্লার ব্যালিস্টিক মিসাইল (এমআরবিএম) এবং ৬,০০০ থেকে ৮,০০০ স্বল্প পাল্লার মিসাইল (এসআরবিএম) নিয়ে যুদ্ধে যোগ দিয়েছিল। অবশ্য এটি সঠিক সংখ্যা বলে নিশ্চিত করা কঠিন। ওয়াশিংটন-ভিত্তিক সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের তথ্য অনুযায়ী, ইরানের কাছে ভূমি থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ‘সুমার’ও রয়েছে, যার সর্বোচ্চ পাল্লা ৩,০০০ কিলোমিটার বলে জানা গেছে। এছাড়াও, তাদের কাছে ২,০০০ কিলোমিটার মাঝারি পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ‘সেজ্জিল’ও রয়েছে।
কী বলছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র?
অন্যদিকে, প্রকাশ্য বক্তব্যে মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতর- পেন্টাগন ধ্বংস হওয়া অস্ত্রের সংখ্যায় নয়, বরং ইরানের হামলার হার কমে যাওয়ার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়েছে। এক ব্রিফিংয়ে মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ বলেন, সংঘাত শুরুর পর থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনীর ওপর ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ৯০ শতাংশ কমেছে এবং একমুখী আক্রমণকারী ড্রোন (কামিকাজে ড্রোন) হামলাও একই হারে কমেছে। এদিকে গোয়েন্দাদের সাম্প্রতিক মূল্যায়ন সম্পর্কে সিএনএনের পক্ষ থেকে প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হলে, হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আন্না কেলি বলেন, 'নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এসব সূত্র প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে আক্রমণ করতে এবং 'অপারেশন এপিক ফিউরি'র মাধ্যমে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর অসাধারণ সাফল্যকে খাটো করতে চাইছে।
এরমধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে তারা অভিযান শেষ করবে যখন তারা নিশ্চিত হবে যে, ইরান আর পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে পারবে না। মঙ্গলবার ওভাল অফিসে ট্রাম্প বলেন, 'ইরান চুক্তি করতে মরিয়া হয়ে আছে। তবে তা হোক বা না হোক, আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যেই অভিযান শেষ হবে বলে আশা করছি।' এদিকে, মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার পর্যন্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানে ১২ হাজার ৩০০টিরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। মার্কিন সামরিক অভিযান ইরানের সামরিক সক্ষমতাকে উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল করে দিয়েছে। পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের শীর্ষ পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ নেতাদেরও হত্যা করা হয়েছে-যাদের মধ্যে রয়েছেন সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনি এবং জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান আলি লারজানি।