...
...
Next Story

Fake post on Iran's Nuclear Prog from India: ‘ইরানি পরমাণু’ নিয়ে ভারত থেকে করা ভুয়ো পোস্টে ইরান-আমেরিকা সংঘাতে নতুন আগুন

সম্প্রতি ইরানি পরমাণু-সংক্রান্ত এক মিথ্যা দাবি ছড়িয়ে পড়েছিল ভারতের একটি অজ্ঞাতপরিচয় সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট থেকে। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইজরায়েল ও আমেরিকার রাজনৈতিক পরিসরে তা পৌঁছে গিয়েছিল। এমনকি সেই দাবি ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর বক্তব্যেও উঠে আসে।

Published on: Aug 17, 2026, 11:44:30 IST
Advertisement

আমেরিকা ও ইরানের সংঘাত এখন আর শুধু ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন বা হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে সীমাবদ্ধ নেই। যুদ্ধের পাশাপাশি সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয়েছে আর এক ধরনের লড়াই—ভুয়ো তথ্য, বিভ্রান্তিকর দাবি এবং পাল্টা প্রচারের লড়াই। সম্প্রতি ইরানি পরমাণু-সংক্রান্ত এক মিথ্যা দাবি ছড়িয়ে পড়েছিল ভারতের একটি অজ্ঞাতপরিচয় সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট থেকে। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইজরায়েল ও আমেরিকার রাজনৈতিক পরিসরে তা পৌঁছে গিয়েছিল। এমনকি সেই দাবি ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর বক্তব্যেও উঠে আসে। পরে সেটি শেয়ার করেন রাষ্ট্রসংঘে ট্রাম্প প্রশাসনের মার্কিন দূত মাইক ওয়াল্টজও।

সম্প্রতি ইরানি পরমাণু-সংক্রান্ত এক মিথ্যা দাবি ছড়িয়ে পড়েছিল ভারতের একটি অজ্ঞাতপরিচয় সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট থেকে। (via REUTERS)
সম্প্রতি ইরানি পরমাণু-সংক্রান্ত এক মিথ্যা দাবি ছড়িয়ে পড়েছিল ভারতের একটি অজ্ঞাতপরিচয় সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট থেকে। (via REUTERS)

ঘটনার সূত্রপাত ৫ আগস্ট সকালে। ভারতের একটি X অ্যাকাউন্টে দাবি করা হয়, ইরানের ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পস বা IRGC-এর কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমদ ভাহিদি নাকি বলেছেন, আমেরিকা ও ইজরায়েলের হাতে পরমাণু অস্ত্র থাকা পর্যন্ত ইরানও পরমাণু অস্ত্র তৈরির চেষ্টা ছাড়বে না। পোস্টটির সঙ্গে ভাহিদির ছবি এবং একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI-নির্মিত মাশরুম ক্লাউডের ছবি ব্যবহার করা হয়েছিল। কিন্তু ওই বক্তব্য ভাহিদি আদৌ করেছিলেন—এমন কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ইরান পরমাণু অস্ত্র তৈরি করেছে, এমন প্রমাণও নেই।

তারপরও দাবিটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। প্রথম ভারতীয় অ্যাকাউন্টটির প্রায় ১ লক্ষ ৭৫ হাজার অনুসারী ছিল। প্রায় দুই ঘণ্টার মধ্যে আরও একটি ভারতীয় অ্যাকাউন্ট একই দাবি হিন্দিতে পোস্ট করে। এরপর ইজরায়েলের ‘Mossad Commentary’ নামে একটি অ্যাকাউন্ট সেটি প্রচার করতে শুরু করে। নামের সঙ্গে ইজরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থার মিল থাকলেও ওই অ্যাকাউন্টের সঙ্গে মোসাদের কোনও নিশ্চিত যোগাযোগ নেই।

ওয়াশিংটনেও একইভাবে ছড়িয়ে পড়ে খবরটি। মাইক ওয়াল্টজ পোস্টটি শেয়ার করে দাবি করেন, ইরান শেষ পর্যন্ত এমন কিছু স্বীকার করছে যা তাঁর মতে বহুদিন ধরেই স্পষ্ট। ফ্লোরিডার রিপাবলিকান সেনেটর রিক স্কটও পোস্টটি শেয়ার করেন। Fox News-এও কথিত উদ্ধৃতিটি প্রচারিত হয়। পরে অবশ্য সেই দাবির সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। ওয়াল্টজ তাঁর পোস্টটি X থেকে সরিয়ে দেন, যদিও কোনও ব্যাখ্যা দেননি। Fox News-ও পরে জানায়, উদ্ধৃতিটি যাচাই করা হয়নি এবং তা সঠিক নয়।

ইরানের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই এই ভাইরাল দাবিকে ‘মিথ্যার বন্যা’র অংশ বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাঁর অভিযোগ, ইরানকে ঘিরে এমন দাবি বহু বছর ধরেই সামরিক পদক্ষেপের পক্ষে জনমত তৈরিতে ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে তাঁর পাল্টা অভিযোগের পক্ষেও স্বাধীন প্রমাণ সামনে আসেনি।

এই ঘটনা দেখিয়ে দিচ্ছে, যুদ্ধের সময়ে একটি অজ্ঞাত সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট কীভাবে বিভিন্ন দেশ, ভাষা ও সংবাদমাধ্যম পেরিয়ে রাজনৈতিক বক্তব্যের অংশ হয়ে উঠতে পারে। তথ্য যাচাই হওয়ার আগেই যখন কোনও দাবি বারবার বিভিন্ন জায়গায় প্রচারিত হয়, তখন সেটিই ধীরে ধীরে সত্য বলে মনে হওয়ার ঝুঁকি তৈরি করে। ইরান-আমেরিকা সংঘাতের মধ্যে তাই সামরিক লড়াইয়ের পাশাপাশি তথ্যযুদ্ধও এখন গুরুত্বপূর্ণ সমরক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে।

 
ABOUT THE AUTHOR
Abhijit Chowdhury

২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।

SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe