জম্মু ও কাশ্মীরের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা ন্যাশনাল কনফারেন্সের (এনসি) সভাপতি ফারুক আবদুল্লাকে খুনের চেষ্টা করা হয় ১১ মার্চ। জম্মুর উপকণ্ঠে গ্রেটার কৈলাশের হোটেল রয়্যাল পার্কে একটি বিয়ের অনুষ্ঠান চলাকালীন এই হামলার চেষ্টা করা হয়। তবে নিরাপত্তা কর্মীদের তৎপরতার কারণে বড়সড় দুর্ঘটনা এড়ানো যায়। ঘটনায় হামকারীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তদন্তকারীরা জানিয়েছে, হামলাকারী জম্মুর পুরানি মান্ডি এলাকার বাসিন্দা ৬৩ বছর বয়সি কমল সিং জামওয়াল। গ্রেফতারির পর অভিযুক্ত যে দাবি করেছে তাতে গোয়েন্দারা অবাক হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। জামওয়াল পুলিশকে জানিয়েছেন যে তিনি গত দুই দশক ধরে ফারুক আবদুল্লাকে হত্যার পরিকল্পনা করছিলেন। তিনি এটাকে তাঁর ব্যক্তিগত এজেন্ডা হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

অভিযুক্তের কাছ থেকে একটি পিস্তল উদ্ধার করা হয়েছে। হামলাকারী কমল জামওয়াল দাবি করেন, সেটি তাঁর নিজস্ব লাইসেন্সপ্রাপ্ত বন্দুক। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঘটনার সময় অভিযুক্ত মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন। কীভাবে এই হামলা ঘটল? ফারুক আবদুল্লা এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের উপ-মুখ্যমন্ত্রী সুরিন্দর চৌধুরী দলের এক নেতার ছেলের বিয়েতে অংশ নিয়েছিলেন। সেই সময় হোটেলে পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে ফারুককে গুলি করার চেষ্টা করা হয়। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, হামলাকারী পেছন থেকে ফারুক আবদুল্লার কাছে এসে তাঁর দিকে বন্দুক তাক করেন। গুলি চালানোর আগেই ফারুক আবদুল্লার 'ক্লোজ প্রোটেকশন টিম' হামলাকারীকে গ্রেফতার করে। এই ঘটনার পরে সেখানে উপস্থিত ন্যাশনাল কনফারেন্স কর্মী ও অন্যান্যরা অভিযুক্তকে প্রচণ্ড মারধর করে।
এদিকে বাবার ওপর হামলার ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা। তিনি এক্স পোস্টে লিখেছেন, 'ঈশ্বরকে ধন্যবাদ যে আমার বাবা নিরাপদে আছেন। প্রশ্ন হল, জেড প্লাস সিকিউরিটি থাকা একজন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর এত কাছে কীভাবে বন্দুক নিয়ে পৌঁছে গেলেন কেউ? এর পিছনে অনেক উত্তরহীন প্রশ্ন রয়েছে।' ঘটনাস্থলে উপস্থিত উপমুখ্যমন্ত্রীও এই ঘটনাকে নিরাপত্তার গাফিলতি বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী, উপমুখ্যমন্ত্রী ও উপদেষ্টারা যখন একই জায়গায় থাকেন, তখন এই ধরনের ঘটনা নিরাপত্তায় গাফিলতির বিষয়টি তুলে ধরেন। এদিকে এই ঘটনায় জম্মু পুলিশ একটি মামলা দায়ের করেছে এবং বিস্তারিত তদন্ত শুরু করেছে। প্রাথমিক তদন্তের পর অবশ্য পুলিশ জানিয়েছে, এই হামলার সঙ্গে সন্ত্রাসবাদের কোনও যোগ নেই। পুলিশ বলে, ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে এই হামলা চালানো হয়েছে। তবে অভিযুক্ত কীভাবে অস্ত্র নিয়ে নিরাপত্তা বেষ্টনী ভেঙে সেখানে যান, তা নিয়ে তদন্ত চলছে।