পাকিস্তান ফের ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করল। এ বার আরও দূরপাল্লার ফতেহ-৪। মঙ্গলবার স্থানীয় ভাবে তৈরি এই গ্রাউন্ড লঞ্চড ক্রুজ মিসাইলের বর্ধিত সংস্করণের সফল পরীক্ষা চালিয়েছে পাক সেনা। তাদের দাবি, নতুন সংস্করণটি আরও দূরের লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁত ভাবে আঘাত হানতে পারবে।

ভারত পাকিস্তান সংঘাতের আবহে ফের ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা ইসলামাবাদের। মঙ্গলবার বর্ধিত সংস্করণের ফতেহ-৪ গ্রাউন্ড লঞ্চড ক্রুজ মিসাইলের সফল পরীক্ষা চালাল পাকিস্তান। পাক সেনার দাবি, আগের তুলনায় এই সংস্করণ আরও দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করতে পারবে। শুধু দূরত্ব নয়, আঘাতের নির্ভুলতা এবং ক্ষেপণাস্ত্রের টিকে থাকার ক্ষমতাও বাড়ানো হয়েছে।
ফতেহ-৪ নিয়ে পাকিস্তান আগে থেকেই কাজ করছে। চলতি বছরের মে মাসে এই সিরিজের ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ করা হয়েছিল। তার পর এ বার সামনে এল আরও উন্নত সংস্করণ। ফলে পাকিস্তানের দূরপাল্লার প্রচলিত হামলা ক্ষমতা বাড়ানোর প্রচেষ্টায় এই পরীক্ষা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
পাক সেনার বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নতুন ক্ষেপণাস্ত্রে উন্নত অ্যাভিওনিক্স ব্যবহার করা হয়েছে। রয়েছে আধুনিক নেভিগেশন ব্যবস্থাও। এর ফলে লক্ষ্য নির্ধারণ এবং আঘাত হানার ক্ষেত্রে আরও বেশি নির্ভুলতা পাওয়া যাবে বলে দাবি তাদের। একই সঙ্গে বিভিন্ন সাব সিস্টেমের কার্যকারিতাও পরীক্ষা করা হয়েছে। যুদ্ধের পরিস্থিতিতে যাতে ক্ষেপণাস্ত্র নিজের কাজ করতে পারে, সেই সক্ষমতা আরও বাড়ানোর দিকেও নজর দেওয়া হয়েছে।
তবে একটি বিষয় বিশেষ ভাবে চোখে পড়েছে। পাকিস্তান এ বারের পরীক্ষায় নতুন ফতেহ-৪ এর নির্দিষ্ট পাল্লা প্রকাশ করেনি। অর্থাৎ ঠিক কত কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে এটি আঘাত করতে পারবে, সেই তথ্য এখনও সরকারি ভাবে জানানো হয়নি। ফলে আগের সংস্করণের তুলনায় বাস্তবে কতটা বাড়ল এর ক্ষমতা, তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে।
{{/usCountry}}তবে একটি বিষয় বিশেষ ভাবে চোখে পড়েছে। পাকিস্তান এ বারের পরীক্ষায় নতুন ফতেহ-৪ এর নির্দিষ্ট পাল্লা প্রকাশ করেনি। অর্থাৎ ঠিক কত কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে এটি আঘাত করতে পারবে, সেই তথ্য এখনও সরকারি ভাবে জানানো হয়নি। ফলে আগের সংস্করণের তুলনায় বাস্তবে কতটা বাড়ল এর ক্ষমতা, তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে।
{{/usCountry}}ফতেহ-৪ একটি গ্রাউন্ড লঞ্চড ক্রুজ মিসাইল। ব্যালেস্টিক মিসাইলের মতো সরাসরি উঁচু পথে ছুটে যায় না ক্রুজ মিসাইল। তুলনামূলক নিচু উচ্চতায় উড়ে লক্ষ্যবস্তুর দিকে এগিয়ে যেতে পারে। ফলে শত্রুর নজর এড়িয়ে আঘাত হানার ক্ষেত্রে এই ধরনের ক্ষেপণাস্ত্রকে গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র হিসাবে দেখা হয়। ফতেহ-৪ এর ক্ষেত্রেও কম উচ্চতায় উড়ে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এড়ানোর সক্ষমতার কথা বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
মঙ্গলবারের পরীক্ষার সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন পাকিস্তান সেনার শীর্ষ আধিকারিকেরা। ছিলেন সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি তৈরির সঙ্গে যুক্ত বিজ্ঞানী এবং ইঞ্জিনিয়াররাও। পরীক্ষা সফল হওয়ার পরে তাঁদের অভিনন্দন জানিয়েছেন পাক প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি, প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং পাক সেনাপ্রধান তথা চিফ অফ ডিফেন্স ফোর্সেস ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির।
এই পরীক্ষার পিছনে পাকিস্তানের আরও বড় লক্ষ্য রয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে। দীর্ঘ পাল্লার প্রচলিত হামলা ক্ষমতা বাড়াতে চাইছে ইসলামাবাদ। আকাশপথের পাশাপাশি স্থলভিত্তিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থাকেও ক্রমশ শক্তিশালী করা হচ্ছে। ফতেহ সিরিজ তারই অংশ।
দক্ষিণ এশিয়ায় ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিযোগিতার প্রেক্ষাপটে তাই পাকিস্তানের এই নতুন পরীক্ষা যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সংঘাতের পরে দুই দেশেরই নির্ভুল এবং দূরপাল্লার অস্ত্রের উপর জোর আরও স্পষ্ট হয়েছে। তবে নতুন ফতেহ-৪ ঠিক কতটা দূরে গিয়ে আঘাত করতে পারবে, তার সরকারি তথ্য সামনে না আসা পর্যন্ত এর প্রকৃত ক্ষমতার পুরো ছবি পাওয়া যাচ্ছে না।
একটি বিষয় অবশ্য পরিষ্কার। পাকিস্তান ফতেহ সিরিজে থামছে না। পরীক্ষা, উন্নতি, ফের পরীক্ষা। সেই পথেই আরও শক্তিশালী ফতেহ-৪ এর দিকে এগোচ্ছে ইসলামাবাদ।