আন্তর্জাতিক আর্থিক অপরাধ দমন ব্যবস্থায় আরও গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান অর্জন করল ভারত। প্রথমবারের মতো বৈশ্বিক অর্থপাচার ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধকারী সংস্থা ফিনান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্ক ফোর্স (FATF)-এর ভাইস-প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচিত হয়েছে ভারত। এই পদে দায়িত্ব পালন করবেন কেন্দ্রীয় সরকারের কর্মকর্তা বিবেক আগরওয়াল। তাঁর মেয়াদ শুরু হবে ২০২৬ সালের জুলাই মাস থেকে এবং চলবে ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত। এর জেরে পাকিস্তানের ঘুম উড়তে পারে।

ভারতের অর্থ মন্ত্রক জানিয়েছে, FATF নেতৃত্বে ভারতের এই উত্থান আন্তর্জাতিক মহলে দেশের প্রতি আস্থা ও বিশ্বাসেরই প্রতিফলন। ভারত দীর্ঘদিন ধরে অর্থপাচার, সন্ত্রাসে অর্থায়ন এবং অবৈধ আর্থিক লেনদেন রোধে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছে। বিশেষ করে ডিজিটাল পেমেন্ট, ভার্চুয়াল অ্যাসেট এবং নতুন আর্থিক প্রযুক্তি সংক্রান্ত নীতি নির্ধারণে ভারতের অবদান আন্তর্জাতিক মহলে প্রশংসিত হয়েছে।
রাজস্ব সচিব অরবিন্দ শ্রীবাস্তব এই নির্বাচনের পর একে ভারতের জন্য “গর্বের মাইলফলক” বলে উল্লেখ করেছেন। তাঁর মতে, FATF-এর নেতৃত্ব পর্যায়ে ভারতের উপস্থিতি আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা রক্ষায় দেশের ক্রমবর্ধমান ভূমিকার স্বীকৃতি।
১৯৮৯ সালে জি-৭ উদ্যোগে গঠিত FATF বর্তমানে অর্থপাচার, সন্ত্রাসে অর্থায়ন এবং গণবিধ্বংসী অস্ত্র বিস্তারে অর্থ জোগানের বিরুদ্ধে বৈশ্বিক মানদণ্ড নির্ধারণকারী প্রধান সংস্থা। বিশ্বের অধিকাংশ দেশ FATF-এর সুপারিশ অনুসরণ করে নিজেদের আর্থিক ও নিয়ন্ত্রক কাঠামো গড়ে তোলে। ভারত ২০১০ সালে FATF-এর পূর্ণ সদস্যপদ লাভ করে এবং তারপর থেকে সংস্থার বিভিন্ন নীতি ও মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, FATF-এর ভাইস-প্রেসিডেন্ট পদে ভারতের নির্বাচন কেবল একটি কূটনৈতিক সাফল্য নয়, বরং বৈশ্বিক আর্থিক প্রশাসনে দেশের ক্রমবর্ধমান প্রভাবেরও প্রতীক। এমন এক সময়ে এই দায়িত্ব ভারতের হাতে এল, যখন সাইবার জালিয়াতি, আন্তঃসীমান্ত অর্থপাচার, ক্রিপ্টোকারেন্সির অপব্যবহার এবং সন্ত্রাসে অর্থায়নের মতো চ্যালেঞ্জ দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। FATF-এর সাম্প্রতিক আলোচনাগুলিতেও প্রযুক্তিনির্ভর আর্থিক অপরাধ মোকাবিলাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
{{/usCountry}}বিশ্লেষকদের মতে, FATF-এর ভাইস-প্রেসিডেন্ট পদে ভারতের নির্বাচন কেবল একটি কূটনৈতিক সাফল্য নয়, বরং বৈশ্বিক আর্থিক প্রশাসনে দেশের ক্রমবর্ধমান প্রভাবেরও প্রতীক। এমন এক সময়ে এই দায়িত্ব ভারতের হাতে এল, যখন সাইবার জালিয়াতি, আন্তঃসীমান্ত অর্থপাচার, ক্রিপ্টোকারেন্সির অপব্যবহার এবং সন্ত্রাসে অর্থায়নের মতো চ্যালেঞ্জ দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। FATF-এর সাম্প্রতিক আলোচনাগুলিতেও প্রযুক্তিনির্ভর আর্থিক অপরাধ মোকাবিলাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
{{/usCountry}}ভারতের কাছে এই দায়িত্ব তাই শুধু মর্যাদার নয়, বরং বৈশ্বিক আর্থিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার একটি বড় সুযোগ হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, FATF নেতৃত্বে ভারতের উপস্থিতি ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক আর্থিক নীতি নির্ধারণ এবং সন্ত্রাসে অর্থায়ন রোধে দেশের কণ্ঠস্বরকে আরও প্রভাবশালী করে তুলবে।