...
...
Next Story

Favourable view about India: ভারতকে 'ভালো চোখে' দেখেন শ্রীলঙ্কার ৭৯%, বাংলাদেশ-আমেরিকা-পাকিস্তানের পরিসংখ্যান কী বলছে?

সমীক্ষা অনুযায়ী, শ্রীলঙ্কার ৭৯ শতাংশ মানুষ ভারতের প্রতি অনুকূল মনোভাব পোষণ করেন। মাত্র ১১ শতাংশের মতামত নেতিবাচক। অর্থাৎ, বিশ্বের ৩৬টি দেশের মধ্যে ভারতের সবচেয়ে বড় সমর্থন মিলেছে শ্রীলঙ্কায়। এর ঠিক বিপরীত ছবি দেখা গিয়েছে বাংলাদেশে।

Published on: Aug 14, 2026, 09:01:22 IST
Advertisement

বিশ্বের মানুষের চোখে ভারতের ভাবমূর্তি কেমন? সেই প্রশ্নের উত্তর দিয়েছে মার্কিন গবেষণা সংস্থা Pew Research Center-এর ২০২৬ সালের Global Attitudes Survey। ৩৬টি দেশের মানুষের মতামতের ভিত্তিতে তৈরি এই সমীক্ষায় সবচেয়ে বড় চমক হল— ভারতকে সবচেয়ে বেশি ইতিবাচকভাবে দেখে শ্রীলঙ্কা, আর প্রতিবেশী বাংলাদেশে ভারতের প্রতি নেতিবাচক মতামতই বেশি।

সমীক্ষা অনুযায়ী, শ্রীলঙ্কার ৭৯ শতাংশ মানুষ ভারতের প্রতি অনুকূল মনোভাব পোষণ করেন। (PTI)
সমীক্ষা অনুযায়ী, শ্রীলঙ্কার ৭৯ শতাংশ মানুষ ভারতের প্রতি অনুকূল মনোভাব পোষণ করেন। (PTI)

সমীক্ষা অনুযায়ী, শ্রীলঙ্কার ৭৯ শতাংশ মানুষ ভারতের প্রতি অনুকূল মনোভাব পোষণ করেন। মাত্র ১১ শতাংশের মতামত নেতিবাচক। অর্থাৎ, বিশ্বের ৩৬টি দেশের মধ্যে ভারতের সবচেয়ে বড় সমর্থন মিলেছে শ্রীলঙ্কায়। এর ঠিক বিপরীত ছবি দেখা গিয়েছে বাংলাদেশে। সেখানে ৪২ শতাংশ মানুষ ভারতের প্রতি ইতিবাচক মতামত দিয়েছেন, কিন্তু ৫১ শতাংশ মানুষ নেতিবাচক মত প্রকাশ করেছেন। অর্থাৎ, বর্তমানে বাংলাদেশে ভারতের ভাবমূর্তি ইতিবাচকের তুলনায় বেশি সমালোচনার মুখে।

শ্রীলঙ্কা কেন এত এগিয়ে?

অর্থনৈতিক সংকটের সময় ভারত শ্রীলঙ্কাকে কয়েকশো কোটি ডলারের ঋণ, জ্বালানি, খাদ্য ও ওষুধ দিয়ে সাহায্য করেছিল। সেই সহযোগিতার প্রভাব এখনও সাধারণ মানুষের মনোভাবেও প্রতিফলিত হচ্ছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা। গত কয়েক বছরে দুই দেশের বাণিজ্য, পর্যটন ও কৌশলগত সম্পর্কও আরও শক্তিশালী হয়েছে।

বাংলাদেশে কেন কমল সমর্থন?

Pew-এর তথ্য বলছে, ২০২৪ সালের তুলনায় বাংলাদেশে ভারতের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব ১৫ শতাংশ পয়েন্ট কমেছে। দুই দেশের সীমান্ত ইস্যু, রাজনৈতিক টানাপোড়েন, কূটনৈতিক বিতর্ক এবং সাম্প্রতিক সম্পর্কের অবনতিকে এর অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ফলে প্রতিবেশী দুই দেশের মধ্যে ভারতের ভাবমূর্তি এখন সম্পূর্ণ ভিন্ন ছবি তুলে ধরেছে।

যে সব দেশে ভারতের প্রতি সবচেয়ে বেশি ইতিবাচক মত:

ব্রিটেন ৭১%

কেনিয়া ৭১%

জার্মানি ৬৩%

ইজরায়েল ৬০%

অন্যদিকে সবচেয়ে নেতিবাচক মনোভাব দেখা গিয়েছে পাকিস্তানে। সেখানে ৯১ শতাংশ মানুষ ভারতের বিরুদ্ধে মত প্রকাশ করেছেন, আর মাত্র ৭ শতাংশ ইতিবাচক মত দিয়েছেন। এদিকে আমেরিকায় ৫০ শতাংশ মানুষ ভারতকে নেতিবাচক চোখে দেখে বলে দাবি করা হয়েছে রিপোর্টে। অস্ট্রেলিয়াতেও ৫৫ শতাংশ মানুষ নেতিবাচক চোখে দেখে ভারতকে। মালয়েশিয়ায় ৫৮ শতাংশ মানুষ নেতিবাচক চোখে দেখে ভারতকে। ব্রাজিলে ৪১ শতাংশ মানুষ ভারতকে নেতিবাচক চোখে দেখে এবং ৩৭ শতাংশ দেখে ইতিবাচক চোখে। মেক্সিকোতেও ভারতকে ৪৪ শতাংশ মানুষ নেতিবাচক চোখে দেখে, ইতিবাচক চোখে দেখে মাত্র ৩০ শতাংশ; আর্জেন্টিনায় ভারতের প্রতি নেতিবাচক মনোভাব ৪১ শতাংশের, ইতিবাচর মাত্র ২৪ শতাংশের। ুরস্কে ৭২ শতাংশ মানুষেরই নেতিবাচক দৃষ্টি ভারতের প্রতি।

বিশ্বে ভারতের অবস্থান

৩৬টি দেশের গড় হিসাবে ৪৫ শতাংশ মানুষ ভারতের প্রতি অনুকূল এবং ৪১ শতাংশ মানুষ অননুকূল মতামত দিয়েছেন। অর্থাৎ, সামগ্রিকভাবে ভারতের ভাবমূর্তি এখনও ইতিবাচক দিকেই রয়েছে, তবে সব দেশে একই রকম নয়।

এই সমীক্ষা আরও একবার দেখিয়ে দিল, প্রতিবেশী দুই দেশ শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশে ভারতের গ্রহণযোগ্যতার ব্যবধান এখন স্পষ্ট। একদিকে শ্রীলঙ্কায় ভারতের প্রতি বিপুল আস্থা, অন্যদিকে বাংলাদেশে সমর্থনের চেয়ে সমালোচনাই বেশি—যা দক্ষিণ এশিয়ার কূটনীতিতে নতুন আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।

 
ABOUT THE AUTHOR
Abhijit Chowdhury

২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।

SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe