মার্কিন মুলুকে এফবিআই-র দশজনের মোস্ট ওয়ান্ডেড লিস্টে এবার নাম উঠল গ্যাংস্টার গোল্ডি ব্রারের। তাঁর বিরুদ্ধে মাদক পাচার, তোলাবাজি, খুন সহ একাধিক অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। প্রসঙ্গত, কানাডায় খলিস্তানপন্থী নেতা হরদীপ সিং নিজ্জরের খুনে অভিযোগের তির রয়েছে এই গোল্ডি ব্রারের দিকে। যে নিজ্জর হত্যাকাণ্ড নিয়ে এককালে ভারত-কানাডার সম্পর্কে চিড় ধরেছিল।

কিছু দিন আগে, এক বিস্ফোরক অডিয়ো ফাঁস হয়। সেই অডিয়োর (অডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা) একপ্রান্তে শোনা যায় পলাতক গ্যাংস্টার গোল্ডি ব্রারের কণ্ঠ। শোনা যায় ফোনে গোল্ডি দাবি করছেন, তরুণদের মাদক পাচারে উৎসাহিত করা একটি চক্রকে সমর্থন করত নিজ্জর। বিশেষ করে ১৬-১৭ বছরের কিশোরদের মাদক বিক্রির কাজে ব্যবহার এবং তাদের ব্ল্যাকমেল করে পুলিশের ‘ইনফর্মার’ হিসেবে কাজে লাগানোর অভিযোগ তোলা হয়েছে। গোল্ডিকে সেখানে বলতে শোনা যায়, ‘এই কারণেই আমায় ও আমার দলকে নিজ্জরকে হত্যা করতে হয়েছিল।’ এই অডিয়ো ফাঁসের পরের মাসেই মার্কিন তদন্তকারী সংস্থা এফবিআই-র মোস্ট ওয়ান্টেড লিস্টে নাম উঠল গোল্ডি ব্রারের। তাঁকে ধরতে পারলে ১ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের পুরস্কার ঘোষিত হয়েছে।
এই গোল্ডি ব্রার কোথায়! তার হদিশ পেতে চাইছে আমেরিকা। শোনা যাচ্ছে, ক্যালিফোর্নিয়া, কানাডার বিভিন্ন অংশে ব্রারের আনাগোনা রয়েছে। এফবিআই-এর মতে, ব্রার উত্তর আমেরিকায় লরেন্স বিষ্ণোই নামক সংগঠিত অপরাধী চক্রের একজন তাবড় নাম। ভারত-ভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংগঠিত অপরাধী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে বছরের পর বছর ধরে চলা আমেরিকার ফেডারেল তদন্ত ‘অপারেশন হার্ডবল’-এর সময় শনাক্ত হওয়া পলাতকদের মধ্যে ব্রারও ছিলেন। এফবিআই-এর অভিযোগ, লরেন্স বিষ্ণোই এবং ব্রার কানাডায় বসবাসকারী পাঞ্জাবের একজন বিশিষ্ট নেতাকে হত্যার নির্দেশ দিয়েছিলেন। আদালতের নথিতে ‘এইচএসএন’ নামে চিহ্নিত ওই ব্যক্তিকে ২০২৩ সালের ১৮ই জুন ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার সারেতে একটি শিখ মন্দিরের বাইরে গুলি করে হত্যা করা হয়। উল্লেখ্য, ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার একটি গুরুদ্বারের বাইরে হরদীপ সিং নিজ্জরকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছিল। এর আগে, ভারত নিজ্জারকে সন্ত্রাসী হিসেবে চিহ্নিত করেছিল।