বিশ্বকাপ মানেই অঘটনের মঞ্চ। আর এবারের টুর্নামেন্টে সেই অঘটনের সবচেয়ে বড় নাম হয়ে উঠছে কেপ ভার্দে। মাত্র পাঁচ লক্ষের কিছু বেশি জনসংখ্যার আফ্রিকার ছোট্ট দ্বীপরাষ্ট্রটি বিশ্বকাপে প্রথমবার অংশ নিয়েই তাক লাগিয়ে দিয়েছে ফুটবল বিশ্বকে। প্রথম ম্যাচে ইউরোপের চ্যাম্পিয়ন স্পেনকে গোলশূন্য ড্র করিয়ে চমক দিয়েছিল কেপ ভার্দে। অনেকেই ভেবেছিলেন, সেটি হয়তো এক দিনের ঘটনা। কিন্তু দ্বিতীয় ম্যাচে এসে তারা প্রমাণ করে দিল, স্পেনের বিরুদ্ধে পাওয়া ফল মোটেও দুর্ঘটনা ছিল না। এবার দুবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন উরুগুয়েকেও ২-২ গোলে আটকে দিল কেপ ভার্দে।

মায়ামি স্টেডিয়ামে শুরু থেকেই আত্মবিশ্বাসী ফুটবল খেলতে দেখা যায় কেপ ভার্দেকে। ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে উরুগুয়ের থেকে অনেক পিছিয়ে থাকলেও মাঠে তার কোনও ছাপ দেখা যায়নি। বরং সুযোগ পেলেই আক্রমণে উঠেছে তারা। ম্যাচের ২১ মিনিটে ইতিহাস গড়ে কেপ ভার্দে। প্রায় ৩২ মিটার দূর থেকে সরাসরি ফ্রি-কিকে দুর্দান্ত গোল করেন কেভিন পিনা। এটি ছিল বিশ্বকাপে কেপ ভার্দের প্রথম গোল। শুধু তাই নয়, এবারের বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে দূরপাল্লার গোলও এটি। এই গোলেই ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় আফ্রিকার দলটি।
গোল খাওয়ার পর আক্রমণের ঝাঁজ বাড়ায় উরুগুয়ে। প্রথমার্ধের ৪৪ মিনিটে মাক্সিমিলিয়ানো আরাউহো গোল করে সমতা ফেরান। এরপর অতিরিক্ত সময়ে আগুস্তিন কানোবিওর গোলে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় দক্ষিণ আমেরিকার দল। তখন মনে হচ্ছিল, কেপ ভার্দের স্বপ্নযাত্রা হয়তো এখানেই শেষ হতে চলেছে। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে আবারও ঘুরে দাঁড়ায় কেপ ভার্দে। ৬১ মিনিটে উরুগুয়ের রক্ষণভাগের ভুলের সুযোগ নিয়ে বদলি খেলোয়াড় হেলিও ভারেলা দুর্দান্ত ফিনিশে গোল করে ম্যাচে সমতা ফেরান। এরপর উরুগুয়ে একাধিক আক্রমণ চালালেও আর গোলের দেখা পায়নি।
ম্যাচের পরিসংখ্যানও কেপ ভার্দের লড়াইয়ের ছবি তুলে ধরছে। উরুগুয়ে ১৭টি শট নিলেও গোলমুখে রাখতে পেরেছে মাত্র দুটি। অন্যদিকে কেপ ভার্দে ১২টি শট নিয়ে চারবার লক্ষ্যে বল রাখতে সক্ষম হয়। আফ্রিকার দলটির সাহসী ফুটবলই তাদের ম্যাচে টিকিয়ে রেখেছিল। উরুগুয়ের তারকা ফুটবলার ফেদে ভালভের্দের একটি গোল অফসাইডের কারণে বাতিল হয়। তবে ভাগ্যের চেয়ে নিজেদের পারফরম্যান্সের জোরেই পয়েন্ট আদায় করেছে কেপ ভার্দে। ম্যাচের শেষ দিকে কয়েকটি সুযোগ কাজে লাগাতে পারলে তারা জিতেও যেতে পারত।
{{/usCountry}}ম্যাচের পরিসংখ্যানও কেপ ভার্দের লড়াইয়ের ছবি তুলে ধরছে। উরুগুয়ে ১৭টি শট নিলেও গোলমুখে রাখতে পেরেছে মাত্র দুটি। অন্যদিকে কেপ ভার্দে ১২টি শট নিয়ে চারবার লক্ষ্যে বল রাখতে সক্ষম হয়। আফ্রিকার দলটির সাহসী ফুটবলই তাদের ম্যাচে টিকিয়ে রেখেছিল। উরুগুয়ের তারকা ফুটবলার ফেদে ভালভের্দের একটি গোল অফসাইডের কারণে বাতিল হয়। তবে ভাগ্যের চেয়ে নিজেদের পারফরম্যান্সের জোরেই পয়েন্ট আদায় করেছে কেপ ভার্দে। ম্যাচের শেষ দিকে কয়েকটি সুযোগ কাজে লাগাতে পারলে তারা জিতেও যেতে পারত।
{{/usCountry}}বিশ্বকাপের অভিষেক মঞ্চে স্পেন ও উরুগুয়ের মতো দুই শক্তিশালী দলের বিরুদ্ধে টানা দুই ম্যাচে ড্র করে চারদিকে প্রশংসা কুড়াচ্ছে কেপ ভার্দে। মাত্র দুটি ম্যাচেই তারা বুঝিয়ে দিয়েছে, ফুটবলে নাম বা ইতিহাস নয়, মাঠের পারফরম্যান্সই শেষ কথা। বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় রূপকথার জন্ম হয়তো এখনও বাকি। তবে কেপ ভার্দে ইতিমধ্যেই দেখিয়ে দিয়েছে, ছোট দেশ বলেই বড় স্বপ্ন দেখা যায় না—এ ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। তাদের এই লড়াকু মানসিকতা এবারের বিশ্বকাপকে আরও রোমাঞ্চকর করে তুলেছে।