বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে ফুটবল যেন আর শুধু খেলা ছিল না, ছিল আবেগ, আশা, হতাশা আর প্রযুক্তির নির্মম বাস্তবতার এক নাটকীয় মঞ্চ। শেষ বাঁশি বাজার কয়েক মুহূর্ত আগে এক নাটকীয় মুহূর্তের পরে ইরানের ফুটবলাররা ভেবেছিলেন, ইতিহাস গড়ে তাঁরা শেষ বত্রিশে জায়গা নিশ্চিত করে ফেলেছেন। কিন্তু ভিএআরের এক সূক্ষ্ম অফসাইড সিদ্ধান্ত মুহূর্তের মধ্যেই বদলে দিল সব হিসাব। উৎসবের প্রস্তুতি বদলে গেল হতাশার নীরবতায়, আর সেই সুযোগে গ্রুপের রানার্সআপ হিসেবে নকআউটের টিকিট নিশ্চিত করল মিসর।

ম্যাচের শেষ দিকে ইরান যে গোলটি করেছিল, সেটিই তাদের বিশ্বকাপ যাত্রার মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারত। গ্যালারিতে তখন উল্লাস, বেঞ্চ থেকে মাঠে ছুটে আসছেন সতীর্থরা, সমর্থকদের মুখে বিজয়ের হাসি। কিন্তু রেফারি ভিএআরের সাহায্য নিতেই বদলে যায় দৃশ্যপট। দীর্ঘক্ষণ ভিডিও পর্যালোচনার পর জানানো হয়, আক্রমণের শুরুতেই সামান্য অফসাইড ছিল। ফলে গোল বাতিল। এক মুহূর্তেই আনন্দ পরিণত হয় বিষাদে।
সেই সিদ্ধান্তের পর ইরানি ফুটবলারদের মুখে স্পষ্ট হতাশা ফুটে ওঠে। অনেকেই বিশ্বাসই করতে পারছিলেন না যে নকআউটের এত কাছে এসেও তাঁদের অপেক্ষা আরও দীর্ঘ হতে চলেছে। এখন শেষ বত্রিশে ওঠার আশা বাঁচিয়ে রাখতে হলে অন্য গ্রুপের বাকি ম্যাচগুলোর ফলাফলের দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে ইরানকে। সেরা তৃতীয় স্থানাধিকারী দলগুলোর তালিকায় জায়গা পাওয়াই এখন তাদের একমাত্র ভরসা।
অন্যদিকে, ভাগ্য যেন হেসেছে মিসরের দিকে। ইরানের বাতিল হওয়া সেই গোলই কার্যত তাদের জন্য আশীর্বাদ হয়ে আসে। অতিরিক্ত কোনও নাটক ছাড়াই গ্রুপের দ্বিতীয় স্থানে থেকে নকআউট নিশ্চিত করে আফ্রিকার প্রতিনিধিরা। পুরো ম্যাচে রক্ষণভাগের শৃঙ্খলা এবং সুযোগ কাজে লাগানোর দক্ষতাই শেষ পর্যন্ত তাদের সাফল্যের ভিত্তি গড়ে দেয়।
একই গ্রুপের অন্য ম্যাচে অবশ্য কোনো নাটক হয়নি। বেলজিয়াম নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করে নিউজিল্যান্ডকে ৫-১ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে। দ্বিতীয়ার্ধে দুরন্ত ফুটবল উপহার দিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে শেষ বত্রিশে জায়গা নিশ্চিত করেছে ইউরোপের দলটি। বদলি নেমে রোমেলু লুকাকুর এক গোল ও এক অ্যাসিস্ট বেলজিয়ামের বড় জয়কে আরও উজ্জ্বল করে তোলে।
{{/usCountry}}একই গ্রুপের অন্য ম্যাচে অবশ্য কোনো নাটক হয়নি। বেলজিয়াম নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করে নিউজিল্যান্ডকে ৫-১ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে। দ্বিতীয়ার্ধে দুরন্ত ফুটবল উপহার দিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে শেষ বত্রিশে জায়গা নিশ্চিত করেছে ইউরোপের দলটি। বদলি নেমে রোমেলু লুকাকুর এক গোল ও এক অ্যাসিস্ট বেলজিয়ামের বড় জয়কে আরও উজ্জ্বল করে তোলে।
{{/usCountry}}তবে দিনের শেষে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু একটাই—ইরান। ফুটবলে কয়েক সেন্টিমিটারের ব্যবধান কত বড় পার্থক্য গড়ে দিতে পারে, তার জীবন্ত উদাহরণ হয়ে থাকল এই ম্যাচ। একদিকে ভিএআরের নির্ভুল প্রযুক্তি, অন্যদিকে ভেঙে যাওয়া লক্ষ লক্ষ সমর্থকের স্বপ্ন। এখন ইরানের সামনে শুধু অপেক্ষা—অন্য ম্যাচের ফল কী তাদের ভাগ্য বদলাবে, নাকি বিশ্বকাপের মঞ্চে এই নাটকীয় মুহূর্তই হবে তাদের শেষ স্মৃতি।